ব্যায়ামসুস্বাস্থ্য

ব্যায়াম করে দ্রুত বডি বানানোর উপায়

প্রাকৃতিক ভাবে বডি বানানোর জন্য ব্যায়াম এর কোন বিকল্প নেই। আপনি যদি বডি বিল্ডার হতে চান আপনার শরীরের পেশি গুলোর সুগঠিত এবং সুন্দর করতে চান অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে সবার ক্ষেত্রেই একটা সমস্যা দেখা যায় যায় যে ব্যায়াম করে পেশী সুগঠিত করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে অতিরিক্ত ব্যায়াম করে উল্টো শারীরিক গঠন খারাপ করে ফেলে।

ব্যায়াম করে দ্রুত বডি বানানোর উপায়
ব্যায়াম করে দ্রুত বডি বানানোর উপায়


এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশী খুব শক্ত এবং বাঁকা হয়ে যায়। তাই বেশির ভাগ ব্যক্তির ব্যায়াম করে সুগঠিত বেশি করার স্বপ্ন পূরণ শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এবং শুরুতে আপনি তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ করবেন না। কিছুটা সময় এবং ধৈর্য অবশ্যই আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে সহায়তা করবে।



শারীরিক ব্যায়াম করার পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।শরীরের পেশি সুগঠিত করার জন্য আপনাকে যে জিমে যেতে হবে এমনটা নয়।

আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বাড়িতে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন। তবে আপনার যদি জিমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে আরো ভালো।

ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে আপনি যদি একদম নতুন হন তাহলে শুরুতেই আপনার ভারী ব্যায়াম করা একদমই উচিত নয়। প্রথম অবস্থায় হালকা ব্যায়াম করতে হবে কিছুদিন এরপর আস্তে আস্তে সমর্থন অনুযায়ী আপনার ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।


এক্ষেত্রে প্রথম দিকে আপনি খালি হাতের ব্যায়াম করতে পারেন। অথবা হালকা কিছু ব্যায়াম যেমন দড়ি লাফ দেয়া। শুরুতে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যতক্ষণ পারেন দড়ির লাফ দিতে পারেন।

দশ মিনিট করে দৌড়াতে পারেন কয়েক ধাপে। এছাড়া আপনার পছন্দ মত নানা রকম ব্যায়াম করতে পারেন। কিছুদিন হালকা ব্যায়াম করার পর আস্তে আস্তে আপনি ভারী ব্যায়াম শুরু করতে পারেন।

তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন ভারী ব্যায়াম শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থাতে বেশি ওজনের ডাম্বেল বারবেল দিয়ে ব্যায়াম করবেন না। প্রথম অবস্থায় সমর্থ অনুযায়ী অল্প ওজন দিয়ে ব্যায়াম করবেন।


কারণ শরীরের অতিরিক্ত ওজন আপনার বডি বিল্ডিং হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। আর আপনি যদি 18 থেকে 20 বছরের কম বয়সের হয়ে থাকেন। তাহলে ভারী ব্যায়াম করা একেবারেই উচিত নয়। এতে আপনার বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

তাছাড়াও ভারী ব্যায়াম করার ফলে পেশীর উপরে খুব চাপ পড়লে পেশী সঠিক ভাবে বাড়তে পারে না। তবে আমাদের ভিতরে বেশির ভাগ লোকই হাতের দুই বাহুতে গুরুত্ব বেশি দেয়।

এরা মনে করে শক্তির মূল কেন্দ্র হয়তো দুই বাহুতে। আসলে কথাটা একেবারেই ভুল শক্তির মূল কেন্দ্র শরীরের তিনটি অংশে


শরীরে শক্তির কেন্দ্রগুলো গুলো হলো:

০১. পেটের পেশী

০২. কোমরের মধ্যে অংশ

০৩. দু পায়ের পেশি


আপনি যদি বডি বিল্ডার হতে চান এবং সুগঠিত পেশী চান তাহলে অবশ্যই আপনার শরীরের এই তিনটি জায়গার উপরে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে এই তিনটি অংশের ভিতরে পেটের পেশী সুগঠিত করতে কিছুটা বেশি সময় প্রয়োজন।

কারন আমরা যারা বডি বিল্ডিং এর স্বপ্ন নিয়ে ব্যায়াম শুরু করি এদের ভিতর অনেক লোক থাকে যাদের অনেক বেশি আর এই অতিরিক্ত মেদ কমাতে বেশ অনেকটাই সময় প্রয়োজন। তবে অসম্ভব যে সেটা একদমই নয় ধৈর্য ধারণ করে কষ্ট সহ্য করে এগিয়ে যেতে হবে।

আর যাদের মেদ কম তাদের ক্ষেত্রে সহজেই পেটের পেশী সুগঠিত করা সম্ভব। পেটের ব্যায়াম শুরুতে করতে খুব কষ্ট হতে পারে তবে নিয়মিত ধৈর্য ধারন করে করতে থাকুন ফলাফল আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন।


এভাবে আপনি কিছুটা সময় ব্যায়াম করার ফলে একটা সময় আসবে যখন আপনি কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই সহজেই সকল ব্যায়াম করতে পারবেন।

আসল কথা আপনার সবকিছু আয়ত্তে নিয়ে এসে যাবে। তখন আপনার একঘেমি অলসতা থাকবে না যতটা শুরুর দিকে ছিল।

এর ফলে ধীরে ধীরে আপনার পেশীগুলো সুগঠিত হতে থাকবে এবং বৃদ্ধি পাবে। তবে নিয়মিত আপনার শরীরের যত্ন নিতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম খাবার-দাবার এর পরিমাণ একটু বাড়াতে হবে।


খাবার দাবার এর পরিমাণ বাড়ানো বলতে  আপনাকে কিন্তু আমি অতিরিক্ত খাওয়ার কথা কিন্তু বলিনি পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খেতে হবে। যা আপনার ব্যায়াম করার ফলে শরীর থেকে ক্ষয় হওয়া ক্যালোরি পূরণ করতে সহায়তা করবে।

এবং বিশ্রামের ফলে আপনার শরীরে নতুন নতুন কোষ বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেকটি ব্যায়াম করার পর 30 সেকেন্ড করে অবশ্যই বিশ্রাম নেবেন।

তবে এই বিশ্রাম এর সময়টা যাতে বেশি হয়ে না যায় যতই আপনি ক্লান্ত থাকেন না কেন। কারণ এতে হঠাৎ করে আপনার শরীরে অলসতার চলে আসতে পারে এবং ব্যায়াম করার আগ্রহ টা কমে যেতে পারে।


ব্যায়াম শেষে যত ক্লান্ত হন না কেন আর যতই পিপাসা লাগুক সাথে সাথে পানি খাবেন না। তবে একদমই প্রয়োজন হলে সামান্য পরিমাণে পানি পান করতে পারেন। কিছুক্ষণ পর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এবং কোন ফলমূল অথবা পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত কিছু খাবার খাবেন।

এতে ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরে ক্ষয় হওয়া ক্যালরি পুরনো সহায়তা করবে। এছাড়াও আরো কিছু পুষ্টিকর খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যেমন ডিম, দুধ, মাছ, মাংস বিভিন্ন প্রকার সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি

তবে দুধ এবং মাংস গুলো অতিরিক্ত খাবেন না। সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পরিমান মত খেতে হবে অতিরিক্ত খেলে উপকার এর বদলে উল্টো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


বডি বিল্ডার হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন

।।অসংখ্য ধন্যবাদ।।

2 Comments

  1. পুষ্টিকর খাবার বলতে একজন ২৩/২৪ বছরের ছেলের জন্য খাবার তালিকায় কি কি খাবার রাখলে উপকার বেশি হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *