সংবাদ

খাঁটি মধু চেনার সহজ উপায়

মধুর গুনাগুন আমরা সবাই জানি। পূর্বে কোন শিশু জন্মগ্রহণ করলে বড়রা তাদের মুখে মধু তুলে দিতেন। মধুর অনেক গুণ রয়েছে যা অতুলনীয়। পূর্বে খাঁটি মধু সব সময় পাওয়া যেতো কিন্তু বর্তমানে একদম খাঁটি মধু পাওয়া সম্ভব হয়না কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাটি মধুর সাথে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করেন। এজন্য খাঁটি মধু ও ভেজাল মধু পার্থক্য বোঝা খুবই কষ্টকর। তাই আজকে আমি খাঁটি মধু চেনার উপায় সম্পর্কে আমার প্রিয় ভিজিটর বন্ধুদের কে জানাব চলো তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে খাঁটি মধু চেনার যায়।

১ প্রথমত আপনারা মধু নিয়ে কিছু মধু একটি বাটি কিংবা পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে অথবা বেশি ঠান্ডা স্থানে রেখে দিবেন। যদি সেই মধু গুলো খাঁটি হয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও জমাট বাঁধে না আর যদি ভেজাল মধু হয়ে থাকে তাহলে সেই মধু জমে যাবে।

২ খাঁটি মধু চিনতে আপনারা কোন কাগজে কয়েক ফোঁটা মধু ঢেলে যেখানে পিঁপড়ে থাকে বাস চলাচল করে সেখানে রেখে দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে দেখবেন যদি পিঁপড়ে দেশে মধু ধরে তাহলে বুঝবেন মধুতে ভেজাল রয়েছে কারণ খাটি মধুতে কখনো পিঁপড়ে বসে না।

এছাড়া অন্য ভাবে জানা যায় খাঁটি মধু নাকি ভেজাল মধু। আপনারা পানিতে এক চামচ মধু ঢেলে ভালো করে নাড়ানী দিয়ে নাড়ুন যদি মধু পানিতে বুদবুদ আকারে থাকে তাহলে বুঝবেন এটি সাজিয়ে নিও আর যদি মিশে যায় তাহলে সেটি ভেজাল মধু।

মধুতে কাপড় কিংবা অন্যকোন শুকনো পদার্থ ভিজিয়ে আগুনে জ্বালানোর চেষ্টা করুন যদি কাপড় কিংবা শুকনো পাতা তে আগুন ধরে তাহলে বুঝবেন খাঁটি মধু আর যদি না ধরে তাহলে সে মধুতে ভেজাল রয়েছে।

মধুর উপকারিতা

মধুর প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি তাই মধুর অনেক গুণাগুণ রয়েছে। মধু খেলে অনেক রোগের সমাধান হয় এজন্য মধুকে সব রোগের মহাঔষধ বলা হয়। মধুর উপকারিতা পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনে স্বল্প পরিমাণে মধু খেলে বুঝতে পারবেন। মধু খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়, স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায় , দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়, ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, কোষকে ক্ষয় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, রক্তের হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক রাখে, আলসার গ্যাস্ট্রিকের রোধ করে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও ক্যালসিয়াম থাকায় মস্তিষ্কে কলা সুগঠিত ও দৃঢ় করে, এবং চুল ও ত্বক সতেজ রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিসীম।
হজমে সহায়তা:অনেকের এ খাবার ঠিকমতো হজম হয় না খাবার ঠিকমতো হজম করতে মধু অনেক সহায়তা করে কারণ মধুতে ডেক্সট্রিন থাকে যা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে তাৎক্ষণিকভাবে হজমে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:যাদের নিয়মিত পায়খানা হয় না অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য তারা যদি প্রতিদিন এক চামচ করে মধু খায় তাহলে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যাবে মধুতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকায় ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা দূর করে: অনেকে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় তাই রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য মধু খেতে পারেন। মধুতে অধিক পরিমাণে লৌহ কপার ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায় এগুলো রক্ত তৈরি করার উপাদান। এই সমস্ত উপাদানগুলো হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে তাই নিয়মিত মধু খেলে রক্তশূন্যতা দূর হয়ে যাবে।

অনিদ্রায় মধু: রাতে আপনার যদি ঘুম না আসে কিংবা অনিদ্রায় ভোগেন তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানিতে 1 দুই চামচ মধু মিশিয়ে খান তাহলে অনিদ্রা কেটে যাবে।
রূপচর্চা: রূপচর্চায় মধুর গুরুত্ব অপরিসীম। মধু মাক্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মধু ত্বককে মসৃণ ও সতেজ করতে সহায়তা করে। মধু নিয়মিত খেলে গলার স্বর সুন্দর হয়। উচ্চ রক্তচাপ কমায়। তাই আপনারা যদি এসব উপকারিতা গ্রহণ করতে চান তাহলে নিয়মিত মধু খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.