ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

কিভাবে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকবেন

কিভাবে শারীরিক ফিটনেস থাকবেন: একটা পুরনো কথা আমরা সবাই জানি যে স্বাস্থ্য ই সুখের মূল। একটি সুস্থ শরীরের একটি সুস্থ মন বাস করে শরীর ভালো না থাকলে মন কখনো ভালো থাকেনা।

কিভাবে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকবেন
কিভাবে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকবেন

তাই আমাদের সুস্বাস্থ্যবান থাকা অবশ্যই দরকার। সুস্বাস্থ্যবান বলতে আপনি অনেক মোটা বা একটু চিকন এরকমটা নয়।

আসল কথা আপনার শরীরকে ফিট রাখা। শরীর ফিট রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু স্বাস্থ্য টিপস মানতে হবে। এবং আপনার শারীরিক ভাবে ফিট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে শারীরিক ফিটনেস থাকবেন

বিশেষ করে যাদের শরীর অনেক স্থূল এবং মেদবহুল তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একজন সুস্থ ফিটনেস ব্যক্তির চেয়ে অনেক কম।

আর আমাদের বর্তমান পৃথিবীর জলবায়ু আবহাওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে কোনভাবেই সুস্থ থাকা সম্ভব নয়।

 

এজন্য ফিটনেস থাকে তো অবশ্যই প্রয়োজন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। আপনি সুস্থ না থাকলে এবং ঠিক না থাকলে কোন কিছু ঠিক থাকবে না সবকিছু এলো মেলো মনে হবে।

তবে বর্তমানে আমাদের বাঙ্গালীদের একটাই সমস্যা আমরা স্বাস্থ্য রক্ষা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ধ্বংস করে ফেলি। এটা কিছুটা ঐসব লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত খাবার খায় এবং অলস ভাবে বেশি সময় ধরে ঘুমায়।

 

আসলে সত্যি বলতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুম কখনোই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারেনা। উল্টো শরীর অনেক খারাপ হয়ে যায় কারণ কোন কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। কিভাবে শারীরিক ফিটনেস থাকবেন

 

বেশি খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি জমে যায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এবং অনিয়মিত ঘুমের ক্ষেত্রে শরীর আরো বেশি খারাপ হয়ে যায়।

বর্তমানে আমরা আধুনিক যুগে প্রায় সবাই রাত জেগে ফোন ব্যবহার করি এবং সকালে অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠি যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এতে না চাইলে আমাদের শরীরের মেদ বেড়ে যায়। তাই প্রাকৃতিক ভাবে শরীরকে ফিটনেস রাখার প্রশ্নই আসে না।

 

রাতে দেরি করে ঘুমালে শরীরের অনেক ধরনের রোগ বাসা বাদে। আমি সকালে দেরি করে উঠলেও ঠিক একই রকম ক্ষতি হয়। কারন সকালে যখন সূর্য ওঠে ওই আবহাওয়ায় ঘুমানো একদমই উচিত নয় এতে পেটের লিভারের ক্ষতি হয়।

ফলে আমাদের খাবার খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে যায় খাবার ঠিকমতো হজম হয়না। এছাড়াও আরও অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে।

 

তাই শরীরকে ফিট রাখার জন্য প্রথমত রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো এখন একদম সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে অতিরিক্ত খাবার অবশ্যই শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

তাই বলে একেবারে কম খাওয়া যাবেনা। তবে বিশেষ করে বাহিরের খাবার ফাস্টফুড সহ সব ধরনের খাবার ত্যাগ করতে হবে।

 

আর ধূমপান, ড্রিঙ্ক, অ্যালকোহল সহ সকল ক্ষতিকর বস্তু এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এটা ভবিষ্যতে ভয়াবহ ডেকে আনবে এটা আপনিও জানেন।

তবে শারীরিক ভাবে ফিট থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যায়াম। ফিটনেস থাকতে হলে শারীরিক ভাবে পরিশ্রম করা এবং ব্যায়াম করা অবশ্যই দরকার।

 

যদি আমাদের শরীরের অলসতা বাসা বেধে গেছে তাই ব্যায়ামের কথা শুনে ভয় পাবেন না। যদি আপনার ইচ্ছা থাকে তাহলে খুব সাধারণ কিছু ব্যায়াম করেই শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকা সম্ভব।

যেমন আপনি যদি সকাল বিকাল অন্তত 2 ঘন্টা একটু হাঁটাহাঁটি করেন। একসাথে সম্ভব না হলে সকালে এক ঘন্টা এবং বিকালে এক ঘন্টা করে রোজ অবশ্যই হাঁটাহাঁটি করুন।

 

এছাড়াও আপনি চাইলেই সাইকেলিং করতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত 20 থেকে 30 মিনিট সাইকেল চালানো ভালো এতে আপনি সহজেই শারীরিক ভাবে ফিট হতে পারবেন।

আরো একটি সহজ ব্যায়াম হলো জগিং করা এটা সকালে কোন সবচেয়ে উত্তম কারণ এতে আপনার অবশ্য তা দূর করে এবং সারাদিন ভেতর থেকে অনেক ফ্রেশ লাগে।

 

এতে আপনি সারাদিন কাজ করার মত মানসিকতা পাবেন অলসতা এবং এক ঘেয়েমি দূর হয়ে যাবে। এছাড়া আপনি চাইলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতে পারেন যেমন বাস্কেটবল, ফুটবল, ক্রিকেট এতে আপনার শারীরিক ভাবে অনেকটাই ব্যায়াম হবে এবং মানসিকভাবে ও অনেকটা ভালো লাগবে।

 

আপনি চাইলে আপনার পছন্দের খেলাটি খেলতে পারেন তবে অবশ্যই খেয়াল রাখুন যাতে আপনার শরীর অনেকটা পরিশ্রম হয়।

আর পরিশ্রম করা নিয়ে একদমই ভয় পাবেন না কারণ আপনি একঘন্টা দুঘন্টা পরিশ্রম করার ফলে আপনার বাকি 22 ঘণ্টা খুব ভালো কাটবে।

তাই একবার চেষ্টা করেই দেখুন শুরুতে হয়তো একটু কষ্ট হতে পারে ক্লান্ত লাগতে পারে। তবে কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে এবং আপনার কাছে এটা বেশ আনন্দ দায়ক হয়ে উঠবে।

 

আর বিশেষ করে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার। যদিও বর্তমানে আমাদের চারপাশে ভেজাল খাবারের ভরে গেছে তবু অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার।

এর পাশাপাশি আপনি রোজ কিছু প্রাকৃতিক ফল খেতে পারেন একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন 250 থেকে 300 গ্রাম ফল খাওয়া উচিত।

 

এর ভিতর নানান ধরনের ফল হতে পারে বিশেষ করে লক্ষ্য রাখবেন ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়ার যেমন লেবু। এছাড়াও ক্যালরি যুক্ত ফল সহ মৌসুম প্রিয় ফল খেতে পারেন। যে সময় যে ধরনের ফল থাকে।

 

তবে অতিরিক্ত ফল খাবেন না এতে আপনার শরীর অনেকটা স্থূল হয়ে যেতে পারে। হলে আপনি শারীরিক ভাবে ফিটনেস হতে গিয়ে উল্টো মোটা হয়ে যাবেন।

আর পরিমিত ঘুম তো অবশ্যই প্রয়োজন প্রাপ্ত বয়স্ক একজন সুস্থ ব্যক্তির প্রতিদিন 6 থেকে 7 ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। শিশু এবং বৃদ্ধদের আরো বেশি ঘুমানো দরকার।

 

সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো ঘুমানোর কোনো বিকল্প নেই। আজ আপনি সুস্থ আছেন আজ সুস্থ থাকা মর্ম টা বুঝবেন না হঠাৎ যখন আপনি অসুস্থ হবেন তখন ঠিক বুঝতে পারবেন সুস্থ থাকা টা কতটা প্রয়োজন।

 

তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার। আমরা সঠিক ভাবে ফিটনেস না থাকলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকবে এবং সহজেই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে পরব।

আসলে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকা তেমন কোনো কঠিন বিষয় নয়। একটু চেষ্টা আর ধৈর্য থাকলে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকা সম্ভব।

 

তবে আপনি অল্প কিছুদিন চেষ্টা করে থেমে যাবেন না। একটু ধৈর্য ধরে চেষ্টা করুন অবশ্যই সফল হবেন। তবে কত তাড়াতাড়ি সফল হবেন সেটা আপনার চেষ্টা উপরে নির্ভর করে।

 

তবে মনে রাখবেন একটা সিগারেট খেলেই যদি সাথে সাথে কারো ক্যান্সার হয়ে যেত এবং একটা বার্গার বা কোন প্রকার ফাস্টফুড খেলেই যদি পরের দিন কেউ খুব মোটা হয়ে যেত। তাহলে এসব কেউ খেত না।

এর মানে আমি এটা বোঝাতে চেয়েছি যে কোন কিছুর সাথে সাথে হয়না। এর জন্য পরিশ্রম এবং ধৈর্য্য থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।

 

চেষ্টা করে এগিয়ে যান অবশ্যই নিজের লক্ষ্যে পৌছুতে পারবেন। সহজ ভাবে বললে আপনি নিজের শরীরের যত্ন নেবেন সময় মতো খাওয়া এবং সঠিক সময়ে ঘুম হাঁটাহাঁটি করা শারীরিক পরিশ্রম করা, ব্যায়াম করা, নিজের পছন্দ মত খেলাধুলা করা।

পুষ্টিকর খাবার খাবেন প্রাকৃতিক ভেজাল মুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর চেষ্টা করবেন একদম সকালের মুক্ত আবহাওয়া শ্বাস নিতে।

 

এতে আপনি প্রকৃতিকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। যদিও আমরা প্রায় সকল সকলেই সকলের আরামদায়ক ঘুম থেকে উঠতে চাই না। কিন্তু এটা একদমই উচিত নয় একটু আরাম করতে গিয়ে আপনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

 

এই পোস্ট সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। 

।‌।এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.