টিপস
Trending

গেমিং কনসোল কি? ভিডিও গেম কনসোল এত জনপ্রিয় কেন?

গেমিং কনসোল কি: আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা। আজকে আমরা আপনাদের জন্য একটি নতুন বিষয় নিয়ে পোস্ট করেছি। মুলত মুল বিষয় হচ্ছে গেমিং কনসোল। তাই আপনারা এই পোস্টে জানবেন গেমিং কনসোল কি, এগুলোর ধরন, সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ।

গেমিং কনসোল কী?

বন্ধুরা গেমিং কনসোল বা ভিডিও গেম কনসোল হচ্ছে এক ধরণের জনপ্রিয় গেমিং বক্স বা যন্ত্র যা কোনো টিভি কিংবা মনিটরের সাথে সংযুক্ত করে গেম খেলা যায়। অর্থাৎ এখানে গেমিং এর ক্ষেত্রে ফাংশনালিটি যে ডিভাইসটি দিচ্ছে, তাকে গেমিং কনসোল বলা হচ্ছে।

গেমিং কনসোলকে মুলত কম্পিউটারের সাথে তুলনা করলে বিষয়টা অনেক সহজ হয়। গেমিং কনসোলকে অনেকটা কম্পিউটারের সিপিইউ এর সাথে তুলনা করা যায়, যেখানে সিপিইউ হলো কম্পিউটারের মূল অঙ্গ। আর কম্পিউটারের মত ভিজ্যুয়াল আউটপুট একটি ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করে গেমিং কনসোল। এক্সবক্স, প্লেস্টেশন, নিনটেন্ডো সুইচ, এসব হচ্ছে কিছু জনপ্রিয় গেমিং কনসোল এর নাম। গেমিং কনসোল কি?

গেমিং কনসোল গেমটি Ralph H. Baer নামে এক ভদ্রলোক ১৯৭২সালে প্রথম তৈরী করেন, যার নাম ছিলো ম্যাগনাভক্স অডেসি। বেয়ার ও তার স্যান্ডারস অ্যাসোসিয়েটস এর টিম মিলে এই গেমিং কনসোলটি তৈরী করেছিলেন।

মুলত ভিডিও গেমস খেলার ক্ষেত্রে গেমিং কনসোল ব্যবহার করা হয়। Raw কম্পিউটিং পাওয়ার বা কাস্টমাইজেশনের সুযোগ না থাকলেও গেমিং কনসোল দ্বারা কোনো সমস্যা ছাড়াই নিশ্চিন্তে গেম উপভোগ করা যায়।

একই মডেলের ভিডিও গেমস কনসোল সাধারণত ৫ থেকে ৭বছর ধরে বাজার দখল করে থাকে, যাকে বলা হয় জেনারেশন। কনসোল গেম এর দাম অপেক্ষাকৃত অনেক কম, কেননা অধিকাংশ কনসোল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের লাভের অংশ গেম সেল করে আয় করে নেয়।

গেমিং কনসোলটি নিয়ে বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। তবে এতসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সগৌরবে নিজেদের কতৃত্ব বজায় রেখেছে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সনি এর প্লেস্টেশন, মাইক্রোসফট এর এক্সবক্স ও নিনটেন্ডো এর সুইচ কনসোল বাজারে বেশ জনপ্রিয়।

গেমিং কনসোল এর ধরণ

কনসোল বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। বর্তমানে প্রধান তিন ধরণের গেমিং কনসোল বেশি দেখা যায়, যথাঃ

হোম গেমিং কনসোলঃ টিভি বা কোনো ধরনের মনিটরের সাথে সংযুক্ত করে বাইরে থেকে পাওয়ার সরবরাহ করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানেই গেম খেলা যায় এসব কনসোল এর মাধ্যমে। কনসোল থেকে আলাদা কন্ট্রোলস দ্বারা গেম এর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্লেস্টেশন ৫, এক্সবক্স এক্স ইত্যাদি হলো হোম গেমিং কনসোল।

হ্যান্ডহেল্ড গেমিং কনসোলঃ এই ধরণের কনসোলে কনসোল এর মধ্যেই বিল্ট-ইন স্ক্রিন ও কন্ট্রোলার ফিচার থাকে । এই ধরণের কনসোল এর ব্যাটারি রিচার্জেবল ও যেকোনো স্থানে সাথে করে নিয়ে যাওয়া যায়। গেম বয়, প্লেস্টেশন পোর্টেবল, নিনটেন্ডৈ থ্রিডিএস, ইত্যাদি হলো হ্যান্ডহেল্ড গেমিং কনসোল।

হাইব্রিড গেমিং কনসোলঃ এই ধরণের কনসোল হ্যান্ডহেল্ড ও হোম কনসোল এর উভয় সুবিধাকে একত্রিত করে। এছাড়াও আলাদাভাবে বা সরাসরি মনিটরে কানেক্ট করে এসব কনসোল ব্যবহার করা যায়। নিনটেন্ডো সুইচ কে প্রথম হাইব্রিড কনসোল বলা চলে।

Gaming console

গেমিং কনসোল এর সুবিধা ও এর জনপ্রিয়তার কারণ

আপনারা নিশ্চয় প্রশ্ন করতে পারেন, গেম গুলো খেলার জন্য গেমিং পিসি বাদ দিয়ে গেমিং কনসোল কেনো কেনা উচিত। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক গেমিং কনসোল এর কিছু অসাধারণ সুবিধা সম্পর্কে।

গেমিং কনসোল ব্যবহার করতে কোনো প্রকার পূর্ব জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। ডিস্ক ইনসার্ট করে বা গেম ডাউনলোড করার মাধ্যমে বেশ সহজে যেকোনো কনসোল গেম উপভোগ করা যাবে।

কম্পিউটারের মত কোনো গেম ভালোভাবে চলবে কি চলবেনা তা নিয়ে ভাবতে হয়না। সিডি বা স্টোরে যদি কোনো গেম উক্ত মডেল সাপোর্ট করে, তবে বেস্ট সেটিংসে ঐ গেম ঐ কনসোলে খেলা যাবে।

গেমিং কনসোল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কনসোল যে অসাধারণ তা প্রমাণ করতে সেরা সব গেম এক্সক্লুসিভলি তাদের কনসোলে নিয়ে আসে। প্লেস্টেশন ও এক্সবক্স ক্লাসিকগুলোর দিকে তাকালেই বিষয় গুলো অনেকটা দৃশ্যমান হবে

যেকোনো স্থানে বসে আরামে কনসোলে গেম খেলা যায়। সে আপনাদের সোফাতে বসে হোক বা বিছানায় শুয়ে, কনসোল ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে গেমিং করার অসাধারণ সুবিধা পাওয়া যায়।

একটি গেমিং পিসি বিল্ড করার ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার অন্যদিকে গেমিং পিসি এর তুলনায় গেমিং কনসোল এর দাম অনেক অনেক কম।

কনসোল ব্যবহার করে বন্ধুদের সাথে গেমিং করা অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ। অনলাইনে যেকোনো সময় বন্ধুদের সাথে সহজে মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো খেলা যাবে কনসোলে। আবার অনেক গেমিং কনসোলে দুইটি পোর্ট থাকে, যা ব্যবহার করে একাধিক প্লেয়ার একই কনসোলে গেম খেলতে পারে।

মাউস ও কিবোর্ড এর চেয়ে গেমিং কন্ট্রোলার নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ। হাজারটা কি কম্বিনেশন মনে রাখার চেয়ে কন্ট্রোলারের গুটি কয়েক বাটনে প্রেস করা যে অনেক সহজ, এই ব্যাপারটির সাথে যেকেউ একমত হবে।

Gaming console

গেমিং কনসোল এর অসুবিধা

বন্ধুরা গেমিং কনসোল মানেই যে অসাধারণ সব ফিচার ও সুবিধা, এমনটা কিন্ত নয়। গেমিং কনসোল যেমন অসংখ্য সুবিধা প্রদান করে, তেমনি এর পাশাপাশি গেমিং কনসোল এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। তাহলেচলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক গেমিং কনসোল এর কিছু অসুবিধা সম্পর্কে।

গেমিং কনসোলসমূহ অন্তত ৫বছর বাজারে ঠিকে মত তৈরি করা হয়। আর এই সময়ের মধ্যে কম্পিউটার কম্পোনেট এর বেশ দ্রুত উন্নতি হলেও গেমিং কনসোলের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন প্রযোজ্য নয়।

গেমিং কনসোলে অধিকাংশ গেমে সর্বোচ্চ সেটিংসে খেলা যায়না, কেননা গেমিং কনসোল এর দাম ও সাইজ হিসেবে এর হার্ডওয়্যারে সীমাবদ্ধতা অনেক রয়েছে।

কম্পিউটারের ক্ষেত্রে মাউস, কিবোর্ড, ভিআর হেডসেট বা স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোলার সহ গেম খেলার অসংখ্য ডিভাইস থাকলেও অধিকাংশ গেমিং কনসোলে গেম খেলার একমাত্র মাধ্যম হলো কন্ট্রোলার।

কনসোল গেমসমূহ মোড করা যায়না। মোড দ্বারা গেমের গ্রাফিক্স উন্নতি, টেক্সচার ও নতুন গেমপ্লে এলিমেন্ট এর মত বিষয় সংযুক্ত করা যায়। কনসোলে সেই সুবিধা না থাকায় পিসি গেমারদের মত এই অসাধারণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত কনসোল গেমারগণ।

আপনি কি কনসোলে গেম খেলেন? আপনার প্রিয় কনসোল কোনটি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.