টিপস

গুগল প্লে স্টোর একাউন্ট খোলার নিয়ম, 2022 – গুগল প্লে স্টোর কি? গুগল প্লে স্টোর ডাউনলোড

গুগল প্লে স্টোর একাউন্ট খোলার নিয়ম: সম্মানিত ভিজিটরস বন্ধুরা আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করে থাকেন এজন্য প্লে স্টোর শব্দটির সাথে আমরা সবাই খুবই পরিচিত । এই প্লে স্টোরটি একমাত্র মাধ্যম যেটির মাধ্যমে আপনারা সেফলি কিংবা কোন অ্যাপস ডাউনলোড করতে পারবেন। আমাদের মধ্যে অনেক বন্ধুরাই জানেন না গুগল প্লে স্টোর এর একাউন্ট খোলার নিয়ম কি বা প্লে স্টোর কি, প্লে স্টোর থেকে কিভাবে আয় করা যায়। তাহলে বন্ধুরা চলুন নিবন্ধটি শুরু করা যাক।

গুগল প্লে স্টোর কি?

গুগল প্লে স্টোরটি অনেক আগে থেকে প্ অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট নামে পরিচিত ছিল। গুগল সার্ভিসের 18 তম ফ্রী অ্যাপটি ডেভলপ ছাড়াও অপারেটিং করেছেন আমেরিকান গুগোল ইনকর্পোরেশন কম্পানি। এই আপসটি পরিচিতি লাভ করেছে গুগল প্লে অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে । এই গুগল প্লে স্টোর অ্যাপ টি আপনাদের কে দিচ্ছে সকল ধরনের কার্যকরী অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করার সুবিধা নিশ্চয়তা। এই অ্যাপস গুলোর মাধ্যমে আপনারা মোবাইলে যে কোন ধরনের ভাইরাস অ্যাটাক করবে না।

গুগল প্লে স্টোর অ্যাপস

পুরো বিশ্বজুড়েই গুগল প্লে স্টোরটির ব্যবহার রয়েছে এছাড়াও আরো জানলে আপনারা অবাক হবেন যে এখন পর্যন্ত টেন বিলিয়ান বার মানুষ প্লে স্টোর অ্যাপটির সুবিধা ভোগ করেছেন। গুগল প্লে স্টোর অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনারা গেমস, এডুকেশনাল, সহ অনেক ধরনের ডিজিটাল অ্যাপসের কালেকশন নিতে পারবেন। প্লে স্টোরে আপনারা ফ্রি এবং পেইড দুইজনের অ্যাপস কালেকশনে দেখতে পাবেন।

গুগল প্লে স্টোর ডাউনলোড

বর্তমানে বেশিরভাগ নামী দামী অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কোম্পানিগুলো ইনবিল্ট গুগল প্লে স্টোর দিয়ে তাদের মোবাইলগুলোতে সেট করে দেওয়া হয় । কিন্তু যে সমস্ত মোবাইল গুলোতে প্লে স্টোর ইনবিল্ড না দেওয়া থাকে সেগুলোতে আপনারা খুব সহজে প্লে স্টোর ইন্সটল করে নিতে পারবেন। প্লে স্টোর ডাউনলোড করার জন্য আপনারা আপনাদের মোবাইলের ডিফল্ট ব্রাউজার থেকে সার্চ করতে হবে। সার্চ করার সাথে সাথেই আপনারা অনেকগুলো লিঙ্ক দেখতে পাবেন এখান থেকে কোন একটি লিঙ্ক আপনারা প্লে স্টোর এ ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার জন্য আমরা একটি লিঙ্ক প্রোভাইড করে দিচ্ছি।

গুগল প্লে স্টোর একাউন্ট খোলার নিয়ম

গুগল প্লে স্টোর একাউন্ট খোলার নিয়মটি অনেক সহজ। সর্বপ্রথম আপনাদের কে একটি জিমেইল একাউন্ট খুলতে হবে , জিমেইল অ্যাকাউন্ট না থাকলে আপনারা কখনোই গুগল প্লে স্টোর খুলতে পারবেনা। জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সাথে সাথে আপনারা গুগল প্লে স্টোর অটোমেটিকভাবে একটিভ হয়ে যাবে।

গুগল প্লে স্টোর থেকে আয়

বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে নিজের অ্যাপ পাবলিস্ট করে বেশিরভাগ অ্যাপ ডেভলপার লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। আপনারা যদি প্লে স্টোর এ নিজের অ্যাপ পাবলিস্ট করে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনাদের সম্পূর্ণ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: ফেসবুকে টাকা আয় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাজেট আসছে এবং মানুষ একটার পর আরেক টার দিকে ঝুঁকে পড়ছে । আপনাদের এমন অ্যাপস পাবলিস্ট করতে হবে যার ওপর মানুষ কখনো ইন্টারেস্ট হারায় না । প্রথমে জেনে নেওয়া যাক অ্যাপ পাবলিস্ট করার আগে আপনাদের যে মে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।
অ্যাপ তৈরির উদ্দেশ্য: আপনি অ্যাপটি কেন তৈরি করবেন এর উদ্দেশ্য কি এদিকে আপনাকে সর্বপ্রথম নজর দিতে হবে। যখন আপনারা আপনাদের উদ্দেশ্য কি খুঁজে পেয়ে যাবেন তখন আপনারা গ্রাহক এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপ তৈরি করতে হবে।
টার্গেট অডিয়েন্স: আপনাদের অ্যাপ এর টার্গেট অডিয়েন্স কারা, কোন বয়সের মানুষ এবং কোন দেশে মানুষ এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে সে সম্পর্কে আপনাদের ভালো ধারণা রাখতে হবে।
প্রতিযোগীদের ইনফর্মেশন: অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ মার্কেটপ্লেসে আপনাদের অ্যাপসের প্রতিদ্বন্দ্বী কে বা কারা এবং সেই অ্যাপগুলো সুযোগ সুবিধা গুলো কি তার থেকে বেটার কিছু আপনাদের দিতে হবে তা না হলে আপনাদের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে যেতে হবে।
গুগল প্লে স্টোর থেকে আয়: অ্যাপস তৈরি করার আগে আপনাদের কে কি কি দিক বিবেচনা করতে হবে তার নির্দেশনা। এবার চলুন জেনে নেই গুগল প্লে স্টোর থেকে আপনারা কিভাবে আপনাদের অ্যাপস বা অন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আয় করবেন.
অ্যাপস মনিটাইজেশন: অ্যাপস মনিটাইজেশন পেতে হলে আপনাদের কে সর্বপ্রথম AdMob একাউন্টটি খুলতে হবে এবং সেখানে এপ্লাই করতে হবে। আপনারা যদি এপ্রোভাল পেয়ে যান তারপর আপনাদের অ্যাপসটিতে নির্দিষ্ট কিছু ভিডিও অ্যাড ও পপ আপ ব্যানার শো করতে হবে। এই অ্যাড বা পপ আপ ব্যানার যদি আপনাদের ইউজার রা যদি ক্লিক করে তাহলে আপনারা সেই ক্লিক থেকে কিছু অর্থ আয় করতে পারবেন।
পারচেস: গুগল প্লে স্টোরের বেশিরভাগ অ্যাপ‌ই ফ্রি থাকে তবে কিছু বিশেষ অ্যাপ আপনাদের পারচেস করে নিতে হয়। আপনাদের অ্যাপটি যদি পারচেজিং অ্যাপ হয় তাহলে এর থেকে আপনারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। তবে অ্যাপে নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু থাকতে হবে তা না হলে মানুষ কখনই সেখানে কখনোই পারচেস করবে না।
সাবস্ক্রিপশন: বর্তমানে ওয়েব সিরিজ অ্যাপ মার্কেটে অনেক এসেছে যাদের মাসিক সাবস্ক্রিপশন গ্রাহকদের কিনতে হয়। এই অ্যাপে গুলোর ডেভলপাররা প্রচুর পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইউজার দের কাছ থেকে।
স্পনসর্শিপ: আপনাদের অ্যাপস যদি একবার গুগল প্লে স্টোরের রাংকিং করে যায় এবং কোনো বড় কোম্পানির নজর আপনাদের অ্যাপটিতে পড়ে যায় তখন আপনারা প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন স্পন্সরশীপের মাধ্যমে। কারণ কোম্পানি আপনাদের কে তার কোম্পানির বিজ্ঞাপন গুলো আপনাদের অ্যাপস এর মাধ্যমে গ্রাহকদের দেখানোর কথা বলবে। এই প্রমোশনাল পারপাজ এ যে আপনারা প্রচুর পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট: আগে এগুলো বুদ্ধি মানুষ ব্যবহার করতো না তবে বর্তমানে অ্যাপ গুলোর মাধ্যমে অন্য একটি অ্যাপস এর এফিলিয়েট লিংক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। যার ফলে গ্রাহকরা এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে এবং ডেভলপার অনেক টাকা ইনকাম করে ।
গুগল প্লে স্টোর সমস্যা
গুগল প্লে স্টোর চালানোর জন্য আমাদের মাঝে মাঝে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় আপনারা একটি কাঙ্খিত আপস ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন কিন্তু সেটি ইরর দেখাচ্ছে। গুগল প্লে স্টোরের সমস্যাগুলো নিয়ে আজ আমরা আপনাদের সমাধান করে দেব।
ক্যাশ ক্লিন: মাঝে মাঝেই আমরা দেখতে পাই গুগল প্লে স্টোর অ্যাপ থেকে যদি আমরা কোন কিছু ডাউনলোড করতে চা‌ই কিন্তু পারছিনা তার অর্থ বুঝায় অ্যাপস এ ক্যাশ ক্যাচ জমে গেছে। আপনারা এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সেটিং-এ গিয়ে অ্যাপস অপশন টি তে ক্লিক করে এবং প্লে স্টোর অ্যাপটি খুঁজে বের করে ক্যাশ ক্লিন করে নিবেন।
ওয়াইফাই পারমিশন: আপনারা যদি ডাটা ইউজার হয়ে থাকেন এবং হঠাৎ করে ওয়াইফাই ইউজ করা শুরু করেন। তাহলে অনেক ধরনের সমস্যা ফেস করতে পারেন কারণ ওয়াইফাই এর জন্য নির্দিষ্ট পারমিশন আপনাদের মোবাইলে দেওয়া থাকে না। তাই সেটিং-এ গিয়ে ডাটা সেটিং খুঁজে বের করে এবং সেখানে ওয়াইফাই এনাবেল করে দিতে হবে।
ডাউনলোড ম্যানেজারে সমস্যা: মোবাইলে ডাউনলোড ম্যানেজার অপারেটিং সিস্টেম টি যদি আনএবল করা থাকে তাহলে আপনাদের প্লে স্টোর ঠিকমতো কাজ করবেনা। এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য আপনাদেরকে সেটিং নিয়ে গিয়ে অ্যাপস অপশনটিতে যেতে হবে এরপর ডাউনলোড ম্যানেজার গিয়ে আনএবল অপশনটি এনাবল করে দিতে হবে।
পরিশেষে, সম্মানিত ভিজিটরস বন্ধুরা গুগোল অ্যাপ আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তাই আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা সম্পূর্ণ বুঝতে পেরে গিয়েছেন গুগোল অ্যাপ কি এবং গুগল প্লে স্টোর একাউন্ট খোলার নিয়ম । প্রতিদিন আপনাদের জন্য ইনফরমেটিভ আর্টিকেল নিয়ে উপস্থিত হ‌ই। আর্টিকেলগুলো আপনাদের যদি ভালো লাগে অবশ্যই কমেন্টে রেসপন্স করবেন যাতে আমাদের উৎসাহ আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.