খাদ্য

খেজুরের অসাধারণ কিছু উপকারিতা

খেজুরের অসাধারণ কিছু উপকারিতা: খেজুর খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। খেজুর আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। আমাদের অবশ্যই উচিত নিয়মিত খেজুর খাওয়া। বিশেষ করে রমজান মাসে সারা দিন রোজা রাখার ফলে শরীরের ক্লান্তি সৃষ্টি হয়। ইফতারে খেজুর খেলে সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে নতুন করে শক্তি যোগান দিতে সাহায্য করে।

খেজুরের অসাধারণ কিছু উপকারিতা
 খেজুরের অসাধারণ কিছু উপকারিতা

 

এছাড়া সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। খেজুরে রয়েছে নানা রকম শক্তিশালী পুষ্টিগুণ। মিনারেল, শর্করা, ভিটামিন সহ অগণিত উপাদান।

 

খেজুরের শক্তিশালী উপাদান থাকার কারণে রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পরে ইফতারে খেজুর খাওয়া খুবই উপকারী। খেজুর দেহের গ্লুকোজ এর ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে।

 

আরো পড়ুন….

 

 

কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখে

খেজুর শরীরের ক্ষতিকর এবং দূষিত পদার্থ দূর করে এবং বাড়তি চর্বি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও খেজুরে চর্বি বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এর উপস্থিতি নেই।

প্রোটিন এ ভরপুর

প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। প্রোটিন আমাদের পেশী সুগঠিত এবং মজবুত করতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়।

আয়রন

খেজুরের রয়েছে আয়রন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা মানুষের শরীরের জন্য অপরিহার্য। এজন্য খেজুর হৃদযন্ত্র সচল এবং কার্যকর রাখতে সহায়তা করে। যাদের হৃদরোগ রয়েছে এবং হৃদপিণ্ড দুর্বল তাদের জন্য খেজুর অনেক উপকারী এবং এটা একটি নিরাপদ ঔষধ ও বটে।

খেজুরি রয়েছে নানা রকম ভিটামিন

আমাদের শরীরের জন্য বিভিন্ন রকমের ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে খেজুরে রয়েছে নানা প্রকার ভিটামিন। বিশেষ করে ভিটামিন বি১ ভিটামিন বি২ ভিটামিন বি৩ ও ভিটামিন বি৫ রয়েছে।

 

এছাড়াও পেছনে রয়েছে ভিটামিন সি এর উৎস। তাছাড়াও খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভূমিকা রাখে।

খেজুর এ রয়েছে ক্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের হাড় সুগঠিত এবং ভালো রাখতে সাহায্য করে। খেজুরে উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে শিশুদের হাড় সুগঠিত এবং মাড়ি শক্ত হওয়ার জন্য খুবই সহায়ক।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে

যাদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা আছে তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। খেজুর ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে ফলে যাদের ওজন বেশি তাদের খাদ্য কম খাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

 

আর খাবার কম খেলে অবশ্যই ওজন কমবে। কারণ খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা । এজন্য অল্প কয়েকটা খেজুর আমাদের শরীরের জন্য দরকারি শর্করা এর চাহিদা পূরণ করে।

খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধক

বিশ্বের বড় বড় গবেষকরা রিসার্চ করলে জানতে পেরেছে যে খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। নিয়মিত খেজুর খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশ অনেকটাই কমে আসে। বিশেষ করে খেজুর বেশ কয়েক প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে

নিয়মিত খেজুর খেলে আমাদের শরীরের পরিপাক যন্ত্র ভালো থাকে। ফলে সহজেই কোষ্ঠ-কাঠিন্য এর সমস্যা দূর হয়। তাছাড়াও খেজুর ডায়রিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেক উপকারী।

 

আরো পড়ুন….

 

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন সংক্রামক এর হাত থেকে রক্ষা করে। সাধারণত মানুষের শরীরের ছোটখাটো সমস্যা সর্দি, জ্বর, ঠান্ডা লাগার সমস্যা সহ নানা রকমের সমস্যা সহজেই দূর করে থাকে। তাছাড়াও খেজুর বিষ ক্রিয়ার প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।

রক্তশূন্যতা সমস্যার প্রতিরোধক

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং মিনারেল থাকার কারণে রক্তশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয় না। অন্তত রক্তশূন্যতা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই নিয়মিত খেজুর খাওয়া উচিত। এছাড়াও আমাদের দেহে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা কম থাকলে সেটা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে

খেজুরের শর্করা এবং প্রাকৃতিক চিনির উপাদান থাকার কারণে আমাদের শরীরে শক্তি এবং কর্মক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এজন্য সারাদিন রোজা রাখার পর  ইফতারে অল্প কয়েকটা খেজুর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকরী।

 

স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ভেতরে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকার কারণে আমাদের মস্তিষ্কের অনেক উন্নতি করেন এবং সতেজ ও সচল রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক ভালো রাখার পাশাপাশি স্নায়তন্ত্র এর কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। খেজুর আমাদের মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্র এর জন্য অত্যন্ত উপকারী।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। কারন খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধক। এজন্য যাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে তাদের নিয়মিত খেজুর খাওয়া উচিত। এতে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

খেজুর এলার্জি কমাতে সাহায্য করে

যাদের বেশি অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে খেজুর তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অতিরিক্ত অ্যালার্জির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি খেজুর খেতে পারেন।

পেটের রোগ প্রতিরোধক

আমাদের পেটের বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খেজুর কার্যকরী ভূমিকা রাখে। খেজুর আমাদের দেহের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ফলে আমাদের স্বাস্থ্য এবং পেট সহজেই ভালো থাকে। সুস্থ এবং সবল থাকার জন্য প্রতিদিন বেশ কয়েকটি খেজুর খাওয়া খুবই ভালো।

 

খেজুরের অগণিত উপকারিতা রয়েছে। তবে খেজুর খেয়ে ভালো ফলাফল করতে আপনি রোজ সকালে খালি পেটে খেজুর খেতে পারেন। এটা আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.