খাদ্যসুস্বাস্থ্য

গরুর দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা

দুধ আসলে খুবই একটি পুষ্টিকর পানীয়। গরুর দুধে রয়েছেন প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম যা কিশোর-কিশোরীদের বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও শিশু-বৃদ্ধ সহ সকল বয়সের মানুষের দুধ খাওয়া প্রয়োজন। তবে বয়স অনুযায়ী প্রত্যেকের দুধ খাওয়ার পরিমাণ আলাদা। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অবশ্যই দুধ পান করা প্রয়োজন।

গরুর দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা
গরুর দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা

এবং বৃদ্ধদের ক্ষেত্রেও দুধ পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ বেশির ভাগ বৃদ্ধ বয়সের মানুষের হাড় ক্ষয় হয় সমস্যা থাকে। তবে দুধে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে হাড়ের ক্ষয় সহজেই প্রতিরোধ করতে পারে।

এজন্য বৃদ্ধ বয়সের সকল লোকের উচিত নিয়মিত দুধ পান করা। এছাড়াও কিশোর-কিশোরীদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং খাদ্য ঘাটতি থাকে।


এই সময় দুধ পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এতে খুব দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এছাড়াও দুধ শিশু-কিশোরদের হাড় সুগঠিত করে এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়।

এবং দুধ ত্বকের জন্য উপকারী দুধ ত্বককে লাবণ্যময় এবং ফর্সা করে। তবে এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুধ পান করবেন না। কারণ অতিরিক্ত দুধ পানের ফলে বদহজম সহ নানা প্রকার সমস্যা হতে পারে।


আরো পড়ুন….


দুধ পান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা

দুধ পান করার ক্ষেত্রে আরো কিছু ব্যাপারে আপনাকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ভাত মাংস খাওয়া শেষে ভরা পেটে ভুল করেও দুধ পান করবেন না।


আপনি আপনার দুধ হজম হতে অনেকটা সময় লাগবে। আপনার পাকস্থলীর করে অনেকটা চাপ পড়ে কারণ ভরা পেটে ভাত মাংস হজম এবং দুধ হজম করতে পাকস্থলীর যন্ত্রের উপরে অনেকটা প্রেসার পরে।

এমনিতে ও দুধ হজম হতে অনেকটা সময় লাগে। মাছ এবং মাংস খাওয়ার পরে কখনোই দুধ পান করবে না। এতে আপনার ত্বকে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা হতে পারে বিশেষ করে সাদা দাগ পড়ে অনেক অংশ জুড়ে।


এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম সমস্যা হয় ত্বকের ওপরে লাল ফুসকুড়ি পড়ে। তাছাড়া ভরা পেটে খেলে বেশি সময় লাগে অনেক সময় বদহজম হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে খালি পেটে দুধ পান করা সবচেয়ে নিরাপদ খাবার খাওয়ার কমপক্ষে 2 থেকে 3 ঘন্টা পরে। এবং দুধ পান করার পর এক থেকে দেড় ঘন্টার ভিতরে কিছু খাবেন না।


কারণ আগে বলেছি দুধ হজম হতে অনেকটা সময় লাগে। আমাদের ভিতরে বেশির ভাগ লোকই এই ভুলটা করে থাকে। এবং বেশির ভাগ লোক রাতের খাবার শেষে ভরা পেটে দুধ পান করে।


আপনি ব্যায়াম বা যদি শারীরিক পরিশ্রম করে থাকেন তাহলে দুধ আপনার জন্য খুবই উপকারী। কারণ ব্যায়াম করার ফলে শরীরে যে ঘাটতি পড়ে রোজ এক গ্লাস দুধ পান করার ফলে সহজেই ঘাটতি পূরণ হয়।

এবং শরীরের পেশী গুলো খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সুগঠিত হয়। এক্ষেত্রে যাদের শরীর খুবই স্থূল বা মোটা তাদের কম দুধ পান করা উচিত।


কারণ এমনিতে স্বাস্থ্য মোটা তারপরে আবার দুধ পান করলে আরো মোটা হবার আশঙ্কা থাকে। তবে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে কেমন একটা সমস্যা হয় না। তবুও স্বাস্থ্য একটু মোটা হলে কম দুধ পান করাটাই উত্তম।


এছাড়াও গর্ভবতী নারীদের দুধ পান করা প্রয়োজন তবে সেটা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে। কারন গর্ভবতী অবস্থায় খুব সাবধানে এবং সঠিক নিয়মে চলা উচিত কারণ এই অবস্থায় কোনো ত্রুটি হলে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

তাই অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়াও দুধ শিশু কিশোরদের মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটাতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

দুধ একটি প্রাকৃতিক খাদ্য তবে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে বাজারের ভেজাল দুধ এবং প্যাকেট দুধ পান করা থেকে বিরত থাকা।


কারণ এটা উপকার তো করেই না উল্টো শরীরের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। তাই দুধ পান করার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।


আগেকার বাঙালিদের কাছে আম আর দুধ দিয়ে ভাত খাওয়া খুবই পছন্দের এবং অন্তত জনপ্রিয় ছিল। এছাড়াও অনেকে আবার দুধ কলা দিয়ে খুবই আনন্দিত হয়ে ভাত খেত এবং তাদের কাছে ছিল খুবই পছন্দের এবং এভাবে তারা খুব তৃপ্ত হতো।

কালের ধাপে এখন এটা প্রায় বিলুপ্ত। যদিও এগুলো বেশি দিনের পুরনো কথা নয়। তবে দুধে শুধু ক্যালসিয়াম রয়েছে তা নয় এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, শর্করা, স্নেহ জাতীয় পদার্থ, প্রোটিন ইত্যাদি।


দুধে এত পুষ্টিগুণ থাকার ফলে সহজেই আপনাকে সুস্থ সবল এবং রোগ মুক্ত রাখতে পারে। এজন্যই দুধ কে আদর্শ খাবার ও বলা হয়।

তাছাড়াও যাদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য দুধ খুবই উপকারী। এবং যাদের হাতে সমস্যা নেই তারা নিয়মিত দুধ পান করলে ভবিষ্যতে দাঁত নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।


দুধ পান করার ফলে দাঁতে হলুদ এবং কালো দাগ পড়া ভেঙে যাওয়া অকালে দাঁত পড়ে যাওয়া ও তার নষ্ট হওয়া থেকে সহজেই রক্ষা পায়।

দুধ পান করার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নিয়ম মেনে দুধ পান করলে কোন কারণে আমাদের পেটের পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া হলে সেটা দূর করে এবং পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে।


দুধ পান করলে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালন করে ও পরিষ্কার রাখে এছাড়াও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। দুধ আসলেই খুবই আদর্শ এবং পুষ্টিকর পানীয়।

পোস্ট সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন।


।।পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *