ফিটনেসব্যায়ামসুস্বাস্থ্য

ব্যায়াম না করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর

সুস্থ থাকার জন্য শারীরিক ব্যায়াম এর কোন বিকল্প নেই এ কথা আমরা কম বেশি সবাই ভালো করে জানি। কিন্তু জানা সত্ত্বেও আজকাল কজনই বা কথাগুলো মানে এবং গুরুত্ব দেয়। ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেরকম জরুরি দিনের না করা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই ব্যায়াম না করলে আমাদের অনেক বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।

ব্যায়াম না করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর
ব্যায়াম না করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর

হয়তো আজ হবে না কাল হবে না কিন্তু পরশু অবশ্যই হবে। কিন্তু বিশেষ করে আমাদের বাঙালিরা বেশির ভাগই বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়লে এবং বড় কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে তখনই ব্যায়াম করার দিকে মনোযোগ দেয়।

তবে সময় ফুরিয়ে গেলে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে গেলে তখন ক্ষতিটা কে পুনরায় সংশোধন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসাটা কোনো সহজ কাজ নয়। তাই আপনারা অবশ্যই সময় থাকতে সাবধান হোন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার দিকে মনোযোগ দিন।


অবশ্যই মনে রাখবেন ব্যায়াম ছাড়া কখনোই সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। তাতে আপনি যত ভালো কোম্পানির এবং ভালো মানের ঔষধ সেবন করুন না কেন। আসলে ঔষধ আপনাকে কখনোই সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ রাখতে পারেনা বরং উপকারের পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে।

কিন্তু সবাই তো একটা ভুল ই করে থাকে যখন কোন রোগে আক্রান্ত হয় এবং কোন বড় সমস্যা পরে। তখন ডাক্তারের কাছে যায় এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যায়াম করে কিন্তু তার আগেই ব্যায়ামের কথা একবারও মনে করে না।

আরো পড়ুন…


কিন্তু আগে থেকেই সতর্ক থাকলে এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে হাজারো রকমের রোগ থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়া যায়। সত্যি বলতে ব্যায়াম না করা ধূমপান করার থেকেও মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ ধূমপান করলে মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে এ কথা আমরা সবাই জানি।

কিন্তু ব্যায়াম না করলে ধূমপান করলে যে রোগে আক্রান্ত হয় তার থেকেও বড় ধরনের রোগাক্রান্ত হয়ে পরতে হয় একথা বলা যায় কেউই জানেনা।

কেন ব্যায়াম করবেন

ব্যায়াম আপনার শরীরের অবনিত রোগের উপকার করে থাকে যা আপনি নিজেও জানেন না। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার ফলে সহজেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ছোট বড় সকল ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

ফলে আপনি সহজেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকতে পারেন। কিন্তু ব্যায়াম না করে অলস অবস্থায় আপনি কখনো এতটা সুস্থ থাকতে পারবেন না যতটা সুস্থ আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে থাকবেন।


এছাড়া আপনার শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে। একজন অলস ব্যক্তির চেয়ে যে নিয়মিত ব্যায়াম করে সে অবশ্যই শক্তিশালী। শারীরিক ব্যায়াম করলে কর্ম ক্ষমতা এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায় একথা অবশ্যই কম বেশি সবার জানার কথা।

কারণ ব্যায়াম এবং পরিশ্রম করা ব্যক্তিদের শারীরিক সক্ষমতা বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শারীরিক সক্ষমতা বেশি থাকার পাশাপাশি শরীরে রোগ মুক্ত এবং সুস্থ থাকে।

অতিরিক্ত ব্যায়াম এর ক্ষতিকর দিক

সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম তো অবশ্যই করবেন। তবে কখনই আপনার সামর্থের বাইরে অতিরিক্ত ব্যায়াম করবেন না।অতিরিক্ত ব্যায়াম আপনার শরীরের জন্য উপকারী নয় বরং ক্ষতিকর। তবে শুরুর দিকে আপনাকে অল্প ব্যায়াম করতে হবে এবং ক্রমশ সমর্থ অনুযায়ী দেন এর মাত্রা বাড়াতে পারেন।

কিন্তু শুরুতেই অতিরিক্ত ব্যায়াম আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেও ভালো নয়। কিছুটা সময় ব্যায়াম করার পরে আস্তে আস্তে আপনার ব্যায়াম করা টা অভ্যাসে পরিণত হবে এবং আপনি শুরুর তুলনায় বেশি সময় ধরে শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলণ করতে পারবেন।


অতিরিক্ত ব্যায়াম করার ফলে সহজেই আপনার শরীরে অনেক ক্লান্তি চলে আসে। এবং শরীরে ব্যথা অনুভব হতে পারে এছাড়াও খাদ্য ঘাটতির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় ব্যয়াম করা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ অসুস্থ অবস্থায় আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন বিশ্রাম কিন্তু তখন যদি আপনি শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করেন সেটা হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

তবে যদি কখনো শরীর খারাপ লাগে এবং ব্যায়াম করার মতো শরীরে শক্তি অনুভব না করেন তাহলে ওই দিন ব্যায়াম করার দরকার নেই। কারণ অসুস্থ শরীর কখনোই আপনার শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করতে পারবেনা। ফলে আপনার শরীর আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

ভালো ঘুমের জন্য ব্যায়াম

ভালো ঘুম আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে আমাদের ভিতরে বেশির ভাগ লোকেরই রাতে ভাল ঘুম হয় না। তবে রাতে রাতে ঘুম হয় না তাদের জন্য শারীরিক ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো একটি সমাধান।

কারণ ব্যায়াম করলে শরীরের ক্লান্তি আসে এবং সহজেই রাতে গভীর ভাবে ঘুমানো সম্ভব হয়। আর রাতে গভীর ঘুম হলে অবশ্যই আমাদের শরীরের ক্লান্তি কেটে যাবে এবং ভেতর থেকে আমরা নিজেদের অনেক তাজা অনুভব করতে পারব।

ব্যায়াম করলে অবশ্যই শাকসবজি খান

শারীরিক ব্যায়াম করলে শরীরের জন্য শাকসবজি অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। তাছাড়াও সবুজ শাক সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান।

যা আমাদের মানব দেহকে সুস্থ-সবল এবং রোগমুক্ত রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে শাক সবজিতে এত পরিমাণে উপকারিতা রয়েছে যা সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।

তাই প্রাকৃতিক শাক সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে একদম অলসতা করবেন না। সবুজ শাক সবজিতে এমন কিছু পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে যা আমরা অন্য কোথাও পাবো না। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক সবজি রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।

ব্যায়াম করার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য

এটা সত্য যে শারীরিক ব্যায়াম করলে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকে এমনটা নয় পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি ঘটে। এবং মানসিক ভাবে অনেক বেশি সুস্থ থাকা সম্ভব।

কারণ আমাদের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে আমাদের মন ভালো থাকার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ব্যায়াম করলে আমাদের শরীর ভালো থাকে তাই মানসিক স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি ঘটে।


শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করলে মানসিক ভাবে অনেক হালকা এবং সতেজ থাকা যায়।  এছাড়াও শারীরিক ব্যায়াম মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

এজন্য মানুষের ডিপ্রেশন দূর করার জন্য ব্যায়াম খুবই কার্যকরী। তবে একথা অবশ্যই ঠিক যে ব্যায়াম শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়

শারীরিক ব্যায়াম আমাদের মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম করলে আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে সঠিক ভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে এবং মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে।

ব্যায়াম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে পাশাপাশি আমাদের স্মৃতি শক্তি মজবুত এবং বৃদ্ধি করে। তবে যাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল তারা যোগাসন অনুশীলন করতে পারে। কারণ যোগ ব্যায়ামের ভিতরে এমন কিছু আসন আছে যা আমাদের মস্তিষ্ক এবং স্মৃতি শক্তির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ব্যায়াম করার অলসতা

ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে অলসতা এটা সবার ক্ষেত্রে একটি পরিচিত সমস্যা। কারন আমরা বেশির ভাগ লোকই ব্যায়াম করতে চাই কিন্তু অলসতা কাটিয়ে ব্যায়াম করার শুরু করতে পারি না।

তবে ব্যায়াম করতে হলে অবশ্যই অলসতা দূর করতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একবার ব্যায়াম শুরু করলে অলসতা অতি সহজেই দূর হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন…


তবে ব্যায়াম করা নিয়ে ভয় না পেয়ে আপনি অন্তত প্রতিদিন অল্প অল্প করে শুরু করুন। কারণ পরিশ্রম করতে অনেকেই ভয় পায়। তাই কম পরিশ্রম করে অল্প অল্প করে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুললে একসময় অলসতা একদম দূর হয়ে যাবে।

আর একবার অলসতা দূর হয়ে গেলে তারপর থেকে ব্যায়াম করতে আর কখনোই সমস্যা হবে না। জীবন তো একটাই তাই যত দিন বাঁচবেন অবশ্যই সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকা উচিত।

তাই অলসতা করে এখন থেকেই সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *