খাদ্যসুস্বাস্থ্য

ডিমের উপকারিতা-সুস্থ ও সবল থাকতে চাইলে নিয়মিত ডিম খান

ডিম একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য। ডিম আমিষের অন্যতম একটি উৎস। এটি একটি প্রাণিজ আমিষ। ডিমের উচ্চ মানের প্রোটিন থাকার কারণে আমাদের শরীরের জন্য ডিম খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের কুসুমে রয়েছে লৌহ বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ। এবং ডিমের সাদা অংশে রয়েছে উচ্চ মানের জৈব আমিষ।

ডিমের উপকারিতা-সুস্থ ও সবল থাকতে চাইলে নিয়মিত ডিম খান
 ডিমের উপকারিতা-সুস্থ ও সবল থাকতে চাইলে নিয়মিত ডিম খান


ডিম সব বয়সের মানুষের জন্য দরকারি এবং বেশ উপকারী। এছাড়াও শিশুদের দ্রুত বৃদ্ধি এবং সুগঠিত হাড় ও মেধা বিকাশের জন্য ডিম খুবই উপকারী। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন এ থাকার কারণে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। এছাড়া ডিমে ভিটামিন ডি থাকার কারণে হাড় এবং সুস্বাস্থের জন্য খুবই ভালো।


ডিম চুল পড়া কমায়

নিয়মিত ডিম খেলে চুল পড়ার হার অনেকটাই কমে যায়। যদি আপনার চুল জরিদার সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে নাস্তা সঙ্গে ডিম যোগ করুন। নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে ডিমে থাকা প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। এবং চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত করে ফলে চুল ভালো থাকে এবং চুল ঝরে যাওয়ার হার একদম কমে যায়।

ডিম দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

ডিম চোখের রেটিনার কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এবং নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে চোখ বিভিন্ন রকমের রোগ আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখ সহজেই রক্ষা পায়। ফলে আমাদের চোখ ভালো থাকে এবং রোগমুক্ত থাকে।

আমরা সবাই জানি চোখ আমাদের খুবই একটি মূল্যবান সম্পদ তাই চোখ রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই নিয়মিত ডিম খেতে হবে।

ডিম ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়

নিয়মিত ডিম খেলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক মসৃণ ও লাবণ্যময় থাকে কথা একদম সত্যি। এছাড়াও ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

এছাড়াও প্রতিদিন ডিম খেলে মাথার চুল পায়ের নখ থেকে শুরু করে সারা শরীর ভালো থাকে। ডিম একটি সুষম খাবার। ডিমে আছে পুষ্টিসমৃদ্ধ সকল উপাদান যা অন্য সব খাবারে নেই বললেই চলে।

ডিম অ্যামাইনো এসিডের ঘাটতি পূরণ করে

অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এটি আমাদের শরীর সচল স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সকালের নাস্তায় অবশ্যই ডিম রাখবেন তাহলে আপনার সুস্বাস্থ্য নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না।

ডিম অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়

আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে মারাত্মক বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টির হতে শুরু করে। তাই এই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা শরীরের সব সময় কোন সঠিক মাত্রায় থাকে সে ব্যাপারে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

তবে তবে শরীরে এই উপাদান এর মাত্রা সঠিক ভাবে পূরণ করতে পারে ডিম। এছাড়া ডিম আমাদের রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে অ্যানিমিয়ার মত রোগ সহজে আমাদের শরীর থেকে দূর হয়ে যায়।

ডিম ওজন কমায়

অনেকের ধারণা ডিম খেলে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায় এবং শরীর স্থূল হয়ে যায়। তবে এই ধারণাটা একদম এ ভুল ডিম খেলে শরীরের ওজন বাড়ে না বরং কমে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এটি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ খালি পেটে ডিম খেলে অনেকক্ষণ একটানা ক্ষুধা লাগে না। তাই খাদ্য কম খেলে অবশ্যই ওজন কমবে এটাই স্বাভাবিক। ডিম খেলে পেট ভরা ভরা অনুভব হওয়ার কারণে আজেবাজে খাবার খেয়ে পেট ভরানোর কোন দরকার পড়ে না।

এতে ওজন বাড়ার ঝুঁকি সহজেই অনেকটা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে ডিম খেলে শরীরের ক্যালরি অনেকটাই পূরণ হয়ে যায় ফলে সারাদিন অতিরিক্ত ক্যালরি পূরণের জন্য দিনে বেশি বেশি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা এটাই সব চেয়ে বড় কারন। এটি শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি জমার দুশ্চিন্তা থাকে না। ফলে ওজন সহজে বৃদ্ধি পায় না। এবং অতি সহজেই শরীর সুস্থ এবং সবল রাখার সম্ভব হয়।

ডিম খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

বর্তমানে অনেকেরই ধারণা রয়েছে ডিম শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিমে উপস্থিত 200 মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল এটা অত্যন্ত ভালো।

এজন্য আমাদের দেহে কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না বরং উপকার হয়। তাই আমাদের নিয়মিত অবশ্যই ডিম খাওয়া উচিত।

ডিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ডিমে থাকা নানান পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি সেলেনিয়াম সহজেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন সংক্রামক এর ঝুঁকি কমে যায়। এবং আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে সহজেই আমাদের শরীর সুস্থ থাকে।

ডিম ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি করে

ডিমে এত এত পুষ্টি উপাদান থাকার ফলে প্রশ্নই আসেনা যে ডিম ব্রেন শক্তি বৃদ্ধি করে কিনা। আমাদের মস্তিষ্কের উন্নতির জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার।

আমাদের স্মৃতিশক্তি কে মজবুত করতে সহায়তা করে। তবে তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল তাদের অবশ্যই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত ।

তাছাড়া ডিম যে কোনো কাজে মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ডিম আমাদের ব্রেনের নানা রকম ঝুঁকিপূর্ণ এবং মারাত্মক রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।

ডিম হাড়কে মজবুত ও সুস্থ রাখে

ডিম আমাদের হারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ডিমে ভিটামিন ডি থাকার ফলে হাড় এবং দাঁতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ডিম হাড়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে, হাড় সুগঠিত এবং মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ডিম হৃদযন্ত্র কে ভালো রাখে ও কর্ম ক্ষমতা সম্পন্ন রাখে । তাই ডিম আমাদের সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *