ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

ফুসফুস সুস্থ রাখার উপায় এবং ফুসফুস রোগের মূল কারণ

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটা মুহূর্তে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া প্রয়োজন। এক মুহূর্ত আমরা নিঃশ্বাস ছাড়া বেঁচে থাকতে পারিনা। আর আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য প্রধানত ফুসফুস কাজ করে থাকে। এজন্য ফুসফুস আমাদের দেহের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং শ্বাস নেয়ার জন্য অবশ্যই ফুসফুস সুস্থ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ লোকই ফুসফুস এর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টে ভুগছে অগণিত মানুষ। তবে বিশেষ করে ফুসফুস রোগের সমস্যা আমাদের বাংলাদেশ অনেক বেশি।

ফুসফুস সুস্থ রাখার উপায় এবং ফুসফুস রোগের মূল কারণ


তবে এর মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং পরিবেশ পরিস্থিতি। আমাদের দেশের অগণিত মানুষ শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছে। তবে আমরা পরিবেশ পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে যদিও ফুসফুসের সমস্যায় পড়তে পারি।

কিন্তু সমস্যাটা বড় কথা নয় সমস্যাটা সমাধান করে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে পারাটাই আসল কথা। এজন্য অবশ্যই আমাদের সচেতন থাকতে হবে এবং ফুসফুস ভালো রাখার জন্য সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। কারণটা আগেই বলেছি ফুসফুস আমাদের শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন…


ফুসফুস রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ

ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ অসাবধানতা। হ্যাঁ একদমই ঠিক ফুসফুস ভালো রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি গুলো মেনে চলতে হবে। অন্যথায় আমাদের বিভিন্ন রকম ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।


তাছাড়াও আমাদের বাংলাদেশ আগেকার সময় যক্ষা রোগের সংক্রামন বেশি ছিল। তবে এর মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবে। আর তার থেকেও বড় কারণ হল বাংলাদেশের মানুষের ভিতরে যক্ষা রোগ এর গণ সচেতনতা ছিল না।

তবে খুশির কথা হচ্ছে বর্তমানে এই সমস্যাটা এখন নেই বললেই চলে। কারণ বর্তমানে মানুষ অনেক সচেতন হয়ে গেছে এবং যক্ষা রোগের সংক্রমণ একদমই কমে গেছে।

ফুসফুস এর শত্রু

আমরা অবশ্যই জানি ধূমপান আমাদের ফুসফুসের জন্য এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর।দীর্ঘদিন ধূমপান করার ফলে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে যায়। এছাড়াও হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্ট সহ নানা রকম মারাত্মক কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

তাছাড়াও ধূমপান আমাদের ফুসফুস সহ স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকারক তা সংক্ষিপ্ত ভাবে ব্যাখ্যা করে বলা সম্ভব নয়।কিন্তু তবুও তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত ধূমপানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। যদিও তরুণ সমাজ ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো ভালো করেই জানে।


তাছাড়া বর্তমানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক গুলো ভালো ভাবে উপস্থাপন করা হয়। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে বর্তমানে মেয়েরাও ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে।

শুধু ধূমপান নয় বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকারক নেশাদ্রব্য সেবন করতে শুরু করেছেন এবং মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এরা নেশাদ্রব্যের ক্ষতিকারক দিকগুলো খুব ভাল করে জানা সত্ত্বেও তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের ক্ষতি করে চলেছে।


এছাড়াও রয়েছে বায়ু দূষণ, বাংলাদেশের অনেক বড় একটি সমস্যা হচ্ছে বায়ু দূষণ। আমাদের দেশের বায়ু কতটা দূষিত তা শহরে গেলেই স্পষ্টভাবে ধারণা পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে গ্রাম শহর সব জায়গার বায়ু দূষিত অবস্থানে আছে।

বিশেষ করে ইটের ভাটা এবং বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর কল-কারখানার নির্গত হওয়া গ্যাস এবং ধোঁয়া। যা আমাদের স্বাস্থ্য এবং ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সমস্যা বয়ে আনে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষিত সমাজ এবং জ্ঞানী ব্যক্তিরা এসব ব্যাপারে একদমই সচেতন নয়।


বায়ু দূষণ আমাদের ফুসফুসের জন্য যেরকম ক্ষতিকর তেমনি জলবায়ুর জন্য মারাত্মক সমস্যা বয়ে আনে। বায়ুদূষণ হওয়ার ফলে আমাদের ফুসফুসে ক্ষতি তো হচ্ছেই পাশাপাশি জলবায়ুর উপরে খারাপ প্রভাব পড়ছে। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এবং পরিবেশ পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার জন্য দায়ী।

এক্ষেত্রে জলবায়ু ঠিক রাখার জন্য আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের বসবাসকৃত পৃথিবী এবং আবহাওয়া আমরা নিজেরাই খারাপ করে দিচ্ছি। এছাড়াও রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত চলার পথে বিভিন্ন রকম ধোয়া এবং ধুলাবালি আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে।


যা ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকারক, এইজন্য রাস্তাঘাটে চলার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাক্স ব্যবহার করা উচিত। আমরা বাসায় মশার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মশার কয়েল ব্যবহার করি। যা আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কোন মানুষ একদমই সচেতন নয়।

রান্না করার সময় চুলার ধোয়া ফুসফুসে প্রবেশ করে যা ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস ভালো রাখতে অবশ্যই আমাদের ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু গুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। কারণ আজ ফুসফুসে কোন সমস্যা হচ্ছে না তাই বলে ভবিষ্যতে যে কখনো হবে না এমনটা কিন্তু একদম নয়।


এজন্য এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ ফুসফুস রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে তখন সতর্ক হয়ে ফুসফুস আর কতটাই বা ভাল রাখা যায়। এজন্য সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত এবং ফুসফুস ভালো রাখার প্রতি সতর্ক হওয়া দরকার।

ফুসফুস ভালো রাখার উপায়

ফুসফুস ভালো রাখার জন্য অবশ্যই প্রথমত আপনাকে নিজেকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি ফুসফুস ভালো রাখার ইচ্ছে থাকলে ধূমপান কখনোই করা যাবে না এবং নেশাদ্রব্য ত্যাগ করতে হবে। অবশ্যই সুষম খাদ্য খেতে হবে, আর খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে খাবার গুলো খাচ্ছেন সেগুলো স্বাস্থ্য সম্মত এবং প্রাকৃতিক কিনা।


ধুলাবালি এবং ক্ষতিকর ধোয়া গুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। অবশ্যই দিনে কিছুটা সময় হলেও মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুটা সময় হলেও শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলন করা প্রয়োজন। কারণ বিভিন্ন রকমের ব্যায়াম আপনার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

এবং আপনার ফুসফুস সুস্থ সবল ও শক্তিশালী রাখবে। এজন্য ফুসফুস ভালো রাখার ক্ষেত্রে শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলনে কখনো অবহেলা করবেন না।

ফুসফুস ভালো রাখতে পরোক্ষ ধূমপান এড়ানো

অবশ্যই যারা ধূমপান করে তাদের থেকে এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে যখন ধূমপান করে তখন ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। এই ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফুসফুস বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। যে ব্যক্তি ধূমপান করে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার আশেপাশে যাদের ফুসফুসে ধোঁয়া প্রবেশ করে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফুসফুস ভালো রাখতে গাছপালা

গাছ ফুসফুসের বন্ধু বলা চলে কারণ গাছ আমাদের অক্সিজেন প্রদান করে এবং আমরা নিঃশ্বাসের সাথে যে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করি সেটা গাছ গ্রহণ করে। তাই আমাদের ফুসফুস ভালো রাখার জন্য এবং পরিবেশ ভালো রাখার জন্য গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


গাছ আমাদের বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর কার্বণ-ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে। তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগান। কথাটা অবশ্যই খুব পরিচিত কিন্তু আমাদের ভিতরে তেমন কোনো লোকই মানেন না। এবং আমাদের ভিতরের কম লোকই আছে যাদের গাছের প্রতি এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।

তবে আমরা তো প্রতিনিয়তই গাছ এবং প্রকৃতির ক্ষতি করে চলেছি। আপনার বাড়ির চারপাশে গাছ লাগাতে পারেন। যা আপনাকে অক্সিজেন সরবরাহ করবে এবং আপনার ফুসফুস সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি পরিপূর্ণ একটি অক্সিজেন যুক্ত জায়গা আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

ফুসফুস ভালো রাখতে অবশ্যই ব্যায়াম করুন

ফুসফুস ভালো এবং সুস্থ-সবল রাখার জন্য ব্যায়াম অনেক উপকারী। প্রতিদিন অন্তত 30 মিনিট ব্যায়াম করতে পারেন। 30 মিনিট ব্যায়াম তেমন বেশি সময় নয় এবং কষ্টসাধ্য নয়। ব্যায়াম করার ফলে আপনার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়।

এতে আপনার ফুসফুসের ব্যায়াম হয় ফলে ফুসফুস ভালো থাকে। ফুসফুস ভালো থাকার পাশাপাশি ব্যায়ামের রয়েছে হাজারো রকম রোগের উপকারিতা এবং সমাধান।

আরও পড়ুন…


ফুসফুস ভালো রাখার খাবার সমূহ

অবশ্যই সর্বদা প্রাকৃতিক এবং তাজা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এবং বিভিন্ন প্রকার মৌসুম প্রিয় ফল ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ভালো। শীতকালীন সবজি হিসেবে টমেটো ফুসফুস ভালো রাখতে এবং বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণা হতে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও ফুসফুস ভালো রাখতে বাদাম খেতে পারেন। বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং খনিজ পদার্থ সহ নানা রকম স্বাস্থ্যকর উপাদান। যা আপনার ফুসফুস ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরের অনেক উন্নতি ঘটায়।


রসুন এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত, ফুসফুস ভালো রাখার জন্য নিয়মিত রসুন খেতে পারেন। রসুন আপনার ফুসফুস ভালো রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখবে।

ফুসফুস পরিষ্কার এবং সুস্থ রাখতে নিয়মিত মধু খেতে পারেন। মধু ফুসফুস ভালো রাখার সহজ আমাদের শরীরের অগণিত সমস্যার সমাধান এবং অত্যন্ত উপকারী।


পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, প্রচুর পরিমাণে পানি আপনার রক্ত চলাচলের মাত্রা সঠিক রাখতে এবং ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *