খাদ্যসুস্বাস্থ্য

পাকা পেঁপের কিছু উপকারিতা

পাকা পেঁপের কিছু উপকারিতা: পেঁপে খুবই সুস্বাদু এবং মিষ্টি একটি ফল। পেঁপের স্বাদ এবং গুনাগুন এর দিক থেকে সকলের কাছে খুবই প্রশংসনীয়। পেঁপে পুষ্টি গুণাগুণের ভরপুর। পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন এ । এছাড়াও রয়েছে প্রোটিন, পটাশিয়াম ঝ ম্যাগনেশিয়াম সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান।

পাকা পেঁপের কিছু উপকারিতা
 পাকা পেঁপের কিছু উপকারিতা

 

হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

যাদের বদহজমের সমস্যা রয়েছে তারা পেঁপে খেয়ে বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে। এছাড়া দ্রুত খাবার হজম হতে সহায়তা করে ও মুখে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। পেঁপে পেটের কোষ্ঠ পরিষ্কার করে এবং অর্শ রোগীদের জন্য এটা অত্যন্ত উপকারী ও বটে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে

গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত পাকা পেঁপে খায় তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি খুবই কম। পাকা পেঁপেতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সহ ভিটামিন সি, ই, এ রয়েছে। পেঁপের উচ্চ কোলেস্টরল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

 

আরো পড়ুন….

 

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে

গবেষকদের মতে প্রতিদিন পেঁপে খেলে বয়স জনিত চোখের সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাকা পেঁপে বয়স্কদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

পেঁপে অর্শ ও কৃমি প্রতিরোধক

বিশেষ করে পেঁপে কৃমিনাশক হিসেবে ভালো কাজ করে। কৃমি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনি কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে রাখে

পেঁপেতে কোন কোলেস্টরেল নেই। পেঁপেতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার। যারা কোলেস্টোরল সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন।

 

পেঁপে ক্যান্সার প্রতিরোধক

নিয়মিত পেঁপে খেলে ক্যান্সার এর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। পেঁপেতে আছে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, বিটা ক্যারোটিন সহ আরো পুষ্টিসমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

 

এছাড়াও পাকা পেঁপে খেলে ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মুখের কালো দাগ তুলতে সহায়তা করে। খাবারের পাশাপাশি রূপচর্চা হিসেবে পাকা পেঁপে মুখে দাগ বা কালো অংশে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জল ও দাগ মুক্ত হয়।

 

পেঁপে হাড় মজবুত করতে সাহায্য করুন এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম সহ অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান। তাছাড়াও পেঁপে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাঁরা নিয়মিত পেঁপে খেলে ভালো ফল পাবেন।

 

যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে তারা পেঁপে খেলে সহজেই শ্বাসকষ্ট থেকে আরোগ্য লাভ করতে পারে। পেঁপে কিডনি সচল রাখতে সহায়তা করে কিডনির জন্য পেঁপে খুবই উপকারী তাই কিডনি সমস্যা থাকলে নিয়মিত পেঁপে খাওয়া উচিত।

 

যাদের শরীর খুব শুকনা তাদের জন্য পেপের উপকারি পেঁপে খাওয়ার ফলে রোগা শরীর সহজেই ঠিক হয়। কারণ পেঁপে অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পেঁপের ভূমিকা অতুলনীয়।

 

আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিদিনই ফল খাওয়া প্রয়োজন আর পেঁপে একটি আদর্শ ফল। এ জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমরা পেঁপে রাখতে পারি।

 

পেঁপে একদিকে আমাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে শরীর ও মনকে সতেজ রাখবে। পেঁপে একটি মৌসুমী ফল তবে বাংলাদেশি বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের পেঁপের জাত থাকার কারণে আমাদের দেশে কমবেশি প্রায় সারা বছরই পেঁপের উৎপাদন হয়।

আরো পড়ুন….

 

তাই সহজেই পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য আমরা পেঁপে খেতে পারি। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পেঁপে চাষ করা হয়। তবে এটাই চাষ করার ক্ষেত্রে অনেক সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। অন্যথায় পেঁপে গাছ মরে যাবে এর ফলে পেঁপে উৎপাদন হবে না এবং আমরা খেতেও পারব না।

 

বিশেষ করে পেঁপে গাছের গোড়ায় পানি জমলে শিকড় পচে যায় এবং গাছ মরে যায়। এজন্য বর্ষাকালে পেঁপের উৎপাদন তুলনা মূলক অনেকটাই কম হয়। তাই বর্ষাকালে পেঁপে গাছ লাগালে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

 

যাতে পেঁপে গাছের গোড়ায় পানি জমতে না পারে। প্রয়োজনে গাছের গোড়া উঁচু করে দিতে হবে। এছাড়াও যারা বাণিজ্যিক ভাবে পেঁপে চাষ করেন তাদের ক্ষেত্রে আরো বেশি সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।

 

কারণ পেঁপে গাছে অনেক সময় ভাইরাসের আক্রমণ হয়। এতে পেঁপে ও পেঁপে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য উচিত হবে ভাইরাস প্রতিরোধে কোন ঔষধ ব্যবহার করা। অথবা আক্রান্ত গাছ কেটে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা অথবা পড়ে ফেলা।

 

যাতে বাগানের অন্যান্য গাছ গুলোতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে এবং গাছ ও পেঁপে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। যদিও পেঁপে গাছে তে এমন একটা রোগ বা ভাইরাসের আশঙ্কা নেই।

 

তবে বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক ও বিভিন্ন মৌসুমে মাঝে মাঝে পেঁপে গাছে ভাইরাস সহ বিভিন্ন রোগ এর আক্রমণ হয়। তাছাড়া আমাদের দেশে রয়েছে পেঁপের প্রচুর চাহিদা। তাই এই সমস্যা গুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে বাণিজ্যিক ভাবে পেঁপে চাষ করে সফল হওয়া যায়।

 

কারণ পেঁপে সবার কাছে একটি অত্যন্ত পছন্দের ফল এবং এটা বেশ সুস্বাদু। পেঁপে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে পেঁপে খাওয়ার ফলে মানসিক ভাবে অনেকটাই টেনশন মুক্ত থাকা যায়।

 

তাই আমাদের নিয়মিত পেঁপে খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। পেঁপের গুনাগুন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক থেকে খুবই প্রশংসনীয়।

 

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অসুস্থ ব্যক্তি দের ডাক্তাররা অনেক সময় পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেয়। কারণ পেঁপে তে অনেক গুলো রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। এজন্য অসুস্থ পেঁপে খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। পেঁপের পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা বর্ণনা করে বলে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে আপনি সুস্থ ও সবল থাকতে নিয়মিত পেঁপে অবশ্যই খাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.