ফিটনেসযোগ ব্যায়ামসুস্বাস্থ্য

যোগ ব্যায়াম কি এবং কিভাবে করব

শতাব্দী বছর ধরে মানুষ যোগ ব্যায়ামের সাথে জড়িত শুধু শতাব্দী বছর নয় তার থেকেও বেশি সময় ধরে মানুষ যোগব্যায়াম করছে।

সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়ামের বিকল্প কিছু হতে পারে না। আর সবচেয়ে সুবিধা জনক ব্যাপার হল যোগ ব্যায়াম করার জন্য আপনাকে কোন প্রকার জিমে যেতে হবে না। এমনকি কোন প্রকার ব্যায়ামের সরঞ্জাম ছাড়াই ঘরে বসে শুধু একটা মাদুর বিছিয়ে সহজেই যোগব্যায়াম করতে পারবেন।

যোগ ব্যায়াম কি এবং কিভাবে করব
যোগ ব্যায়াম কি এবং কিভাবে করব

যোগব্যায়াম করার জন্য আপনাকে বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে না শুধু আপনি সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে পারেন এরকম অল্প কিছু জায়গা হলেই যথেষ্ট।

যোগব্যায়ামের রয়েছে অগণিত উপকারিতা। যা আপনার শরীরকে অনেক উন্নত করে। যোগ ব্যায়াম করার পরে আপনার শরীরের মেদ অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে একদম ফিট থাকতে পারেন।


আর সুস্থতা দিক থেকে বিবেচনা করলে যোগব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং প্রাকৃতিক ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যোগ ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।


যোগ ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের উপকার হয়। যোগ ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরে থাকা লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকার বজায় থাকে।


এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী মোটা করে এর ফলে আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। যদিও শরীরের বিভিন্ন অংশের উন্নতির জন্য আলাদা আলাদা যোগব্যায়াম রয়েছে।

তবে যোগ ব্যায়ামের ফলে শরীরের অনেক উন্নতি হয় এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করা।


প্রথম প্রথম একটু কষ্ট মনে হলেও পরে অবশ্য কোন সমস্যা হয় না। তবে নিয়মিত যোগ ব্যায়ামের অল্প কয়েকটি আসন করলেও স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। আর যোগ ব্যায়াম তেমন একটা পরিশ্রমের নয়।

এটা জিমে গিয়ে বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের সরঞ্জাম নিয়ে ওয়ার্কআউট করার থেকে শতভাগ কম কষ্টের। যোগ ব্যায়ামের ফলে আপনার শরীরে অনেক উন্নতি ঘটে যা আপনি নিজের লক্ষ্য করতে পারবেন।


বিশেষ করে যাদের রাতে ঘুম আসে না বিছানায় শুয়ে অস্বস্তি বোধ করেন এবং অনেক রাত হবে পরে এক সময় চোখে ঘুম আসে। তাদের অবশ্যই উচিত প্রতিদিন যোগ ব্যায়ামের কয়েকটি আসন করা।

এতে রাতে সহজেই খুব দ্রুত চোখে ঘুম চলে আসবে।  আর রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর ফলে পরের দিন সকাল সকাল উঠতে একদমই কষ্ট হবে না।


এতে আপনি সকালের মুক্ত হাওয়া খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পারবেন। ফলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং অনেক রোগ-ব্যধি থেকে সহজেই মুক্ত থাকতে পারবেন।

শরীর রোগ ব্যাধি মুক্ত এবং সুস্থ থাকা মানেই সুখে থাকা। আর এর ফলে আপনি সকালের ফ্রি সময়টাতে যোগব্যায়াম করতে পারবেন। যদিও ব্যায়াম করার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই তবে সকালে করাটা উত্তম।


তবে আপনি যদি ব্যস্ততার কারণে সকালে ব্যায়াম করতে না পারেন তাহলে বিকেলে অথবা সন্ধ্যার পর ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সময়টা ব্যায়াম করার জন্য বেছে নিতে পারেন।

তবে যোগব্যায়াম করার ক্ষেত্রে একদম অলসতা করবেন না। কারণ আপনার অলসতা আপনার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হতে পারে।


তাই শুরুর দিকে কষ্ট হলেও অবশ্যই চেষ্টা করুন নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করার। এর ফলে আপনি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকতে পারবেন। বিভিন্ন প্রকার মারাত্মক রোগ হতে সহজেই মুক্তি পাবেন। যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ সহ নানা আরও প্রকার রোগ।

এছাড়াও ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু রোগ প্রতিরোধ করা পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। যোগ ব্যায়ামের ফলে আপনি শারীরিক ভাবে অনেক সুস্থতা অনুভব করতে পারবেন।


আসলে সুস্থ থাকার অনুভূতি একজন সুস্থ মানুষ ভালোভাবে বুঝতে পারে। এছাড়াও সারাদিন আপনার নিজের কাছে নিজেকে অনেক সতেজ মনে হবে।


তাছাড়াও যোগ ব্যায়াম শরীরের ব্যথা দূর করে হাড়ে ব্যথা অথবা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা সহ মাংস পেশির ব্যথা সহজেই দূর হয়।

তবে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা এই ভাবে বলে শেষ করা সম্ভব নয়। যোগ ব্যায়ামে রয়েছে হাজারো রোগের উপকারিতা।তাই আমাদের ব্যস্ত জীবনের মাঝে সময় বের করে অবশ্যই প্রত্যেকের উচিত যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন আসন চর্চা করা।


এর ফলে আমরা অতি সহজেই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবো। সহজে কোন রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারবে না। আর রোগ মুক্ত থাকা মানেই সুস্থ থাকা।

তবে যোগ ব্যায়াম অনুশীলণ করার কিছু নিয়ম রয়েছে। যোগ ব্যায়ামের প্রত্যেকটি আসন 30 সেকেন্ড বা এক মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। যোগব্যায়ামের আসন করার পর 30 সেকেন্ড করে শবাসন করে নিতে হবে।

আর আপনারা অবশ্য জানেন যে শবাসন কিভাবে করতে হয়। তবুও কারো অজানা থাকতে পারে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি।


যোগব্যায়ামের কোন আসন করা শেষ হলে একদম সোজা হয়ে সমস্ত শরীর শিথিল করে দু পা এক থেকে দেড় ফুট ফাঁকা করে শুয়ে থাকবেন। এই সময়ে স্বাভাবিক ভাবে দম নিন। এই সময় খুব দ্রুত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া ক্ষতিকর।


আপনার থেকে 30 সেকেন্ড শবাসন শেষ হলে পুনরায় আবার আসন শুরু করবেন। যোগব্যায়াম করার ক্ষেত্রে শবাসন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ যোগ ব্যায়ামের আসন করার ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এবং শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তন ও উন্নতি ঘটে।


এই সময়ে শবাসন না করে অন্য আসন শুরু করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যোগ ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করবেন।

কারণ যোগ ব্যায়ামের সময় রক্ত সঞ্চালন এর গতি বৃদ্ধি পায় ফলে অস্বাভাবিক ভাবে দ্রুত নিঃশ্বাস নিলে। রক্তের চাপ বেড়ে যেতে পারে এবং এটা খুব বেশি পরিমাণে হলে আপনার রক্তনালী ফেটে যেতে পারে।


এর ফলে আপনাকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তবে অবশ্যই সচেতন থাকুন। যোগ ব্যায়াম করার সময় কোন প্রয়োজন হলেও কথা বলবেন না। একান্তই কথা বলতে হলে আসুন থেকে উঠে বসে কথা বলুন।

তবে কোন আসন করা অবস্থায় তা বলা থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম চর্চার পাশাপাশি সুষম খাবার খাবেন এবং সঠিক সময় ঘুমাবেন।


যোগ ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরে ক্ষয় হওয়া ক্যালরি পূরন করার জন্য সুষম খাবার খাওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। সাথে প্রতিদিন কিছু পুষ্টিকর ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া ভালো।

এছাড়া রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘুমানো একদমই উচিত না।


অতিরিক্ত ঘুম আপনার স্বাস্থ্যের উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে। শরীরটা অলস করে দেয় এবং অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভব হয়।

তবে আমরা সকলেই জানি যে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। এছাড়াও যোগ ব্যায়ামের বেশিরভাগ আসন পুরুষ মহিলা সবাই করতে পারে।


আর যাদের ক্ষুধামন্দা এবং খাবারের প্রতি অরুচি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়াম এই সমস্যার সমাধান। যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন আসন এর ফলে পাকস্থলীর হজম ক্ষমতা এবং পরিপাকের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও টেনশন, মাথাব্যথা এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। মনকে হালকা এবং সতেজ রাখে। ফলে সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে থাকা সম্ভব।


যোগব্যায়াম শুধু শারীরিক উপকার করা পর্যন্ত যথেষ্ট নয় মানসিক ভাবেও অনেকটা শান্ত রাখে। আর যোগব্যায়াম শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রায় সকল বয়সের মানুষের করতে পারে।

পরিশেষে বিবেচনা করলে দেখা যাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।যোগব্যায়াম সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

।।মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *