ফিটনেসবিউটিসুস্বাস্থ্য

শীতে ত্বকের যত্ন এবং স্বাস্থ্যে সচেতনতা

আমাদের সারা শরীর জুড়ে রয়েছে ত্বক, এমনিতে কমবেশি সারা বছরই ত্বকের যত্ন নেয়া প্রয়োজন কিন্তু শীতকালে ত্বকের যত্ন নেয়া একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ শীতে আবহাওয়া আদ্র থাকার  কারণে আমাদের ত্বক খুবই শুষ্ক হয়ে যায় এবং ফেটে যায়। 

শীতে ত্বকের যত্ন এবং স্বাস্থ্যে সচেতনতা
শীতে ত্বকের যত্ন এবং স্বাস্থ্যে সচেতনতা

প্রচন্ড গরম শেষে আবহাওয়া বদলে শীত এসে আবহাওয়া নতুন রূপ নেয়।  আর আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমাদের  শরীরে নানা রকম রকম পরিবর্তন ঘটে।  বিশেষ করে ত্বক রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা টা প্রায় কমবেশি সকলের মধ্যেই দেখা যায়।

এজন্য সারা বছরের তুলনায় শীতের মৌসুমে আমাদের ত্বকের  প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। ত্বকের পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় একটু বেশিই সচেতন থাকা দরকার।

শীতে সবার ভিতর একটি বদ অভ্যাস থাকে যে কোথাও একটু সূর্যের আলো গেলে সেখান থেকে নড়াচড়া করতে চায় না। কিন্তু আমাদের ত্বক সুরক্ষিত এবং সুস্থ রাখার জন্য অবশ্যই সূর্যের রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে।


সূর্যের রশ্মি আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর তাই অবশ্যই সূর্যের আলোতে বা রোদে থাকা উচিত হবে না। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই শীতের দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা সূর্যের আলোতে থাকতে পছন্দ করে।  কিন্তু সূর্যের রশ্মি আমাদের ত্বকের  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  দুর্বল করে এবং নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে।

শীতে ত্বক ভালো রাখতে ময়েশ্চারাইজ

ত্বক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করতে হবে। কেনার আগে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে এটা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর  কিনা অথবা কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা  তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

শীতকালে বাদামের তেল জাতীয় ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করা  ত্বকের জন্য ভালো। আর কখনোই  শুষ্ক অবস্থায় রাখা যাবে না। ত্বকের শুষ্ক ভাব  এলেই ময়েশ্চারাইজ  জাতীয় লোশন ব্যবহার করতে হবে।  এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা  করবে।

শীতে ত্বক রাখতে প্রাকৃতিক খাবার

আমাদের দেশে অনেক পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি হয়েছে যা আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।  ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি জাতীয় ফলমূল এবং শাকসবজি বেশি পরিমানে খেতে হবে।  এগুলো শরীর সুস্থ এবং ভালো রাখার পাশাপাশি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তাই ত্বক সুস্থ রাখার জন্য প্রাকৃতিক ফলমূল এবং শাকসবজি খেতে একদম অবহেলা করবেন না।

শীতে ত্বক সুস্থ গোসল

আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ এবং শরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অবশ্যই নিয়মিত গোসল করা প্রয়োজন। তবে  শীতকালে গোসল করা নিয়ে অনেকের মধ্যে অলসতা রয়েছে।  অনেকেই এক টানা কয়েক দিন গোসল করে না একদম  উচিত নয়।

এটা যেন একটা পরিচিত সমস্যা কিন্তু  অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে  অনেকেই গোসল করে এবং হাত মুখ ধৌত করে। অতিরিক্ত গরম পানি আমাদের মুখের স্কিনের ফলিকল গুলোর ক্ষতি করে  এবং আমাদের ত্বকের মসৃণতা সৌন্দর্য নষ্ট করার জন্য দায়ী। তাই অবশ্যই অতিরিক্ত পরিহার করতে হবে এবং সঠিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে।

শীতে ঠোঁটের যত্ন

ঠোঁট আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।  কিন্তু কষ্টকর হলেও সত্যি  শীতে আমাদের ঠোঁট  ফেটে যায়।  তাই ঠোঁটের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠোঁট ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আপনি মধুর সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন।  এতে  আপনার ঠোঁট রুক্ষ হওয়া এবং ফেটে যাওয়ার হাত থেকে  সহজেই রক্ষা পাবে।

শীতে চুলের যত্ন

চুল আমাদের  দেহের গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌখিন একটি জিনিস। শীতের দিনে কখনোই  চুল ভেজা রাখা যাবে না।  কারণ চুল ভেজা থাকলে  আদ্রতা এবং মসৃণতা নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়াও শীতের দিনে  অনেকেরই মাথায়  খুশকি হয়।  এক্ষেত্রে চুলে মাঝে মাঝে আমলকির তেল ব্যবহার করতে পারেন এবং পাশাপাশি ভিটামিন সিএবং মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এতে আপনার চুল ভালো থাকবে।

এসবের পাশাপাশি শীতকালে অবশ্যই অন্য  মৌসুমের তুলনায় একটু বেশি সচেতন থাকতে হবে। কুয়াশা এবং সত্য প্রবাহ চলাকালীন ঘরের বাহিরে বেশি সময় কাটানো একদমই ঠিক নয়।  তাছাড়াও সর্বদা সচেতন থাকতে হবে যাতে ঠান্ডা না লাগে।


কারণ শীতের মৌসুমে ঠান্ডা লাগলে আমাদের দেহে নানা রকম সংক্রমণের  ঝুঁকি থাকে।  তাই অবশ্যই শীতের মৌসুমে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিদিনের খাবার গুলো  গরম করে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এবং খাবার পানি হালকা গরম করে খাওয়া ভালো ।  তবে শীতকালে ঠান্ডা থাকার কারণে অতিরিক্ত চা-কফি পান করা একদমই উচিত নয়। এতে রাতে ঘুম কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এছাড়াও পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচতে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ করা উচিত।  তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করা একদম ঠিক নয়। তাছাড়াও শিশির এর পানি  মাথায় এবং শরীরে লাগানো উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *