টিপস

প্রয়োজনীয় কাঁচা শাক সবজি দীর্ঘসময় সংরক্ষণের কিছু সহজ টিপস

শাক সবজি সংরক্ষণের টিপস: সম্মানিত পাঠক বন্ধুরা আমরা সবাই জানি কাঁচা শাক সবজি সংরক্ষণ করা টি একটু বেশি ঝামেলার। বেশি করে শাক সবজি কিনলে তা পচে যায়। আবার অল্প কিনলেও তা সহজেই ফুরিয়ে যায়। তাই আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে কাঁচা শাক সবজি নিয়ে উভয় সংকটে পড়তে হয়। অনেকে আবার বাগানে শাক সবজি রোপণ করেন তারা এক সময়ে অনেক শাক সবজি পেয়ে থাকে। এসব কাঁচা শাক সবজি সংরক্ষণ করাও বেশ ঝামেলা হয়ে যায় । তাই আজকে আমরা আপনাদের কাঁচা শাক সবজি সংরক্ষণ করার পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু টিপস জানাবো।

শাক সবজি সংরক্ষণের টিপস

কাঁচা সবজি সংরক্ষণের সময় যেসব যত্ন নিতে হবে- পাঠক বন্ধুরা পেঁয়াজ, রসুন, আলু এসব বাজার থেকে অনেক পরিমাণে কেনা যায়। এগুলো সংরক্ষণ করার জন্য আপনাদেরকে আলাদা যত্ন নিতে হয়। আলু, পেঁয়াজ, রসুন বাজার থেকে কিনে এনেই কোনগুলো বেশিদিন ভালো থাকবে ও কোনগুলো দ্রুতই নষ্ট হয়ে যাবে সেগুলোকে আলাদা করে ফেলতে হবে। ভালো আলু, পেঁয়াজ আলাদা করে বেতের ঝুড়িতে রেখে যেকোন শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করা যায়। এভাবে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। একেক ধরনের সবজি একেক ঝুড়িতে রাখা ভালো। পেয়াজ, রসুন খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে ডিপ ফ্রিজে রেখেও আপনারা সংরক্ষণ করতে পারেন।

শাক সংরক্ষন করাঃ

অন্য কিছু সবজি সংরক্ষণের চেয়ে শাক সংরক্ষণ করা খুব বেশি কঠিন। কারন শাক একটি পচনশীল দ্রব্য। শাক খুব সহজেই পচে যায়। শাক কে খুব বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। বন্ধুরা কিছুদিন শাক সংরক্ষণ করতে চাইলে বাজার থেকে শাক এনেই বেছে একটি পলিথিন বা নিউজ পেপারের কাগজে মুড়ে ফ্রিজের নরমালে রাখতে হবে। তাহলে কিছুদিন শাক ভালো থাকবে। বিভিন্ন ধরনের পাতা জাতীয় সবজি যেমন-পুদিনা পাতা, ধনিয়া পাতা, লেটুস পাতা ও কারি পাতা ও এভাবে সংরক্ষণ করা যায়। দুই একদিন সংরক্ষণ করতে হলে বাতাস চলাচল করে কিন্তু আলো প্রবেশ করে না এমন কিছু স্থানে রেখে দিতে হবে।

কাঁচা মরিচ সংরক্ষনঃ

দেখা যায় কাঁচা মরিচ ফ্রিজে রাখলেও নষ্ট হয়ে যায় এরকম কথা অনেকেই বলেন। এজন্য কাঁচা মরিচ বাজার থেকে এনে বোটা ফেলে কিছু সময় বাতাসে রেখে দিতে হবে। তারপর প্লাস্টিকের ঝুড়িতে করে নরমাল ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। এভাবে রাখলে সপ্তাহ দুই কাঁচা মরিচ সংরক্ষণ করা যায়। ডিপ ফ্রিজে আস্ত কাঁচা মরিচ সংরক্ষণ না করাই ভালো। এতে মরিচের স্বাদ ও গন্ধ দুটোই নষ্ট হয়ে যায়।

শীতকালীন সবজি দীর্ঘ দিন সংরক্ষন করাঃ

বন্ধুরা আপনারা যদি শীতকালীন সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চান তাহলে টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাধাকপি, শিম ভালো করে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর এয়ার টাইট বক্স বা জিপ লক ব্যাগে করে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে। মৌসুম শেষেও অনেক দিন এটা খাওয়া যাবে।

ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, মূলা, বরবটি সংরক্ষনঃ ক্যাপসিকাম, ব্রকল, বরবটি, মূলা, টমেটো এসব সবজি সংরক্ষণ করার জন্য আপনাদেরকে ছোট ছোট পিস করে কেটে নিতে হবে। এরপর এগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর একটি জিপ লক ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা পরে সবজির ব্যাগটা নেড়েচেড়ে রাখতে হবে যাতে সবজি গুলো একটার গায়ে আরেকটা না লেগে যায়। এভাবে আপনারা দীর্ঘদিন এসব সবজি সংরক্ষণ করতে পারেন ও এদের গুণগত মান ও ঠিক থাকে।

করলা, ঝিঙে, পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল সংরক্ষনঃ

চিচিজ্ঞা, ধুন্দুল, ঝিঙে, করলা, পটল এসব সবজিও আপনারা দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করতে পারেন । তাই সবজিগুলো প্রথমে লবণ মেশানো পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। বোটা ফেলা যাবে না। তারপর পাতলা কাপড় দিয়ে সবজি গুলো মুছে বড় সাইজের জিপ লক ব্যাগে ভরে সংরক্ষণ করলে অনেকদিন পর্যন্ত টাটকা থাকে।

কাঁচা কলা, মাশরুম, মিষ্টি আলু সংরক্ষনঃ

বন্ধুরা কাঁচা কলা, মাশরুম ও মিষ্টি আলু সংরক্ষণ করা বেশ সময় সাপেক্ষ হলেও এগুলো দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা যায়। এসব সবজি ধুয়ে পরিষ্কার করে ছাল ফেলে দিতে হবে। এরপর পাতলা স্লাইস করে কেটে লবণ মিশিয়ে পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখতে হবে।এরপর পানি ঝরিয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে এয়ার টাইট বক্সে ভরে নিতে হবে। যখন যেটুকু লাগবে তখন বের করে নিলেই হবে।

পেঁকে যাওয়া মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষনঃ

বন্ধুরা আপনারা কি জানেন চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানিয়ে কুমড়া সংরক্ষণ করা যায়। পেকে যাওয়া মিষ্টি কুমড়া দিয়েও বড়ি তৈরী করা যায়। এই বড়ি বানিয়ে রোদে শুকিয়ে এক বছরের মতো সংরক্ষণ করা যায়। চাল কুমড়া মোরব্বা বানিয়ে ও সংরক্ষণ করা যায়। তাহলে কুমড়ার পুষ্টিগুণাগুণ ঠিক থাকে। কাঁচা চাল কুমড়ার বোটার কাটা অংশে চুন লাগিয়ে কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.