টিপস

মাস্টার কার্ড কি, মাস্টার কার্ড করার নিয়ম 2022

মাস্টার কার্ড করার নিয়ম: সম্মানিত ভিজিটরস বন্ধুরাআপনারা কি মাস্টার কার্ড এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? মাস্টার কার্ড কিভাবে করতে হয় তার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান?

আজকাল সবার জীবনে জুড়েই চলছে প্রযুক্তির অবাধ বিচরণ। প্রতিদিন সকালে মানুষ ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রযুক্তি তাদের নিত্যসঙ্গী প্রযুক্তি। প্রযুক্তি এখন হয়ে উঠেছে মানুষের প্রত্যাহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ । বর্তমান বিশ্বে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার লাভ করছে প্রযুক্তি। ব্যাংকিং সুবিধা ও এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।

গ্রাহকদের কল্যাণার্থে, গ্রাহকদের প্রয়োজনে, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানসমূহ নিত্য-নতুন সুযোগ সুবিধা নিয়ে হাজির হয়ে থাকে । গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা ভাবনা করে ব্যাংক সমূহের অন্যতম একটি সুবিধার নাম হলো মাস্টারকার্ড। মাস্টার কার্ড করার নিয়ম জানার জন্য নিবন্ধ টি ভালো করে পড়ুন।

গ্রাহকদেরকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিবারই নিত্যনতুন সেবা নিয়ে হাজির হয় দেশের মধ্য প্রচলিত বিভিন্নব্যাংক প্রতিষ্টানসমূহ। গ্রাহকদের জীবনযাত্রাকে সহজ, সরল এবং স্বাভাবিক করার প্রত্যাহিক সুবিধা নিয়ে হাজির হয় এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠান সমূহ। গ্রাহকদেরকে আরো আকৃষ্ট করতে গ্রাহকদের কল্যাণ নিয়ে আসে নানাবিধ কর্মকান্ড। যাতে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে থাকে। মাস্টার কার্ড করার নিয়ম জানতে সম্পুর্ণ নিবন্ধ টি ভালো করে পড়ুন

মাস্টার কার্ড কি ?

বিশ্বের যেকোনো জায়গায় প্রচলিত একটি জনপ্রিয় কার্ড হচ্ছে মাস্টার কার্ড। আপনারা যেকোনো ব্যাংক থেকে গ্রহণকৃত ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ড এ শুধুমাত্র আপনারা যে দেশে অবস্থান করেন সে দেশে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্ত এই মাস্টার কার্ডটি এক ধরণের আন্তর্জাতিক কার্ড যা আপনারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে খুব সহজেই কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন

মাস্টার কার্ডটি দেখতে অনেকটা ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মতো হলেও এসবের মধ্যে বেশ ভিন্নতা রয়েছে। মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে আপনারা বিশ্বের যেকোনো দেশে আপনাদের কাঙ্খিত পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে দেশের বাইরে পেমেন্ট করতে পারবেন না। তাই সারা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত একটি কার্ড মাস্টার কার্ড।

মাস্টার কার্ড করার নিয়ম

মাস্টার কার্ড কি, এই মাস্টার কার্ডটি মূলত একটি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড। মাস্টারকার্ড টি হলো সারা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত একটি কার্ড । বাংলাদেশে প্রায় সকল ব্যাংক প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের গ্রাহকদের মাস্টারকার্ড সুবিধা প্রদান করে থাকেন । প্রায় সকল ব্যাংক প্রতিষ্ঠান এ মাস্টার কার্ড প্রদানের নিয়মসমূহ একই রকম হ‌ওয়ার কারণে আপনারা নিচের নিয়মসমুহ ভালো করে অনুসরণ করলে পেয়ে যাবেন আপনাদের পছন্দের মাস্টারকার্ড।

Mastercard In Bangladesh সুবিধা গ্রহণ করতে চাইলে আপনাদের কে মাস্টার কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই ভালো করে জানতে হবে। চলুন তাহলে জেনে নেই মাস্টার কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কেঃ

মাস্টারকার্ড সুবিধা গ্রহণ করার জন্য সবার আগে আপনাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

একাউন্ট খোলার জন্য আপনাদের প্রয়োজন হবে : 

  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধন/ড্রাইভিং লাইসেন্স দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি -স্বাক্ষর নমিনির আইডি কার্ড নমিনির ছবি নমিনির স্বাক্ষর। উক্ত তথ্যাদি পূরণ করে আপনারা খুলতে পারবেন ব্যাংক একাউন্ট।
  • মাস্টারকার্ড সুবিধা গ্রহণ করার জন্য আপনাদের একাউন্টের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক হতে হবে।
  • আপনাদের একাউন্টে মাসিক ৫০০০০ টাকার থেকে বেশি লেনদেন হতে হবে।
  • একাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেশি হতে হবে।

উপরোক্ত শর্তসমূহ আপনাদের একাউন্টে মেনে চললে আপনাদের মাস্টার কার্ড এর জন্য সেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে ।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাদের আবেদন যাচাই বাছাই করে দেখে জানাবেন আপনারা মাস্টার কার্ডের জন্য যোগ্য কিনা।

মাস্টারকার্ডের জন্য যোগ্য হলে আপনারা পেয়ে যাবেন বহুল কাঙ্খিত কার্ড।

মাস্টার কার্ড করার নিয়ম অনুসরণ করে আপনারা খুব সহজে পেয়ে যেতে পারেন আপনাদের মাস্টারকার্ড।

মাস্টার কার্ড এর সুবিধা

মাস্টার কার্ড গ্রাহকদের লেনদেনের জন্য নানাবিধ ধরনের সুবিধা নিয়ে হাজির হয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা কি জানেন ঠিক কি রকমের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে মাস্টার কার্ডে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক মাস্টার কার্ডের সুবিধাসমূহের কি কি?

মাস্টার কার্ডটি হচ্ছে মূলত একটি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড। যার গন্ডি শুধুমাত্র এক দেশে সীমাবদ্ধ নয়। আপনারা বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন এই কার্ড।

  • মাস্টার কার্ড একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। এটি মূলত দুই দেশের কারেন্সি আপনারা এই কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • আপনারা যদি দেশে বসে বাইরের দেশের কোন ই-কর্মাস সাইট থেকে পণ্য কেনাকাটা করতে চান তাহলে সেটাও খুব সহজে মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন।
  • বিশ্বের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে পেমেন্ট করতে ও মাস্টার কার্ডের ব্যবহার করতে পারবেন।
  • নির্দিষ্ট পরিমাণ পেমেন্ট উপর পেয়ে যাবেন বিভিন্ন ধরণের ডিসকাউন্টের সুব্যবস্থা।
  • মাস্টারকার্ড এর অত্যাধিক সুবিধার কারণে আজকাল অনেকেই মাস্টার কার্ড সুবিধা গ্রহণ করতে চান। মাস্টারকার্ড সুবিধা গ্রহণ করার জন্য আপনাদের কে আগে জানতে হবে মাস্টার কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে।

ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ড

সময়ের সাথে সাথে মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়েছে প্রযুক্তির উপর।তাই মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবনে সকল কাজ সম্পাদন করাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতক্ষণ আমরা আলোচনা করলাম মাস্টার কার্ড পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। এখন তাহলে আলোচনা করা যাক ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ডটি নিয়ে।

মূলত আমরা প্রায় সকলে জানি যে মাস্টার কার্ড বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপি প্রচলিত একটি জনপ্রিয় কার্ড।ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ড মূলত এমন একটি কার্ড যে কার্ডের মাধ্যমে আপনারা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আপনাদের লেনদেন থেকে শুরু করে, কেনাকাটা, পেমেন্ট সকল ধরণের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই।

ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ড

এই কার্ডটি ভার্চুয়াল হ‌ওয়ার কারণে এই কার্ড হারিয়ে যাওয়ার কোনো রকম ভয় নেই। এই কার্ডটির মাধ্যমে আপনারা নানা ধরণের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন নিম্নোক্ত সুবিধা সমূহ নিয়ে আলোচনা করলে বুঝতে পারবেন কেন জনপ্রিয় এই ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ড।

এই কার্ডের সাহায্যে আপনারা বিশ্বের যেকোন এয়ারলাইন্সের টিকেট বুকিং এর পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

আপনারা যদি ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন তাহলে এই কার্ডের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের পেমেন্ট পেয়ে যাবেন খুব সহজে।

আপনারা যদি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনারা খুব সহজে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

বিশ্বের যেকোনো E-commerce প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন।

দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা SAT,GAMT,CiMA ইত্যাদি প্রভৃতি পরীক্ষার ফি সম্পন্ন করতে পারবেন এই কার্ডের মাধ্যমে।

আপনারা যদি বিদেশে ছুটি কাটাতে যান তাহলে আপনারা দেশে থেকে বাইরের দেশের অবস্থিত যেকোনো হোটেলের বুকিং মানি প্রদান করতে পারবেন এই কার্ডের মাধ্যমে।

ইমিগ্রেশন ফি থেকে শুরু থেকে ভিসার আবেদন পত্রের টাকা আপনারা প্রদান করতে পারবেন এই কার্ডের মাধ্যমে।

বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যেমনঃ গুগল ফেসবুক,ইউটিউবে বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য পেমেন্ট করতে পারবেন এই কার্ডে মাধ্যমে।

এছাড়াও গ্রাহকদেরকে এমন আরো নানাবিধ সুবিধা প্রদান করে থাকে এই ভার্চুয়াল কার্ডটি। কোন ধরনের চেক বই, কোন ধরনের কার্ড হারিয়ে যাওয়ার ঝামেলা নেই এই ভার্চুয়াল মাস্টার কার্ডে।এ কার্ডে নেই কোন মাসিক কিংবা বাৎসরিক ফি প্রদানের ঝামেলা নেই বিধায় আজকাল সকলে ছুটছে ভার্চুয়াল কার্ড তৈরির দিকে।

ফ্রি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড

মাস্টার কার্ড এর মাধ্যমে ইন্টারন্যাশানাল নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায় জন্য আজকাল সকলে মাস্টার কার্ডগ্রহন করতে চায় । ফ্রি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পেতে হলে আপনাদের ৩ টি শর্ত মেনে চলতে হবে। তা হল-
একাউন্টের ট্রান্সজেকশন তুলনামূলক অন্যান্য একাউন্টের তুলনায় বেশি হতে হবে।
একাউন্ট এর বয়স এক বছরের কাছাকাছি হতে হবে।
বেশি পরিমাণে অর্থ জমা রাখতে হবে।
মূলত উপরে উল্লেখিত সকল শর্তাদী মেনে যে ব্যাংকে আপনাদের যে একাউন্ট রয়েছে সে ব্যাংকে গিয়ে আপনাদের ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে হবে। আপনাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাদের কে বিনামূল্যে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড সুবিধা প্রদান করবে।
উপসংহার: ব্যাংকিং সেক্টরে লেনদেনের কার্ডসমুহে ইন্টারন্যাশনাল যে সুবিধাদির ঘাটতি ছিল তার শতভাগ পূরন করেছে মাস্টার কার্ড। আশা করব মাস্টার কার্ড খোলার নিয়ম সম্পর্কে জেনে আপনারাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.