সুস্বাস্থ্য

মস্তিষ্ক শক্তিশালী, সুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়

মস্তিষ্ক আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা চলে। আমাদের দেহ এবং মন পরিচালনার মূল কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক। তাই অবশ্যই আমাদের মস্তিষ্কের সঠিক ভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এক মুহূর্তের জন্য যদি মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয় তাহলে আমাদের মারাত্মক বিপজ্জনক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

মস্তিষ্ক শক্তিশালী, সুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়
মস্তিষ্ক শক্তিশালী, সুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়


তাই মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে সাথে সবকিছু পরিচালিত করতে পারে এবং সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে পারেন এ ব্যাপারে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। সুষ্ঠুভাবে কাজ করার পাশাপাশি আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিনিয়তই যুগের সাথে সাথে উন্নত এবং বেশি কার্যক্ষমতা সম্পন্ন গড়ে তুলতে হবে।

কারণ আপনার মস্তিষ্কে শক্তি থাকলে আপনার কাছে পৃথিবীর কোন কিছুই অসম্ভব নয়। আপনি ইচ্ছে করলে পুরো বিশ্বকে আপনার মস্তিষ্কের জ্ঞান দ্বারা বদলে দিতে পারেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মস্তিষ্ক প্রদান করেছেন। তবে আমাদের মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং মস্তিষ্ক এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।


কারণ কথায় আছে দুর্বল মস্তিষ্ক বা জ্ঞানহীন ব্যক্তি পশুর সমান। আর আমরা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ আমাদের অবশ্যই সর্ব সেরা কাজ গুলো করতে হবে। আমাদের এমন কিছু প্রদর্শন করতে হবে যা আমরা মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী কখনই করতে পারবেনা।

আর এই মানুষ গুলোর ভিতরে আমাদের বিশেষ কিছু মানুষের তালিকায় অবশ্যই থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারন আমরা মানুষ সীমিত কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীতে বেঁচে থাকব কিন্তু আমাদের কর্ম এবং আমাদের দক্ষতার প্রশংসা মানুষ হাজার হাজার বছর মনে রাখবে।

আরও পড়ুন…..


তবে অবশ্যই আমাদের প্রশংসা অর্জন করার মত এবং মানুষের স্বার্থে কোন না কোন কাজ অবশ্যই করতে হবে। তবে কোনো কিছুই আমরা মস্তিষ্কের শক্তি ছাড়া করতে পারবোনা। এজন্য অবশ্যই আমাদের মস্তিষ্ক সাধারন মানুষের তুলনায় বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন করতে হবে।

না হলে আমরা বিশেষ কিছু মানুষের তালিকায় না যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের তালিকায় থেকে যাব। তবে এ ছাড়াও অবশ্যই আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্ম ক্ষমতা সম্পন্ন মস্তিষ্কের প্রয়োজন আছে।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যায়াম

আপনি ভুল শুনেননি একদমই সঠিক শুনেছেন, হ্যাঁ মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। কারণ মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের একটি অংশ আমাদের শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখতে হবে। না হলে মস্তিষ্ক কিভাবে সুস্থ থাকবে। আর সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো আমাদের মস্তিষ্ক শরীরের 30% শক্তি ব্যবহার করে।


তাই মস্তিষ্ক সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য আমরা কোন শারীরিক পরিশ্রম না করলেও আমাদের শরীরের কিছুটা শক্তি মস্তিষ্ক ব্যবহার করে। তাছাড়া শরীর ভালো না থাকলে কখনোই মন ভালো থাকবে না। আর আমাদের মন খারাপ থাকলে সেটার প্রভাব আমাদের মস্তিষ্কের উপরে পড়ে।

ফলে মস্তিষ্ক তার সঠিক কার্য ক্ষমতা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। তাই মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য শারীরিক ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।


তাছাড়া এমন কিছু ব্যায়াম রয়েছে যা মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । ফলে মস্তিষ্ক বেশি কর্ম ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে। মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই প্রতিদিন একদম সকালে 30 মিনিট শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই করবেন।

মস্তিষ্ক সুস্থ এবং শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মাত্র 30 মিনিট ব্যায়াম আপনার শরীর রোগমুক্ত এবং সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আপনার মন ভালো রাখবে এবং সারাদিন আপনি অনেক সতেজ অনুভব করতে পারবেন। যা আপনি সকালে শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলণ করার আগে কখনোই অনুভব করেননি।

মস্তিষ্ক ভালো রাখতে বই পড়ুন

বই আমাদের জীবনের আপন একটি বন্ধু। বই জ্ঞান অর্জনের অনেক বড় একটি উৎস। বিশেষ করে পৃথিবীর বিখ্যাত প্রায় সকল ব্যক্তিরাই প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে বই পড়তেন। তারা হাজারো ব্যস্ততার মাঝে বই করতে কখনোই ভুলতে না।


আর জ্ঞানী ব্যক্তিদের কথা তো না বললেই নয়। তাছাড়াও বই আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ু তন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে। তাই এটা স্বাভাবিক যে মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি বই করার মাধ্যমে আমাদের অনেক জ্ঞান অর্জন হবে। আর জ্ঞান এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন সম্পদ হতেই পারে না।

তাছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ম্যাগাজিন পত্রিকা সহ বিভিন্ন জোকস এর বই বা গল্পের বই জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। এজন্য আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই ঘন্টা মনোযোগ সহকারে বই পড়তে কখনো অলসতা করবেন না।

নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা

নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা আপনার মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ভালো। তাই কৌতুহলী হয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাছাড়া আপনার মাতৃভাষা বাদে নতুন নতুন বিভিন্ন ভাষা শেখার চেষ্টা করতে পারেন।

এটা আপনার স্মৃতিশক্তি মজবুত এবং বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে পাশাপাশি মস্তিষ্ক ভালো রাখবে। তাছাড়াও নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয়বস্তু শেখার ফলে আমাদের ভিতরে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ফলে আমরা যে কোন কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই এবং সফলতার লক্ষ্যে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারি।


বিশ্বের বড় বড় জ্ঞানী ব্যক্তিরা খুবই কৌতুহলী ছিলেন এবং তারা নতুন নতুন বিষয় বস্তু শিখতে এবং সেটা সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তবে কোনো ক্ষেত্রে এমনটা ভাববেন না যে এটা শিখে কি করব এসব আমার কখনো কোন কাজে আসবে না।

তবে অবশ্যই মনে রাখবেন আপনি যেকোন কিছুই শেখার না কেন। সেটা আপনার কখনোই বিফলে যাবেনা কোন না কোন কাজে অবশ্যই আসবে। তবে আপনার আজ কোন কাজে নাও আসতে পারে। তবে ভবিষ্যতে কোনো না কোনো সময় অবশ্যই দেখবেন এই কৌতূহলবশত কিছু শিক্ষা আপনার বড় কোনো উপকার করেছে।

কারো উপরে নির্ভরশীল হওয়া বন্ধ করুন

হ্যাঁ কারো উপরে নির্ভরশীল হওয়া অবশ্যই বন্ধ করুন তবে এটা হতে পারে কোন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র অথবা কোন ব্যক্তি।উদাহরণ স্বরূপ এরকম যে, আপনি কোন গণিত সমাধান করছেন। এটা ক্যালকুলেটর ছাড়া নিজে নিজে হিসাব করে বের করা সম্ভব।


এক্ষেত্রে আপনি ক্যালকুলেটর এর উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করে সমাধান করতে পারেন। পাশাপাশি কোন ব্যক্তি বা মানুষের ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে কোন কাজ বা কোন প্রশ্নের উত্তর আপনি অন্য কারো মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে এসব ক্ষেত্রে আপনার মস্তিষ্ক অলস হয়ে পড়ে এবং তার সঠিক কর্ম ক্ষমতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। আপনি অবশ্যই যে কোন কিছু নিজের মস্তিষ্ক দ্বারা চিন্তা করে নিজের সমাধান করার চেষ্টা করবেন। শুরুতে আপনি অনেক সময় ব্যর্থ হলেও এক সময় আপনি নিজেই যেকোনো কিছু সমাধান করতে পারবেন মনে রাখবেন। আপনার দ্বারা কোন কিছুই অসম্ভব নয়।

পর্যাপ্ত পরিমাণে অবশ্যই ঘুমাবেন

মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য পরিমিত পরিমাণে অবশ্যই ঘুমাতে হবে। আপনার মস্তিষ্ক সক্ষম রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সারা দিন কোনো না কোনো কিছু ভাবি কিছু না কিছু অবশ্যই করি।

মস্তিষ্ক শক্তিশালী, সুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়


সারাদিন এত কিছুর পরে আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক অবশ্যই পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে বিশ্রামের জন্য অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে ঘুমানো দরকার। পরিমিত পরিমাণে কোন আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।

মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য সুষম খাবার

মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই আমাদের সুষম এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য গুলো যেন প্রাকৃতিক হয়। মস্তিষ্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি খেতে পারেন।

তাছাড়াও সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। সামুদ্রিক মাছ আপনার মস্তিষ্ক ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরের ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করবে। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার জন্য মিষ্টি কুমড়ার বিচি উপকারী।


আর অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের দেহের দূষিত এবং বর্জ্য পদার্থ দূর হওয়ার পাশাপাশি দেহে পানিশূন্যতা পূরন হবে। এবং মস্তিষ্ক সচল ওর সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।

মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ফল আমাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখে পাশাপাশি আমাদের মস্তিষ্ক সুস্থ সবল রাখে। মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

আরও পড়ুন….


বিশেষ করে প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে। কারণ এসব কৃত্তিম খাবার আমাদের শরীরের জন্য যে রকম ক্ষতিকর তেমনি মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব খাবারে তেল, চর্বি সহ নানা রকমের রাসায়নিক উপাদান থাকে। যা আমাদের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে।

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ত্যাগ করুন। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে চাইলে বেশি চিনিযুক্ত খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না। চিনিযুক্ত খাবার আমাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ এবং নতুন কিছু শিখতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়াও চিনিযুক্ত খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।


মস্তিষ্ক ভালো রাখার ইচ্ছা থাকলে লবণাক্ত খাবার ত্যাগ করা উচিত। লবণ আমাদের স্বাস্থ্যের নানা রকম ক্ষতি করে। তাছাড়া লবণ এবং লবণাক্ত খাবার আমাদের শরীরে নানা প্রকার রোগ সৃষ্টি করার জন্য দায়ী। এছাড়াও লবণাক্ত খাবার আমাদের মস্তিষ্কের জন্য একদমই ভালো নয়।

মস্তিষ্ক সুস্থ সবল এবং স্মৃতিশক্তি মজবুত রাখার জন্য ফ্যাট, তেল, চর্বি জাতীয় খাবার এখন থেকে ত্যাগ করতে হবে। এসব খাবার যেমন আপনার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর তেমনি আপনার স্বাস্থ্যের নানা রকম রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।


তাছাড়াও বিশেষ করে আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং চর্বি সমস্যা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই এধরনের ক্ষতিকারক খাবার ত্যাগ করে অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। আপনার শরীর সুস্থ থাকবে এবং মস্তিষ্ক সুস্থ থাকার পাশাপাশি শক্তিশালী থাকবে।

বিশেষ করে আপনার মস্তিষ্ক কে কখনোই আপনি দুর্বল মনে করবেন না। আপনি যেকোন ধরনের চাপ নেওয়ার জন্য এবং সেটা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আপনি ভিতর থেকে নিজেকে দুর্বল মনে করলে আপনার মস্তিষ্ক ক্ষমতা সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও দুর্বল এর মত কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *