টিপস

লোগো ডিজাইন এবং লোগো ডিজাইন করে আয়

সম্মিনিত ভিজিটর বন্ধুরা আপনারা যে কেউ অনলাইনে আপনাদের বিজনেস কিংবা ইন্ডাস্ট্রিতে কিভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন ? নিশ্চয়ই আপনারা আপনাদের লোগো ডিজাইন এর মাধ্যমে চিহ্নিত করবেন।

যেকোনো একটি ইন্ডাস্ট্রিজের বা কোম্পানিকে যে কেউ চিনে নিতে চাইলে অবশ্যই একটি ভালো লোগো এর কোন বিকল্প নেই। যে কারণে লোগো ডিজাইনের এত কদর অনেক। উদাহরণস্বরূপ, আপনারা যদি ইন্টারনেটে অথবা অন্য কোন জায়গায় অ্যাপেল লোগো দেখতে পান, তাহলে নিশ্চয়ই এটা বুঝে নিতে পারবেন যে এটা হল অ্যাপেল কোম্পানি।

এরকমভাবে অন্য যে সকল কোম্পানি রয়েছে সে সকল কোম্পানির লোগো হয়তো আপনাদের মস্তিষ্কে অলরেডি ক্যাপচার হয়ে আছে, যে কারণে ওই সকল কোম্পানির লোগো দেখে আপনারা কোম্পানির নাম চিন্হিত করে নিতে পারেন।

আপনাদের ব্যবসাকে অন্যের কাছে পরিচিত করানোর জন্য একটি ভালো উন্নত মানসম্মত লোগো ডিজাইন করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ এই নিবন্ধে আমরা মূলত এ বিষয় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব।

কিভাবে লোগো ডিজাইন করবেন?

আপনারা চাইলেই বিভিন্ন ভাবে একটি প্রফেশনাল লোগো ডিজাইন এর কাজ সম্পুর্ণ করতে পারবেন। নিম্নে ডিজাইন করার জন্য কয়েকটি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
লোগো ডিজাইন করার অনেক রকম প্লাটফর্ম রয়েছে, যে সকল প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে আপনারা লোগো ডিজাইন করতে চান তাদেরকে প্রেমিয়াম মেম্বেরশিপ সাবস্ক্রাইব করতে নিতে হবে। অথবা প্রত্যেকটি ডিজাইন করা লোগো যখন আপনারা তৈরি করার কাজ সম্পুর্ণ করে নিবেন, তখন পেমেন্ট করার মাধ্যমে এটি আপনারা নির্দিষ্ট ডিভাইসে সেভ করে নিতে পারবেন।
তবে এই নিবন্ধে দেখানো হবে কিভাবে একদম আপনারা ফ্রিতে প্রফেশনাল লেভেলের লোগো তৈরি করতে পারবেন, সেটাও আবার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে । তাহলে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে এই কাজটি করবেন।
Canva:
উপরে দেওয়া উল্লেখিত লিংকে ভিজিট করার পরে আপনারা ক্যানভা পেজের যে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে, সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারবেন।
খনই আপনারা ক্যানভা এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন, তখন এই ওয়েবসাইটের একদম হেডার সেকশনে অনেকগুলো অপশন এর মধ্যে থেকে “Logo” নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন।
লোগো ডিজাইন এবং লোগো ডিজাইন করে আয়

লোগো ডিজাইন এবং লোগো ডিজাইন করে আয়

যখন আপনারা লোগো নামের অপশনটির উপরে ক্লিক করবেন, তখন ওয়েবপেইজ টি আপনাদের অটোমেটিকলি অন্য আরেকটি পেইজে রি-ডাইরেক্ট করে নিয়ে যাবে।

এবং অন্য আরেকটি পেইজে রি-ডাইরেক্ট করে নেয়ার পরে আপনারা এখানে আরো অনেকগুলো রেডিমেড লোগো দেখতে পারবেন, যেখান থেকে আপনারা আপনাদের পছন্দের লোগো ডিজাইন নির্বাচন করে তারপরে এটিকে কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন।

এছাড়াও ওয়েব পেজের এখানে যে সার্চ বারটি আপনারা দেখতে পারবেন, সেই সার্চ বারে আপনাদের পছন্দের ক্যাটাগরির সার্চ করে ওই রিলেটেড লোগো খুঁজে নেওয়া যাবে।

লোগো ডিজাইন এবং লোগো ডিজাইন করে আয়

যখন আপনারা আপনাদের পছন্দের লোগো এর অনুসন্ধান করা সম্পাদন করবেন, তখন এই লোগো এর উপরে ক্লিক করবেন এবং এরপরে লেখাগুলো মুছে আপনাদের যে ইন্ডাস্ট্রিজের নাম রয়েছে সেই নামটি বসিয়ে দিবেন।

মূলত এটি একদম ফ্রিতে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রফেশনাল টাইপের লোগো তৈরি করার জন্য ক্যানভা টুলস এর কোন বিকল্প জুড়ি নেই। যার কারণে লোগো নির্মাণ করতে চাইলে এই টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন।
তবে লোগো তৈরির কাজ আরো বেশি সহজ ভাবে করতে আপনি চাইলে ক্যানভা এর যে অফিশিয়াল অ্যাপ গুলো রয়েছে, সেগুলো আপনাদের নির্দিষ্ট ডিভাইসে ডাউনলোড করে নিতে হবে।
এন্ড্রয়েড ও আইফোনের জন্য অ্যাপস ডাউনলোড করা যখন সম্পন্ন হয়ে যাবে তখন খুব সহজেই আপনারা এই অ্যাপস গুলোর মাধ্যমে লোগো ডিজাইন অথবা অন্য যে কোন কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।
লোগো ডিজাইন কত প্রকার?
বন্ধুরা আপনারা কি জানেন আকর্ষণীয় একটি লোগো ডিজাইন করা যে কোন ডিজাইনারদের পক্ষেই চ্যালেঞ্জের। তা উপর আপনাদের জন্য সঠিক ডিজাইন নির্বাচন করা আর ও কঠিন একটি কাজ। তাই আপনাদের লোগোটি কেমন করে তৈরি হবে সে জন্য বিশেষজ্ঞরা লোগো ডিজাইন কে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছেন।
লোগো ডিজাইন কে প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- Image, Words এবং Combination। তবে এই তিনটি প্রধান ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে আরও লোগো ডিজাইনকে ৮ টি প্রকারভেদে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-
Brand Mark: আইকন ভিত্তিক লোগোকে সাধারণভাবে ব্র্যান্ড বা সিম্বল লোগো বলা হয়ে থাকে। এই ধরনের লোগোতে আপনারা আপনাদের কোম্পানীর জন্য সুনির্দিষ্ট আইকন নির্বাচন করা হয়। এজন্য মানুষ সহজেই আপনাদের কোম্পানিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারে। উদাহরণসরুপ- The Rolling Stones, Apple, Twitter এ ধরনের লোগো ব্যবহার করে থাকে।
Abstract Logo Marks: এই ধরনের লোগো গুলো সাধারণত ছবি বা শেপ এর ভিত্তিতে হয়ে থাকে। টাইপ ব্র্যান্ড মার্ক লোগো গুলো সিম্পল এর চেয়ে এ ধরনের লোগো কিছুটা বড় হয়ে থাকে। কোম্পানির নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনার জন্য এ ধরনের লোগো ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ- Pepsi, Microsoft (Windows), Adidas এর লোগো।
Mascots: কার্টুন অথবা ব্যঙ্গচিত্র ও ব্যক্তির ছবির সংমিশ্রণে এ ধরনের লোগো তৈরি করা হয় বলে এদেরকে মাস্কটস বলে। যেমন- KFC, Pillsbury, Kellogg’s এর লোগো।
Wordmark Logos বা Logotypes: টাইপোগ্রাফি ভিত্তিক লোগোকে ওয়াল্ডমার্ক লোগো বলে। এই ধরনের লোগোতে টেক্সটের মাধ্যমে ব্রান্ড বা কোম্পানির নাম লেখা হয় । তবে এক্ষেত্রে টেক্সট এর স্টাইল, রং ইত্যাদি চোখে পড়ার মত হয়। যেমন- Subway, Uber, Camelback, Google ইত্যাদি কোম্পানির লোগো।
Lettermarks বা Monograms: এই ধরনের লোগোও ওয়ার্ল্ড মার্কের মত টাইপোগ্রাফি ভিত্তিক হয়। তবে এর ভিন্নতা হলো এ ধরনের লোগোতে শুধু মাত্র কোম্পানির নামের প্রথম অক্ষর বা সংক্ষিপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। তাই এই লোগোর আরেক নাম মনোগ্রাম লোগো। বিশ্বখ্যাত CNN, FedEx, HBO এ ধরনের লোক ব্যবহার করে থাকে।

Letterforms: লেটারফ্রম হচ্ছে মনোগ্রামের চেয়ে ছোট এক ধরনের লোগো। এই ধরনের লোগো সাধারণত একটি মাত্র অক্ষর নিয়েই তৈরি করা হয়। যেমন- McDonald’s, WordPress, Yahoo এর লোগো।
Emblem: এই ধরনের লোগো টেক্সট, আইকন বা সিম্বল একসাথে যুক্ত করে তৈরি করা হয়। মূলত স্কুল-কলেজ সংগঠন কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানে এসমস্ত লোগো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে Starbucks, Stella Artois, Superman এ ধরনের লোগো ব্যবহার করে থাকে। তবে আপনাদের আশেপাশেও এ রকম অনেক লোগোর অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন।
Combination Marks: উপরে বর্ণিত প্রকারভেদ বা টাইপ গুলোর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে যখন কোন নতুন লোগো তৈরি করা হয় তখন এ ধরনের লোগোকে কম্বিনেশন মার্ক লোগো বলে। যেমন- Taco Bell, CVS, Toblerone এর ব্যবহৃত লোগো।
পরিশেষে ,, বলতে চাই সম্মানিত ‌ভিজিটর বন্ধুরা আপনাদের যদি আমাদের এই নিবন্ধ ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের আজকের পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিন। আমরা আরো ভালো ভালো পোস্ট করার চেষ্টা করবো যাতে আপনারা উপকৃত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.