ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

কিভাবে আমরা সুস্থ থাকতে পারি

জীবনের সবাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চায় এবং সারা জীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশা করে। কিন্তু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার সেটা অনেকেই করে না।

ফলে জীবনে সবার সুস্থ থাকা সম্ভব হয়ে ওঠেনা বেশির ভাগ মানুষই নানা রকম অসুস্থতা এবং ছোট-বড় নানান রকম রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

কিভাবে আমরা সুস্থ থাকতে পারি


তবে সুস্থ থাকার তেমন কোন কঠিন কাজ নয়, অবশ্য এর জন্য প্রয়োজন নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সুস্থ থাকার ইচ্ছে থাকা।

আমাদের দেশের অলস বাঙালিরা সবাই নিজের সুস্থতা তো আশা করে কিন্তু নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্য সম্পর্কে মোটেও তারা সচেতন নয়।


অলসতা এবং অসতর্কতাবশত নিজেদের শরীর স্বাস্থ্য খারাপ করে ফেলে তবু সুস্থ থাকার আশা করে।এজন্য শুরুতেই বলে রাখি সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

এক্ষেত্রে আবার অনেকেই মত পোষণ করবে যে, আমাদের দেশে এরকম অনেক মানুষই রয়েছে যারা তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি মোটেও যত্নশীল নয় এবং সচেতন নয় তবুও তারা সুস্থ রয়েছে কিভাবে?

আরো পড়ুন….

তবে এর উত্তরে আমি বলব যে, তারা কতদিন সুস্থ থাকে সেটা আপনি লক্ষ্য করুন। কারণ আমাদের শরীরে যে কোন ধরনের রোগ এবং অসুস্থতাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। আর বিভিন্ন সংক্রমণ এর আক্রমণ প্রতিরোধ করতে করতে সময় স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যায়।


তখন ছোটখাটো কোন রোগ বা অসুস্থতা পর্যন্ত আর প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের দেহে থাকে না।বিশেষ করে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে আমাদের শরীর অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় এবং বেশ দুর্বল হয়ে পরে।

এজন্য সর্বদা স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে যাতে সারা জীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়।


সুস্থ থাকা টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আপনি তখনই বুঝতে পারবেন যখন আপনি একবার হসপিটাল থেকে ঘুরে আসবেন। অনেক ধরনের অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখবেন যারা হসপিটালের বিছানায় শুয়ে কষ্ট ভোগ করছে।

সুস্থ না থাকা যে কতটা কষ্টকর সেটা একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালোভাবে অনুভব করতে পারে এবং বুঝতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সুস্থ থাকা বলতেই শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা কেই বোঝায় না। সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই মানসিক ও ভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

কারণ আমাদের দেহের ভিতর আমাদের মন বাস করে আমাদের মন সুস্থ না থাকলে আমাদের দেহ সুস্থ থাকবে না।


আর মানসিক অসুস্থতা এবং অশান্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক বিশেষ করে স্বাস্থ্যের জন্য। সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে বেশি কষ্ট করতে হবে না। শুধু কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং স্বাস্থ্যের প্রতি আপনাকে যত্নবান হতে হবে তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুলো করে তোলা কোন কঠিন কাজ নয়, আপনি নিয়মিত অভ্যাস গুলো অনুসরন করলে ধীরে ধীরে এটি আপনার কাছে তেমন কিছুই আর মনে হবে না।

প্রথমত আপনাকে স্বাস্থবান থাকতে হলে অবশ্যই আপনাকে পরিষ্কার পরিছন্নতার প্রতি সচেতন হতে হবে। কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকলে সহজেই বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এবং রোগ জীবাণুর শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


খাবার খাবার আগে এবং পরে হাত পরিষ্কার করে নেয়া, হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। যদিও এই বিষয় গুলো সবাই কমবেশি জানি তবুও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিলাম।

সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুমানোর সময় কখনও স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে না।


রাতে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক যা ভবিষ্যতে খুব বিপদজনক হতে পারে। বাজার থেকে শাকসবজি এবং ফলমূল কিনে আনার পর পানিতে ভিজিয়ে রাখা এবং ভাল করে ধৌত করা।

কারণ বাজারের শাকসবজিতে এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু থাকতে পারে।


শাকসবজি কাটার সময় প্রায় সকলেই যে ভুলটি করে সেটা হচ্ছেঃ শাক সবজি কাটার পরে ধৌত করে এটা একদম ঠিক নয়।

কারণ এতে শাকসবজি পুষ্টি উপাদান পানির এর সাথে ধুয়ে চলে যায়। আপনি এটা কখনই চাইবেন না যে আপনি সুস্বাস্থ্যবান থাকতে শাকসবজি খাচ্ছেন অথচ শাকসবজির সেই পুষ্টি উপাদান পানির সাথে ধুয়ে নষ্ট হয়ে যাক।

এজন্য অবশ্যই এরপর থেকে শাক সবজি কাটার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।



সুস্থ এবং রোগ মুক্ত থাকার জন্য যথাসম্ভব বাহিরের খাবার পরিহার করতে হবে। বাহিরের খাবার গুলো আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। বাহিরে অনেক রকম খাবার আছে যা খেলে ধীরে ধীরে আমরা কঠিন কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বো।

বাহিরের বেশির ভাগ ফাস্টফুড খাবার অতিরিক্ত মেদ চর্বির সৃষ্টি করে এবং আমাদের শরীরে নানা রকম অসুস্থতা সৃষ্টি করে। তাই এখন থেকেই বাহিনীর সকল প্রকার আজেবাজে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

আসলে খাবার তো খেলেই হবে না অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে যা আমাদের শরীর সুস্থ এবং রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু সুষম খাবার অবশ্যই রাখুন।

বিশেষ করে শাকসবজি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ শাক সবজিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিকর উপাদান যা আমাদের শরীর সুস্থ থাকতে এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও আপনি বিভিন্ন প্রকার ফল খেতে পারেন।


যেমন:

  • কলা
  • পেয়ারা
  • আপেল
  • আমলকি


এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল প্রচুর পরিমাণে খাবেন কারণ, ভিটামিন সি আমাদের দেহকে সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

আপনার খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম জাতীয় কিছু খাদ্য রাখুন উদাহরণস্বরূপ দুধ। কারণ ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের উন্নতি ঘটায় এবং হাড়ের বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন

অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন, হ্যাঁ অবশ্যই লবন চর্বি বৃদ্ধি করে এবং এছাড়াও আরও নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই সব থেকে ভালো হয় ভাতের সাথে লবন না খাওয়া।

এছাড়াও অতিরিক্ত চিনি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, পাশাপাশি মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমাণে কম খাওয়া উচিত।


নিয়মিত খাবার খাবেন মানে প্রতি বেলা খাবার খাওয়ায় কখনো দেরি করবেন না, সময়মত খাবার অবশ্যই খাবেন। সকালে, দুপুরে এবং রাতে কখনোই দেড়ি করে খাবার খাবেন না এতে নানা প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে চা-কফি পান করার অভ্যাস থাকলে সেটা অবশ্যই ত্যাগ করুন। আর সবচেয়ে ভালো হয় এর বদলে যদি আপনি কিছুটা পরিমাণে গ্রিন টি পান করেন।

ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম

অনেকেই এই বিষয়ে একদমই অলস যে তারা শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করতে চায় না। আসলে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই শারীরিক ভাবে পরিশ্রম করতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

অন্যথায় সুস্থ থাকা এক প্রকার করা সম্ভব বলা যায়। তাই শারীরিক ভাবে পরিশ্রম করুন এবং দিনে অন্তত 30 মিনিট শরীর চর্চা করুন।

আপনার জীবন কতটা বদলে যায় এবং আপনি কতটা সুস্থ এবং রোগ মুক্ত থাকতে পারেন সেটা আপনি কিছু সময় ব্যায়াম করার পরেই বুঝতে পারবেন।


অবশ্যই চেষ্টা করবেন শরীরচর্চা করার পাশাপাশি শারীরিক ভাবে কিছুটা পরিশ্রম করার। এতে আপনার শরীর অনেকটাই ভালো থাকবে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন যে ব্যায়াম করতে হলেই জিমে যেতে হয় কিন্তু এটা সঠিক নয়। বাসায় বসে ব্যায়াম করে সুস্থ থাকা যায় এবং ইচ্ছে করলে বডি বিল্ডিং ও করা যায়।


তাই ব্যায়াম করার ইচ্ছা থাকলে জিমে যাওয়ার কোন দরকার নেই বাসায় বসেই আপনি অনেক রকমের ব্যায়াম করতে পারেন।

সুস্থ থাকার জন্য তেমন কঠিন কোন ব্যায়ামের দরকার নেই। তবে আপনি যদি বডি বিল্ডার হতে চান তাহলে কঠিন ব্যায়াম করতে পারেন। তবে ঘরে বসেও করতে পারেন আবার চাইলে জিমেও যেতে পারেন।


এছাড়াও হাঁটাহাঁটি করা, দৌড়োদৌড়ি করা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা এবং বিভিন্ন ধরনের বাসার টুকটাক কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো কারণ এতে আপনার শারীরিক পরিশ্রম হয়।

আরো পড়ুন….

যোগ ব্যায়াম কিভাবে সুস্থ রাখে

এই প্রশ্নটা আমি অনেকের কাছ থেকে পেয়েছি যে যোগ ব্যায়াম কিভাবে সুস্থ রাখে। তবে সত্যি বলতে সুস্থ থাকার জন্য যোগ ব্যায়াম এর চেয়ে ভাল কোন পদ্ধতি পৃথিবীতে হতেই পারে না।

এজন্য আপনি চাইলে কোন রকম পরিশ্রম করা ছাড়াই খুব সহজেই যোগব্যায়াম করেই অনেক অনেক বেশী সুস্থ থাকতে পারেন।


যোগ ব্যায়াম করার সবচেয়ে বেশি সুবিধা হচ্ছে যোগব্যায়াম করার জন্য কোনরকম ব্যায়ামের সরঞ্জাম এর প্রয়োজন হয় না। এবং পরিশ্রম তেমন একটা নেই বললেই চলে।

তাছাড়াও খুব অল্প জায়গার ভিতরে যোগ ব্যায়াম করা যায়। যোগ ব্যায়াম করার জন্য একজন মানুষ সোজা হয়ে শুতে পারে এরকম অল্প জায়গায়ই যথেষ্ট।


সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে যোগব্যায়ামে রয়েছে অগণিত রোগের উপকারিতা এবং সুস্থ থাকার অন্যতম ভাল মাধ্যম।

এজন্য আপনি সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতিদিন যোগব্যায়ামের কয়েকটি আসন অনুশীলন করতে পারেন। এতে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ কামনা করতে পারবেন।

আরো পড়ুন…

সুস্থতার জন্য হাঁটা

একটি পরিচিত প্রশ্ন হচ্ছে কতক্ষণ হাঁটলে সুস্থ থাকতে পারবো? তবে সুস্থ থাকার জন্য মোটামুটি আধাঘণ্টা থেকে এক ঘন্টা হাটলেই যথেষ্ট। তবে শুধু অল্প কিছুক্ষণ হাঁটলেই যে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা যায় এই কথাটি সঠিক নয়।


সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার জন্য আপনি যোগ ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন । এবং পাশাপাশি আপনাকে সুস্থ থাকার সকল নিয়ম গুলো সঠিকভাবে মানতে হবে।

তবে সুস্থ থাকার জন্য হাঁটাহাঁটি করার চেয়ে একটু দৌড়াদৌড়ি করা বেশি ভালো কারণ এতে শরীরের ভালো ব্যায়াম হয়।


আপনি চাইলে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন আবার জিমে না গিয়েই বাড়িতে বসে অনেক ধরনের ব্যায়াম করা যায় সেগুলো অনুশীলন করতে পারেন।

বাড়িতে বসেই শরীরচর্চা করে আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারেন। আর সুস্থ থাকার জন্য হাঁটাহাঁটি করা ভালো তবে বেশি সময় ধরে হাঁটতে হবে।

সুস্থতার জন্য পানি পান করা

পানি আমাদের দেহের জন্য যতটা প্রয়োজনীয় ঠিক ততটাই উপকারী। তাই সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরী।

পরিমিত পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের ত্বক ও চুল ভালো থাকে এবং সুস্থ থাকে। এছাড়া পানি পান করলে মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হয় এবং অতিরিক্ত ওজন সহজেই কমে যায়।

সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করবেন। এছাড়াও পরিমিত পরিমাণে পানি পান করলে আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে।

আরো পড়ুন….

সুস্থতার জন্য ঘুম

সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম এবং বিভিন্ন কাজের সমাপ্তি ঘটে রাতে ঘুমানোর মাধ্যমে। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমালে সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজ করার জন্য নতুন ভাবে শরীরে শক্তি যোগায় হয়।


সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতা কামনা করলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। তবে অবশ্যই রাতে খুব তারাতারি ঘুমাতে যেতে হবে এবং সকালেও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।

তবে রাতে দেরি করে ঘুমিয়ে সকালে দেরি করে উঠলে কোনো উপকার  নেই বরং এটা খুবই ক্ষতিকর।সুস্থ থাকার জন্য কমপক্ষে 7 থেকে 8 ঘন্টা ঘুমালেই যথেষ্ট তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটু বেশি কম হতে পারে।

আরো পড়ুন….

সুস্থতার জন্য রূপচর্চা

হ্যাঁ সুস্থ থাকার জন্য কিছুটা রূপচর্চা করার দরকার আছে। আমাদের চেহারা এবং মুখের ত্বকের যত্ন নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা অবশ্যই বলে রাখি মুখের ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ কখনোই ব্যবহার করবেন না।


এতে রূপচর্চার করতে গিয়ে উল্টো স্বাস্থ্যের অনেক রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় প্রাকৃতিক বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করলে। এছাড়াও রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখমন্ডল ধৌত করে ঘুমাবেন।

কারণ আপনার ত্বকে কোন প্রকার ক্রিম বা অন্য কোন পদার্থ থাকলে সেটা সারারাত ধরে বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ত্বকে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে এবং ব্রণ ওঠার সম্ভাবনা থাকে। তাই সুস্থ থাকার জন্য  ত্বক, চুল এবং অন্যান্য অঙ্গের অবশ্যই যত্ন নিবেন কারণ সুস্থ থাকার জন্য রূপচর্চা জরুরি।

সুস্থ থাকার জন্য মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব

শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরী। তাই সুস্থ থাকতে হলে মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাটাও একটা বিষয়।

মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে সর্বদা হাসি খুশি এবং ফ্রেশ মনের থাকার চেষ্টা করবেন। আর সবচেয়ে ক্ষতিকর একটি বিষয় হচ্ছে অতিরিক্ত রাগ। হ্যাঁ, এরকম অনেকেই আছে যারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং অতিরিক্ত রাগের বশে অনেক ধরনের ভুল করে থাকে।


আর সেই ভুলের জন্য ভবিষ্যতে অনেক রকমের সমস্যায় ভুগতে হয়। তাই রাগের সময় অবশ্যই নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করবেন।

বিশেষ করে অতিরিক্ত রাগ স্বাস্থ্যের প্রতি খুব খারাপ প্রভাব ফেলে।


এছাড়াও সর্বদা ক্ষমাশীল হন, কারো উপরে রাগ করে থাকবেন না। কারণ আপনি কারো উপরে রাগ করে থাকলে আপনার মানসিক অশান্তি বাড়বে।

সর্বদা ইতিবাচক চিন্তা করুন, কারণ আমরা সবাই জানি কোন পরিস্থিতি কখনোই দীর্ঘ হয় না। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই মানসিক ভাবে সুস্থ এবং ভাল থাকতে হবে।

মন ভালো রাখার জন্য আপনি বাহিরে কোথাও ভ্রমন করতে পারেন। এবং বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের লোকজনের সাথে সময় কাটাতে পারেন এতে আপনার মন অনেকটাই ভালো থাকবে।

আরো পড়ুন….

সুস্থ থাকতে নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন

হ্যাঁ অবশ্যই যা আপনাকে আনন্দ দেয় যে কাজগুলো আপনার ভালো লাগে আপনার মন ভালো রাখতে এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য অবশ্যই নিজের প্রিয় কাজগুলো মিস করবেন না।

অনেকেরই অনেক রকমের শখ রয়েছে এবং একজন ব্যক্তি একেক রকমের কাজ করতে ভালো লাগে।

এবং সময় কাটাতে একেকজনের একেক রকম ভাবে ভালো লাগে যেমন অনেকে মুভি দেখে, গান শুনে আবার কারো বই পড়তে অনেক ভালো লাগে।


এছাড়া রয়েছে বাগান করা, গিটার বাজানো সহ ব্যক্তি বিশেষ প্রত্যেকের আলাদা আলাদা সখ। এজন্য আপনার যে কাজটি করতে ভালো লাগে এবং আপনার যে সবগুলো রয়েছে অবশ্যই সেই কাজগুলো প্রতিদিন করবেন। ‌ এতে আপনার মনে অনেকটাই শান্তি আসবে এবং মন ভালো থাকার পাশাপাশি শরীরও ভালো থাকবে।

আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন এবং তার বিধি নিষেধ গুলো ভালোভাবে মানবেন এতে আপনার কল্যাণ হবে।

সুস্থ থাকার জন্য শেষ কিছু কথা

সর্বদা নিজেকে ভালবাসবেন এবং নিজেকে কখনোই অকাজের মনে করবেন না। কারণ আপনি এমন একজন ব্যক্তি যে চাইলে পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।


সবার ভিতরেই বিশেষ কোনো না কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে অন্য কারো ভিতর নেই। অথবা ওই কাজটি আপনি অন্য সবার থেকে ভালো করেন এমন কিছু দক্ষতা আপনার মধ্যে রয়েছে।

আর নিজেকে ভালোবাসলেই আপনি নিজের প্রতি আপনি যত্নশীল হতে পারবেন। আজকাল তো আমরা অন্যকে এতটা প্রধান্য এবং অন্য কাউকে নিয়ে এতটাই ভাবি যে নিজের কথা বেশিরভাগ সময়েই ভুলে যাই।


নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্য কেউ ভালো রাখার চেষ্টা করুন এতে আপনি নিজেও সুখে থাকবেন এবং আপনার মানুষও।

আর কখনোই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না এতে আপনার মানসিক অশান্তি বেড়ে যাবে। কারণ আপনি আপনার জায়গায় এবং সে তার নিজের জায়গায় এতে তুলনা করার কি আছে।


আর প্রতিটা মানুষেরই কিছু বিশেষ গুনাগুন থাকে যা সবার থেকে ভিন্ন হয়। কিছু না আপনিও আপনার নিজের গুনাগুন গুলো খুঁজতে থাকুন। এবং অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা বন্ধ করুন কারণ মনও হতে পারে যে আপনি সবার সেরা।


সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার করেন, কারণ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুলোতে বেশিরভাগ মানুষের সময় নষ্ট করে।

পাশাপাশি অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ডিপ্রেশন বেড়ে যায়।

সুস্থ থাকার জন্য আপনি মানসিক ভাবে সর্বদা নিজেকে সুস্থ রাখবেন। কারণ আপনার মন ভাল না থাকলে আপনার শরীরও ভালো থাকবে না।


ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।।


এই পোস্ট সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন বা সমস্যা থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।


💙💙ধৈর্য ধারণ করে এতক্ষণ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 💙💙


নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য অনুরোধ রইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *