খাদ্যসুস্বাস্থ্য

কাঁঠালের অসাধারণ কিছু উপকারিতা

কাঁঠালের অসাধারণ কিছু উপকারিতা: কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল আমরা সবাই জানি। তবে কাঁঠাল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল।কাঁঠাল সাধারণত গ্রীষ্মকালে পাকে এটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।

কাঁঠালের অসাধারণ কিছু উপকারিতা
 কাঁঠালের অসাধারণ কিছু উপকারিতা

কাঁঠালের উপকারিতা

কাঁঠালের 4-5 টি কোয়ায় রয়েছে প্রায় 100 কিলো ক্যালরি। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। তাই সহজেই কাঁঠাল আমাদের শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি পূরণ করতে পারে।

 

কাঁঠাল রাতকানা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়ক। যাদের রাতকানা রোগের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য কাঁঠাল খুবই উপকারী। এছাড়াও কাঁঠাল অপুষ্টি জনিত সমস্যা দূর করে‌।

 

যাদের শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রয়েছে এবং ত্বক খসখসে হয়ে গেছে তারা কাঁঠাল খেতে পারেন। কারণ এতে ত্বকের লাবণ্য ফিরে আসবে এবং খসখসে ভাব সহজেই দূর হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন….

 

এছাড়াও কাঁঠালের রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ যা শরীরের জন্য খুবই দরকারি। কাঁঠালের বিচি তে রয়েছে আমিষ এবং শর্করা।

 

কাঁচা কাঁঠাল রান্না করেও খাওয়া যায়। শুধু পাকা কাঁঠাল নয় কাঁচা কাঁঠালেও অনেক পুষ্টি গুণ রয়েছে। কাঁঠাল আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রকার ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে।

 

তাই আমাদের কাঁঠাল খাওয়া উচিত এবং বেশি করে কাঁঠাল গাছ লাগানো উচিত। এতে ভিটামিন এবং খাদ্য ঘাটতি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ হবে।

 

কাঁঠাল আমাদের শরীরের নানা রকমের রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। সর্দি-কাশি জ্বর সহ অনেক ধরনের রোগ সহজে প্রতিরোধ করে।

 

কারণ কাঁঠাল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাছাড়াও কাঁঠাল শরীরের রক্ত স্বল্পতার সমস্যা দূর করে।

 

আমাদের শরীরের তরুণ্য ধরে রাখতে এবং বাধ্যক্য প্রতিরোধ করতে কাঁঠালের ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়াও কাঁঠাল আলসার ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

 

কাঁঠালে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে শিশু কিশোরদের হাড় মজবুত হতে সহায়তা করে। কাঁঠাল আমাদের দৃষ্টি শক্তি যেন ভালো রাখে তেমনি আমাদের ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

 

এছাড়াও কাঁঠাল টেনশন দূর করে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে সহায়তা করে। কাঁঠালের প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও চিনি রয়েছে যাদের শরীর খুব চিকন তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

 

কাঁঠালের রয়েছে জীবাণুনাশক উপাদান যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক সহায়তা করে। কাঁঠাল একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এটি নাকি এইডস প্রতিরোধে সহায়ক।

আরো পড়ুন….

 

কাঁঠাল এর ক্ষতিকর দিক

সবকিছুরই প্রায় ভালো-মন্দ দুটো দিক থাকে। কাঁঠাল অনেক উপকারী তবে এটা অতিরিক্ত খেলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।বিশেষ করে যাদের শরীর মোটা এবং স্থলে তাদের জন্য কাঁঠাল ক্ষতিকর।

 

তাই বলে যে তারা কাঁঠাল খেতে পারবে না এমনটা নয় খেলেও খুব অল্প মাত্রায়। যাদের মোটা শরীর তাজা কাঁঠাল খেলে মেদ ও অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

তাই অবশ্যই কাঁঠাল খাওয়ার সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে কাঁঠাল খাওয়ার পরিমাণটা বেশি না হয়ে যায়। অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে বিভিন্ন প্রকার রোগ বেদে বাসা বাঁধতে পারে শরীরের।

এছাড়াও একসাথে বেশি কাঁঠাল খেলে বদহজম সহ বিভিন্ন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

 

কাঁঠাল গাছ লাগানো

কাঁঠাল খেতে হলে অবশ্যই কাঁঠাল গাছ লাগাতে হবে। কিন্তু আমরা উল্টো কাঁঠাল কেটে ফেলি। এটা একদমই উচিত না এক কাঠার একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু ফল।

 

তাছাড়া আমাদের দেশের ঐতিহ্য একটা কারণ এটা বাংলাদেশের জাতীয় ফল। তাই কাঁঠাল গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে।

 

এটা যেমন আমাদের শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে। সাথে সাথে আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করবে।

 

কাঁঠাল গাছের শুধু ফলই দেয়না বরং কাঁঠাল গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের  জলবায়ুর ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

 

কারণ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো উচিত। এছাড়াও কাঁঠাল গাছের কাঠ আমাদের বাড়ির বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

 

তাই আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে বেশি করে কাঁঠাল গাছ লাগানোর। কাঁঠাল গাছ সাধারণত দোআঁশ বেলে দোআঁশ এবং এটেল মাটিতে ভালো জন্মায়।

 

কাঁঠাল গাছ লাগালে এমন কোন পরিচর্যা করতে হয় না। এমন স্থানে লাগাতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে এবং উপরে ছায়া না পড়ে।

এছাড়া কাঁঠালগাছ এর ফলন এমনিতেই যথেষ্ট ভালো আলাদাভাবে  পরিচর্যা ছাড়াই ভাল ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

 

কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাহিদা

আমাদের দেশে কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর চাহিদা। আমাদের দেশে অল্প কিছু অঞ্চল রয়েছে এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষ করে এবং বাজারজাত করে।

 

শুধু দেশেই নয় আমাদের দেশের বাহিরের রয়েছে কাঁঠালের প্রচুর চাহিদা। মা আমরা অতি সহজেই রপ্তানি করতে পারি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।

 

এটি পুষ্টিমান এবং সুস্বাদু হাওয়ায় সকলের কাছে খুবই প্রিয়। কাঁঠালের এতক্ষণে গুণ থাকার কারণে কাঁঠালের প্রচুর বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে।

 

তাই কাঁঠাল চাষ করে সহজেই বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। তাছাড়াও কাঁঠালের পাতা সহ কাঁঠাল গাছের রস বিভিন্ন কবিরাজি কাজে ব্যবহার করা হয়।

 

কাঁঠালে অনেক জাত রয়েছে তবে মজার ব্যাপার হলো প্রায় সকল জাতির কাঁঠালি সুস্বাদু এবং অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ। তাই পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য আমরা অনায়াসে কাঁঠাল খেতে পারি। শুধু কাঁঠাল নয় কাঁঠালের বিচি রান্না করে খাওয়া যায় এবং এটা অনেক পুষ্টিমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *