ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

দ্রুত শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হব কিভাবে

শারীরিক ভাবে শক্তিশালী কিভাবে হওয়া যায় বেশীর ভাগ মানুষের ভিতরেই প্রশ্ন জাগে। তবে বিশেষ করে এই প্রশ্নটা দুর্বল মানুষের ভিতরে বেশি জাগে। কারণ শক্তি খুবই মূল্যবান একটি সম্পদ। কারণ শক্তি না থাকলে পৃথিবীটা আসলে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও দুর্বল শরীর নিয়ে প্রায় সকলেরই সমস্যায় পড়তে হয়।

দ্রুত শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হব কিভাবে
দ্রুত শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হব কিভাবে


যেমন কোন কাজ করতে গেলে অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া এবং শারীরিক ভাবে শক্তিশালী না হওয়ার জন্য কাজটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

তাছাড়াও সমাজের মানুষ বেশির ভাগ সময়ই শারীরিক ভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হাসা হাসি ঠাট্টায় এবং মজা করে।


পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন সহ পরিবারের লোকজন পর্যন্ত মজা এবং হাসি ঠাট্টা করতে দ্বিধাবোধ করে না। শারীরিক ভাবে দুর্বল হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কম থাকে ফলে সহজেই ছোট থেকে বড় যে কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


আরো পড়ুন…


আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা আসলেই বিপদজনক কারণ আমাদের পৃথিবীর বর্তমান আবহাওয়া এবং পরিবেশ পরিস্থিতির জন্য কখন আমাদের কোন রোগ শরীরের উপরে আক্রমণ করে সেটা বলা যায় না।

তবে শারীরিক ভাবে শক্তিশালী এবং সুস্বাস্থ্যবান হলে প্রায় সব ধরনের রোগই অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।


তাছাড়াও শারীরিক ভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের চেয়ে শক্তিশালী এবং সুস্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের অনেক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং স্মার্ট মনে হয়। এছাড়াও রয়েছে আরও হাজারো রকমের সমস্যা তাই এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সুস্বাস্থ্যবান এবং শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রুত শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হতে প্রথমে যা করতে হবে

আসলে মানুষ প্রথমত এটাই ভুল করে যে শক্তিশালী কিভাবে হওয়া যায়। আসলে শক্তিশালী হতে হলে প্রথমত সুস্বাস্থ্যবান হতে হবে। কারণ আপনার যদি স্বাস্থ্য ভালো না থাকে শরীরে যদি রোগা পাতলা হয় তাহলে শক্তি কোথা থেকে আসবে আপনি একবার নিজেই চিন্তা করুন।

এই জন্য সর্ব প্রথম আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হতে হবে। আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।আপনার স্বাস্থ্য তখনই ভালো হবে যখন আপনি স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হবেন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত থাকবেন। সুস্বাস্থ্যবান এবং শক্তিশালী হতে হবে অবশ্যই আপনাকে কিছু নিয়ম এবং রুটিন মানতে হবে।

শারীরিক দুর্বলতা দূর করা

শারীরিক ভাবে শক্তিশালী এবং সুস্বাস্থ্যবান হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আগে আপনার শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে হবে, তাহলেই তো আপনি শক্তিশালী হতে পারবেন।


অনেকেই মনে করেন যে শারীরিক দুর্বলতা দূর করার জন্য হয়তো প্রচুর পরিমাণে ঘুম এবং অতিরিক্ত বিশ্রাম নিলে সব ঠিক হয়ে যায়।

আসলে এমনটা না পরিশ্রম অবশ্যই করতে হবে কারণ আমাদের মানব দেহ যত পরিশ্রম করবে এবং যত চলনশীল থাকবে ততই ভালো থাকবে।


তবে বর্তমানে চাকরি ব্যবসা এবং পড়াশুনার চাপে বেশির ভাগ মানুষই তেমন একটা বিশ্রাম নিতে পারে না‌। তবে অতিরিক্ত ঘুম এবং বিশ্রাম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক এবং এটা আপনার শরীরকে আরো বেশি দুর্বল করে দেয়।

এজন্য যারা অনেক ব্যস্ততার ফাঁকে খুব কম সময় পায় বিশ্রাম নেয়ার জন্য তাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।


কারণ আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে সফল এবং ধনী ব্যক্তিদের অনুসরণ করুন। তাহলে খুব ভালো সমাধান পাবেন যে অল্প সময় বিশ্রাম নিয়েও কিভাবে ক্লান্তি দূর করা যায় এবং কাজ করার জন্য কিভাবে নতুন শক্তি উৎপাদন করা যায়।

বিল গেটস কে তো আমরা প্রায় সকলেই চিনি উনি দিনে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমাতেন কিন্তু তারপরেও কতটা সতেজ থাকতেন এবং এত এত কাজ সব গুছিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেন।


তবে তাই বলে আমি আপনাদের 4 ঘন্টা ঘুমাতে বলছি না আমি আপনাদের শুধু বোঝানোর জন্য এটা বলেছি যে অল্প সময় বিশ্রাম নিয়েও শরীরের ক্লান্তি দূর করা যায়।

শারীরিক দুর্বলতা দূর করার খাবার

শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং শরীর দ্রুত শক্তিশালী করার জন্য অবশ্যই আপনাকে পুষ্টিকর কিছু খাবার খেতে হবে।

শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি বেশীরভাগ মানুষই মনে করে যে দামি দামি ভালো খাবার এবং মাছ-মাংস খেলেই শুধু শক্তিশালী হওয়া যায় এবং এগুলি খুব পুষ্টিকর। আসলে এটা একদমই ভুল ধারণা সহজলভ্য এবং কম দামে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলোতে মাছ-মাংসের চেয়েও অনেক বেশি পুষ্টি গুনাগুন রয়েছে।


তবে অবশ্যই শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তিশালী হতে হলে আপনাকে কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ খুব অল্প সময়ের ভিতর আপনি অনেক বড় কিছু আশা করতে পারেন না এবং সেটা এক প্রকার অসম্ভব।

তাই ভালো ফলাফল পেতে আপনাকে অবশ্যই কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করতে হবে এবং স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে।

ডিম

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি প্রাণিজ আমিষ জাতীয় খাবার। ছোট্ট একটি ডিমে রয়েছে অনেক রকমের পুষ্টি গুণাগুণ যা আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

ডিমের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং অনেক প্রকার ভিটামিন সহ রয়েছে আরো নানা রকম পুষ্টিকর এবং শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় উপাদান।


ডিমে অনেক পুষ্টিকর গুনাগুন থাকার কারণে খুব দ্রুত আপনার শরীর শক্তিশালী হবে এবং আপনি সুস্বাস্থ্যবান হতে পারবেন। এজন্য অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি বা দুটি ডিম রাখবেন।

আরেকটা কথা বলে রাখি ডিম কখনোই অতিরিক্ত তেলে ভাজি করে খাবেন না সবচেয়ে ভালো হয় ডিম সিদ্ধ অবস্থায় খেলে। আর কখনোই ভুল করেও ডিম কাঁচা খাবেন না কারণ এতে আপনার শরীরে অনেক রকম সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরো পড়ুন….

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল

ভিটামিন-সি আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান তা আমরা প্রায় সকলেই জানি। এজন্য শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের দ্রুত উন্নতি ঘটাতে অবশ্যই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বেশি পরিমাণে খাবার চেষ্টা করবেন তবে অতিরিক্ত  নয়।

এছাড়াও ভিটামিন-সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে।


বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে আমাদের ত্বক এবং হাড় ভালো থাকে। সহজলভ্য অনেক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রয়েছে যা আমরা খেলে সহজেই সুস্বাস্থ্যবান হতে পারব।

যেমন:

  • লেবু
  • পেয়ারা
  • আমলকি
  • পেঁপে
  • স্ট্রবেরি
  • আনারস


এছাড়াও আরো অনেক ফল রয়েছে যাতে ভিটামিন সি রয়েছে। তবে আপনারা সকল প্রকার এই ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল গুলো একটু বেশি গুরুত্ব সহকারে খাবেন, কারণ এগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

আরো পড়ুন…

সবুজ শাকসবজি

সবুজ শাকসবজি আমাদের সুস্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। দ্রুত শরীরের উন্নতি ঘটাতে এবং শরীর শক্তিশালী করতে অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ-মাংসের চেয়েও সবুজ শাকসবজি এর পরিমান বেশি রাখবেন।

কারণ শাক সবজিতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং সব প্রকার ভিটামিন। আপনার শরীরকে দ্রুত শক্তিশালী করতে শাকসবজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার

প্রোটিন জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই শরীর কে শক্তিশালী করার জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ এবং মাংসে প্রোটিন রয়েছে তা আমরা সবাই জানি। তবে মাছ এবং মাংস ছাড়াও অনেক খাদ্য উপাদান রয়েছে যেগুলোতে প্রোটিন রয়েছে। তবে আপনি মাছ মাংস অবশ্যই খাবেন কিন্তু পাশাপাশি প্রোটিন জাতীয় অন্যান্য খাবার গুলোও খাবেন।


প্রোটিন জাতীয় খাবার আপনার শরীরের দ্রুত উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি যোগাবে।

আর প্রত্যেকটি মানুষ এই যে প্রায় 25 বছর পর্যন্ত প্রোটিন এর চাহিদা বেশি থাকে। তাই এই বয়স এর ভিতরে কখনোই প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি হতে দেবেন না।

আরো পড়ুন…

প্রাকৃতিক খাবার

শরীরকে শক্তিশালী করতে এবং সুস্বাস্থ্যবান থাকার জন্য খাদ্য সম্পর্কে তেমন বেশি বর্ণনা দেয়ার দরকার নেই কারন আপনারা প্রতিদিন যে সকল খাবার খান এগুলো পূর্বের তুলনায় বেশি পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।


তবে এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে, বাহিরের খাবার পরিহার করা এবং ঘরের খাবার খাওয়া। বিশেষ করে প্রাকৃতিক খাবার আসলে প্রাকৃতিক খাবার বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি ভেজাল মুক্ত খাবার এর কথা।

আর অবশ্যই বাহিরের খাবার গুলো একদমই ত্যাগ করবেন যদি আপনি সুস্বাস্থ্যবান থাকতে চান এবং শরীরের উন্নতি ঘটিয়ে দ্রুত শক্তিশালী হতে চান।


তবে খাবার বেশি খাওয়া বলতে সারাদিন খেতে থাকা নয়। আসলে এটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই এই ভুলটা করে যে, তারা স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটানোর জন্য সারাদিন খেতে থাকে।

এটা উল্টো ক্ষতিকারক আপনি অবশ্যই প্রতি বেলায় খাওয়ার মাঝে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিরতি নেবেন। কারণ আপনার খাবার হজম হওয়ার জন্য  কয়েক ঘন্টা সময়ের প্রয়োজন।

শরীরের অলসতা দূর করা

শারীরিক ভাবে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যবান হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে অলসতা দূর করতেই হবে। কারন আপনার শরীর যখনই অলস থাকবে তখনই আপনার শরীরে কোনো রকম শক্তি অনুভব হবে না এবং শক্তি যা থাকবে তাও আপনি কাজে লাগাতে পারবেন না।

এজন্য অবশ্যই অলসতা দূর করতে হবে যদিও অলসতা দূর করা সহজ নয় তবে এটা অসম্ভবও নয়।কারণ আমাদের শরীর অলস হয়ে গেলে সেটা এক সময় নেশার মতো হয়ে যায়। তখন অলসতা কাটিয়ে উঠতে একটু কষ্ট করতে হয় এবং সময়েরও প্রয়োজন হয়।


অলসতা দূর করতে হলে প্রথমত আপনার মনের ভিতর থেকে মনের ভিতর থেকেই দূর করতে হবে।কারণ আপনি যদি মানসিক ভাবেই অলস থাকেন তাহলে শারীরিক ভাবে কীভাবে অলসতা দূর করবেন।

এজন্য আপনাকে অবশ্যই মন থেকে অলস নামক বস্তুটি ভুলে যেতে হবে। আর সব সময় সতর্ক থাকবেন অলসতা যেন আপনার শরীরের বাসা বাঁধতে না পারে।


অলসতা দূর করতে হলে অকারণে আপনি কখনোই শুয়ে থাকবেন না। কাজের ভিতর হেলান দিয়ে চেয়ারে আরাম করে বসবেন না। কখনোই অতিরিক্ত ঘুমাবেন না কারণ অতিরিক্ত ঘুমালে আপনার শরীরে অলসতার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে। 

তাই শক্তিশালী হতে হলে অবশ্যই আপনাকে অলসতা ত্যাগ করতে হবে।

ব্যায়াম

দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। তবে ব্যায়াম যে শুধু শরীর শক্তিশালী করে তা নয় ব্যায়ামের রয়েছে হাজারো রকমের উপকারিতা। তবে দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার জন্য ব্যায়ামের বিকল্প কিছু হতেই পারে না।

দ্রুত শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হব কিভাবে


আপনি অন্তত প্রতিদিন আধা ঘন্টা থেকে এক ঘণ্টা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে আপনি সুস্বাস্থ্যবান থাকতে পারবেন এবং শরীরের শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বাস না হলে একটানা কিছুদিন ব্যায়াম করেই দেখুন।


নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আপনার শারীরিক শক্তির অনেক অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। তবে এর জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছুদিন ধৈর্য্য ধারণ করে ব্যায়াম করতে হবে।

সুস্থ থাকার জন্য শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করার ফলে আপনার মন অনেকটাই ভালো থাকবে এবং আপনি ভিতর থেকে নিজেকে অনেক সতেজ অনুভব করবেন।

আরো পড়ুন…

পরিমিত পরিমাণে ঘুম

সুস্থ থাকার জন্য এবং দ্রুত শক্তিশালী হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতেই হবে তবে অতিরিক্ত কিন্তু নয়।

আর এই ঘুমানোর সময় টা হবে অবশ্যই রাতে। আপনাকে রাতে তারাতারি ঘুমাতে যেতে হবে এবং সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।


কিন্তু আপনি যদি এর উল্টোটা করেন রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে খুব দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন এবং দিনে অনেকটা সময় ঘুমান তাহলে আপনার ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল হওয়ার বদলে উল্টোটা হবে। সেটা হচ্ছে আপনি শরীরে শক্তি তো পাবেনই না এবং শরীর আপনার ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকবে এবং আপনি হয়তো এক সময় খুব অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।


তাই সময় থাকতে অবশ্যই সাবধান হোন এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হোন। কারন আপনার শরীর একবার খারাপ হয়ে গেলে পুনরায় আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে অনেকটাই কষ্ট হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে আপনি আগের মত সুস্বাস্থ্যবান আর হতেই পারলেন না।

আর তখন আপনার নিজের করা ভুল এবং স্বাস্থ্যের প্রতি অযত্ন এবং অসচেতনতা জন্য আফসোস হবে।

আরো পড়ুন…

পরিমিত পরিমাণে পানি পান

সুস্বাস্থ্য কামনা করলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। তবে আগেই বলেছি আপনি দ্রুত শক্তিশালী হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে সুস্বাস্থ্যবান হতে হবে এবং শরীরের দুর্বলতা দূর করতে হবে।


আর সুস্বাস্থ্যবান হতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। একজন সুস্থ ব্যক্তির প্রতিদিন 8 থেকে 9 গ্লাস পানি পান করা দরকার।

তবে আপনি যদি দুর্বল হয় এবং খুব চিকন হন তাহলে আপনি দশ থেকে বারো গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এতে আপনি খুব দ্রুত ফলাফল পাবেন।


আর পানি পান করার ক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করে সেটা হচ্ছে, তারা একসাথে 5 থেকে 6 গ্লাস পানি পান করে যা একদমই উচিত নয়।

আপনাকে অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করতে হবে একসাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত নয়।


আর পানি পান করার সময় অবশ্যই আস্তে আস্তে পানি পান করতে হবে এবং কোন কিছু খাওয়ার পরে বেশি পানি পান করা খুব ক্ষতিকর।

তাই খাবার খাওয়ার কমপক্ষে আধা ঘন্টা পর আপনি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে পারেন এতে কোন সমস্যা নেই।

আর পানি পান করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন আপনি যে পানি পান করছে সেটা যেন অবশ্যই বিশুদ্ধ হয়। কারণ আপনি যে পানি পান করবেন সেটায় যদি কোন প্রকার ব্যাকটেরিয়া বা রোগ জীবাণু থাকে তাহলে আপনি পানি বাহিত বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।

আরো পড়ুন….

মানসিক ভাবে সুস্থতা

এই সমস্যাটি প্রায় সকলের মধ্যেই কম বেশি থাকে। বেশির ভাগ মানুষই তাদের শরীরে যতটা শক্তি আছে ততটা ব্যবহার করতে পারে না।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে তারা মানসিক ভাবে দুর্বল এ জন্য শারীরিক শক্তির ব্যবহার করতে পারে না এমনকি শারীরিক ভাবে শক্তি থাকা সত্ত্বেও।

এসব মানুষের মনে করে তাদের শরীরে শক্তি নেই তারা এই কাজটি পারবে না। কিন্তু আসলে মনের শক্তি টাই আসল শরীরে শক্তি কম থাকলেও বেশির ভাগ মানুষই মনের জোর দিয়ে অনেক বড় বড় কিছু জয় করেছে এরকম প্রমাণ বিশ্বের হাজারো ছড়িয়ে আছে।


তাই অবশ্যই আপনি মানসিক ভাবে নিজেকে কখনোই দুর্বল ভাববেন না। কারণ মানসিক ভাবে আপনি নিজেকে দুর্বল ভাবলে আপনি শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হলেও আপনার শক্তির ব্যবহার করতে পারবেন না।

আর শক্তি থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যবহার করতে না পারা যায় তাহলে সে শক্তি থেকেই বা কি লাভ।


এজন্য আজ এবং এখন থেকেই আপনি নিজেকে শক্তিশালী ভাবতে শুরু করুন এবং মনের ভেতর থেকে দুর্বলতা একেবারে দূর করে ফেলুন। মানসিক ভাবে আপনি যদি শক্তিশালী হন তাহলে শারীরিক ভাবে অনেক দ্রুত আপনি শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।

আর শারীরিক ভাবে অনেক শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও যদি আপনি মানসিক ভাবে দুর্বল থাকেন তাহলে আপনি কখনো কিছুই করতে পারবেনা।

কারণ আপনার মনের ভয়ই আপনাকে দুর্বল করে রাখবে।


আরো পড়ুন…


এই পোস্ট সংক্রান্ত কোন সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।


💙💙 এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে ধৈর্য ধারণ করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য অনুরোধ রইল 💙💙

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *