সংবাদ

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে গেছে। সোমবার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দু’পক্ষ একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষ শুরুর পর নিউমার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। পুলিশও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় মিরপুর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞাপন
প্রায় আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, নিউমার্কেটে ব্যবসায়ীদের হাতে তাদের এক সহপাঠী হামলার শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে কয়েকশ শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলেজের ছাত্রাবাস থেকে মিছিল করে নিউমার্কেটের দিকে যায়। এ সময় নিউমার্কেটের কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয়। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও মারধর করা হয়। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিউমার্কেটের একটি ফাস্টফুডের দোকানে খেতে আসেন। খাওয়ার পর টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দোকানের লোকজনের তর্কাতর্কি হয়। এরপর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে দোকান ভাঙচুর শুরু করে। পরে ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে বেরিয়ে আসেন।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে। কিন্তু উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়ীদের দিকে ছুটে যায়। পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এর আগে নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুমি তাবরেজ বলেন, নিউমার্কেটের এক ব্যবসায়ী ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস নং ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বলেন, ঢাকা কলেজের ছাত্ররা তাদের দোকানে হামলা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। মোশাররফ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল রজবের বুকে লাগে।

আহতদের মধ্যে মোশাররফের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে বলেছেন বলে ওই ছাত্রী জানান।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাম কাইয়ুমের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.