টিপস

ঘরোয়া নাইট সিরাম বানানোর সহজ কৌশল

নাইট সিরাম বানানোর কৌশল: সম্মানিত ভিজিটরস বন্ধুরা আপনাদের সবাইকে জানাই স্বাগতম। সুন্দর ত্বক কে না চায়। উজ্জ্বল সুন্দর ত্বক পেতে, ত্বকের বার্ধক্যরোধে, ব্রণর হাত থেকে মুক্তি পেতে ও ডার্ক সার্কেলের হাত থেকে মুক্তি পেতে সবাই নাইট সিরাম ব্যবহার করে থাকেন আবার অনেক বন্ধুরা চায়। এই কারণে ত্বকের প্রত্যেকটি সমস্যার জন্য আলাদা আলাদা নাইট সিরাম পাওয়া যায়। এখন বন্ধুরা আপনাদের যদি চার পাঁচ রকমের সমস্যা থাকে, তাহলে আপনাদেরকে অনেকগুলি নাইট সিরাম ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ার জন্য সকলের পক্ষে তা সম্ভব না। তাই ত্বকের সমস্ত সমস্যার সমাধান এর জন্য একটি ঘরোয়া নাইট সিরাম বানিয়ে নিতে পারেন আপনারা। তাহলে চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া পদ্ধতি তে নাইট সিরাম বানানোর সহজ কৌশল

নাইট সিরাম বানানোর উপকরণঃ

  • ক. চাল
  • খ. অ্যালোভেরা জেল
  • গ. একটি বেস ওয়েলঃ আমন্ড ওয়েল /রোজ ওয়েল
  • ঘ. গোলাপ জল
  • ঙ. ভিটামিন ই ক্যাপসুল
  • চ. এসেনশিয়াল অয়েলঃ টি ট্রি ওয়েল

বন্ধুরা উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটি উপাদান ত্বকের যত্নের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান । নাইট সিরাম বানানোর জন্য এই উপাদানগুলির ব্যবহার করলে ত্বকের বার্ধক্য আটকানোর সাথে সাথে আপনাদের ত্বকের উজ্জলতা আসবে, ব্রণ ও ডার্ক স্পট জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে ও ত্বক ময়শ্চার‌ইজ হবে। নাইট সিরাম বানানোর কৌশল পদ্ধতি গুলো নিচে আলোচনা করেছি।

নাইট সিরাম কীভাবে বানাবেনঃ

ক. নাইট সিরাম বানানোর জন্য প্রথমে আপনাদের দুই চামচ চাল নিতে হবে ও সেটাকে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

খ. একটি প্যান ও তাতে চার চামচ মতো জল নিতে হবে।

গ. এই প্যানের মধ্যে এইবার দুই চামচ যে চাল আছে সেটা ঢেলে দিতে হবে।

ঘ. এরপর পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের জন্য গ্যাসে বসিয়ে এটি নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। এই সময় অবশ্যই দেখবেন জলটা সাদা হয়ে যাচ্ছে।

ঙ. এরপর এটিকে ঠান্ডা হওয়ার জন্য দশ পনেরো মিনিট ছেড়ে দিতে হবে।

চ. ঠান্ডা হওয়ার পর একটি ছাঁকনি দিয়ে জলটা ফিল্টার করে ছেঁকে নিতে হবে। দেখবেন এইবার দুই চামচ মত জল আপনারা পেয়ে যাবেন।

ছ. এর মধ্যে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল এইবার দিয়ে দিতে হবে।

জ. এরপর এর মধ্যে এক চামচ তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। যদি নরমাল স্কিন হয় তা হলে এক চামচ রোজ ওয়েল দেবেন, যদি আপনাদের স্ক্রিন ড্রাই হয় তাহলে দেড় চামচ রোজ ওয়েল নেবেন আর যাদের স্কিন অত্যন্ত ড্রাই তারা দুই চামচ দিতে পারেন। ‌ যাদের স্কিন অয়েলি বা কম্বাইন্ড তারা আধা চামচ রোজ ওয়েল দেবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যদি আপনাদের কাছে রোজ ওয়েল না থাকে তাহলে আপনারা এর বদলে আমন্ড অয়েলও দিতে পারেন। যদি তাও না থাকে তাহলে রোজ অয়েল ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন।

কীভাবে রোজ অয়েল বানাবেনঃ

  • বন্ধুরা রোজ ওয়েল বানানোর জন্য নিতে হবে একটি গোলাপ। এই গোলাপের থেকে পাঁচ ছয়টি পাঁপড়ি নিয়ে নিতে হবে এবং এগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। এর ফলে যখন এর থেকে তেল বের করবেন তখন গোলাপের রসটা ভালোমতো বেরিয়ে আসবে।
  • এরপর একটি পাত্রে অলিভ অয়েল নিয়ে নিতে হবে। অলিভ অয়েল না থাকলে আমন্ড ওয়েল নিতে পারেন। এইবার ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে গ্যাসে রাখতে হবে।
  • তবে গ্যাসে ডাইরেক্ট এটি দেওয়া যাবে না। ডবল বয়লার মেথডে ব্যবহার করতে হবে। ডবল বয়লার মেথডে দেওয়ার জন্য একটি প্যানে জল নিয়ে তারমধ্যে আচারের কোটোর মতো একটি ছোট কোটোতে ঢাকনা এঁটে গোলাপের পাপড়ি শুদ্ধ তেল ভরে দিতে হবে। এবার গ্যাস জ্বালিয়ে চার থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।
  • চার থেকে পাঁচ মিনিট পর গ্যাস অফ করে ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে।
  • মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি ছাঁকনি দিয়ে তেলটা ছেঁকে নিন। ব্যাস, আপনাদের রোজ অয়েল রেডি। এটিকে এইবার আপনারা ফ্রিজে রেখে দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাত দিনের মধ্যে এটাকে ব্যবহার করে নিতে হবে। তাই অল্প পরিমাণে এটি তৈরি করে নিলেই হবে।

সিরামের মিশ্রণের মধ্যে এইবার গোলাপ জল নিতে হবে এক চামচ। এসেন্সিয়াল অয়েল এর ক্ষেত্রে টি ট্রি অয়েল ও নিতে পারেন। যাদের ব্রন প্রবণ ত্বক আছে তারা তিন থেকে চার চামচ মিশিয়ে নেবেন। এরপর এর মধ্যে ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিতে হবে তিনটি। এইবার এইসব উপাদান গুলি ভালো মতো মিশিয়ে নিলেই ব্যাস আপনাদের হোমমেড নাইট সিরাম রেডি।

কীভাবে ও কতদিনের জন্য ব্যবহার করা যাবে এই সিরামঃ

  • যদি আপনারা শুধুমাত্র ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এই নাইট সিরাম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এক সপ্তাহ ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
  • যদি আপনাদের ত্বক ব্রণ প্রবণ হয়, তাহলে এতে আপনারা টি ট্রি অয়েলও যুক্ত করবেন। যাদের ব্রণ ও ডার্ক সার্কেলের প্রবলেম হয় তারা এক মাস এটি ব্যবহার করতে হবে।
  • রাতের বেলায় এটি মুখে রেখে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। সারারাতের জন্য মুখে লাগিয়ে রাখলে ভালো ফল পাবেন।
  • অল্প পরিমাণে এই ক্রিমটি ডট করে গোটা মুখে নিয়ে হাত দিয়ে একটু মেখে নিতে হবে।

ঘরোয়া সিরাম কীভাবে সংরক্ষণ করবেন ও কতদিনের জন্যঃ

বন্ধুরা এই সিরামটি সাত দিনের জন্য ফ্রিজের মধ্যে আপনারা রাখতে পারেন। এক মাস ব্যবহার করতে হলে আপনাদেরকে চারবার বানাতে হবে। এই সিরামটি কোন প্লাস্টিকের বোতলের রাখবেন না, অবশ্যই একটি কাঁচের ছোট শিশিতে রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.