ফিটনেসমানসিক স্বাস্থ্যসুস্বাস্থ্য

মানসিক ভাবে নিজেকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখার উপায়

শরীর সুস্থ থাকা বলতে শুধু শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা কী বোঝায় না মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা দরকার।  কিন্তু বর্তমান তেমন কেউই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয় এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ তাকে নিয়ে কোন ভাবে না।  কিন্তু কোন ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ না থাকলে তাকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না,  তাতে শারীরিক ভাবে সে যতই কষ্ট হোক না কেন।

তাই  আমরা সুস্থ থাকতে চাইলে অবশ্যই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে।  কারণ সুস্থ থাকার জন্য মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

মানসিক ভাবে নিজেকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখার উপায়
মানসিক ভাবে নিজেকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখার উপায়

তবে বর্তমান বিশ্বের বেশির ভাগ লোকই শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ ভাবে  সুস্থ থাকা সত্ত্বেও মানসিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয়।  তবে এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বেশির ভাগ লোকের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোন প্রকার সচেতনতার  উপস্থিত নেই।

মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রুটিন অনুসরণ

হ্যাঁ এটা সম্পূর্ণ সঠিক যে মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন এবং রুটিন অনুসরণ করতে হবে। কারণ আপনি নিয়ম মাফিক কোনো কিছু না করলে আপনার ভিতরে সহজেই অলসতা বাসা বাঁধবে।  অলসতা বাসা বেধে ফেললে  মানসিক ভাবে অনেকটাই অসুস্থ এবং ডিপ্রেশনে থাকার প্রবণতা দেখা যায়।

এখানে রুটিন অনুসরণ করা বলতে বোঝানো হয়েছে আপনি প্রতিদিন যে কাজ গুলো যে সময় করেন সেগুলো সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা। বিশেষ করে আপনার প্রয়োজনীয় কোন কাজ নির্দিষ্ট  সময়ের  ভিতরে শেষ করা। ঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করা, সময় মত ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, শারীরিক স্বাস্থ্যের  প্রতি যত্ন এবং সচেতনতা থাকা।


একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়ম মাফিক সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন  অনুসরণ করে তারা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে বেশি সুস্থ।

তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিয়ম মাফিক সমস্ত কিছু সম্পন্ন করার,  যদিও শুরুর দিকে এটা কিছুটা কঠিন হতে পারে তবে কিছুটা সময় অনুসরণ করার ফলে এটি এক সময় অভ্যাসে পরিণত হয় এবং কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।


মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম

শারীরিক ব্যায়াম শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় না পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য  বিকাশিত করে এটা কমবেশি সবাই  জানেন। এজন্য শারীরিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে ব্যায়ামের কোন বিকল্প হতে পারে না। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য অবশ্যই নিয়মিত কিছুটা সময়  হলেও ব্যায়াম করার চেষ্টা  করবেন।


ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীর থেকে সুখ হরমোন নিঃসৃত  হয়, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ এবং মানসিক ভাবে খুশি রাখতে সহায়তা করে।

তাছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য একদম সকালের মুক্ত হাওয়ায় ব্যায়াম করার সবচেয়ে উত্তম। কারণ সকালে  আবহাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেরকম উপকারী ঠিক তেমনি মানসিক ভাবে খুশি এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে।


মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার

মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শাকসবজি এবং ফলমূল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও আমাদের এমন কিছু খাবার খেতে হবে যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। পুষ্টিকর ফলমূল এবং শাকসবজি আমাদের শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশিত করবে।

মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য অবশ্যই আপনারা  প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ কিছু খাবার রাখবেন।


ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার কমানো

এখানে ইলেকট্রনিক  যন্ত্রের ব্যবহার বলতে মোবাইল, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপ বোঝানো হয়েছে। কারন আমরা বর্তমানে দিনের বেশির ভাগ সময় এইসব ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাথে কাটাই। এগুলো অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেরকম ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

আমাদের এইসব ডিভাইস ব্যবহার কমাতে হবে এবং সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। কারণ ফোন ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি বয়ে আনে। বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষই ফোনের সারাদিন গেম খেলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করে।


যা আপনার মুল্যবান সময়ের ক্ষতি করে এবং আপনার মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ করার জন্য দায়ী। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় ফোন ব্যবহার একদমই বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। অন্তত ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে ফোন রেখে দিন।

ঘুমানোর সময় ফোন ব্যবহার আপনার মানসিক ভাবে ডিক্টেশন বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার ঘুম নষ্ট করে। এমনও হতে পারে যে আপনি ফোন ব্যবহারের সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে এমন আকর্ষণীয় কোনো বিষয়বস্তু দেখলেন যা আপনার অনেকটা সময় নষ্ট করে এবং দেরি করে ঘুমানোর জন্য দায়ী।

মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে নিজেকে সক্রিয় রাখুন

মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই আপনাকে সর্বদা সতেজ এবং সক্রিয় থাকতে হবে। সর্বদা নিজেকে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখুন। যেমন পত্রিকা পড়া অথবা ভালো কোন বই পড়া ইত্যাদি।

আর বেশি সময় একটানা একা কাটাবেন না। তবে আপনি যে কখনো একা থাকবেন না এমন নয়, আপনি অবশ্যই একা থাকতে পারেন তবে সেটা একটানা দীর্ঘক্ষণ থাকা উচিত নয়। কারণ এটা আপনার বোরিং ফিল হওয়ার পাশাপাশি এবং মন খারাপের অন্যতম কারণ হতে পারে।


আপনি সর্বদা নিজেকে বিভিন্ন কাজের  মাঝে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করবেন। ফলে আপনার মানসিক ভাবে ডিপ্রেশন এবং দুশ্চিন্তা অনেকাংশ কম থাকবে এবং মানুষের যাবে আপনি অনেকটাই সুস্থ থাকতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *