ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

সকালে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তা

সকালে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত উপকারী এ কথা আমরা কমবেশি প্রায় সবাই জানি। কিন্তু আমরা বাঙালিরা সকালে ঘুম থেকে উঠতে একদমই অনিচ্ছুক। ফলে তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই ডেকে আনে।

আমাদের ভিতরে বেশিরভাগ লোকই রাতে দেরি করে ঘুমাতে যায় এবং সকালে অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠে। বর্তমানে তো বেশিরভাগ লোকই গভীর রাত পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তা
সকালে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তা


এতে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু আমরা কেউ স্বাস্থ্য সম্পর্কে একেবারেই সচেতন নয়। তবে বেশিরভাগ লোকই বলে থাকেন যে রাতে দেরি করে ঘুমানোর এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ফলে তাদের শরীরের কোন ক্ষতি হচ্ছে না।

কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো শরীরের কোন ক্ষতি শুরুতেই ধরা পড়ে না। এবং শরীরে কোনো ক্ষতি অল্পতেই হয় না। শরীর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসম্ভব প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে যখন ব্যর্থ হয় তখন ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে শরীর অনেক সতেজ থাকে এবং মন অনেক প্রফুল্ল থাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার ফলে কাজ করার জন্য সারাদিন অনেকটা টাইম পাওয়া যায়।

কিন্তু সকালে অনেকটা সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য দিনের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে শরীর অনেকটা সতেজ থাকে এতে যেকোনো কাজ করার জন্য শক্তি পাওয়া যায় এবং অলসতা এক ঘেয়েমি কাটিয়ে সহজে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠলে মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত ও চাপ মুক্ত থাকা যায়। ভেতর থেকে অনেক ফ্রেশ লাগে।

আরো পড়ুন…. ব্যায়াম করে দ্রুত বডি বানানোর উপায়

রাতে যাদের বিছানায় শুয়ে মধ্য রাত হয়ে যায় এবং সহজে ঘুম আসেনা। তারা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে রাতেও তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পারবে। কঠিন অবস্থায় একটু কষ্ট হলেও পরে এক সময় মানিয়ে নেওয়া যায়।  সহজেই মানুষ এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।

সকালে তাড়াতাড়ি উঠার ফলে দেহ ও মন অনেক স্বয়ংক্রিয় থাকে এর ফলে মানসিকভাবে অনেক ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটে। বিশ্বের বড় বড় কিছু গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা চালিয়ে ছিলেন। এর ফলাফল এসেছিল তারা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমায় এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে।

তারা রাতে দেরি করে ঘুমানোর এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা শিক্ষার্থীদের তুলনায় পরীক্ষায় অনেক ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। আমরা সবাই সুখে থাকতে চাই। তবে এই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সুখের চাবিকাঠি। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে সুখী হওয়া যায়।


বিশেষ করে যারা স্টুডেন্ট তাদের জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত জরুরী। কারণ সঠিক সময় ক্লাসে পৌঁছালে এবং হোমওয়ার্ক তৈরি করা সহ অনেক কাজ সঠিকভাবে করতে হয়।

যেগুলো দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে কখনোই করা সম্ভব নয়। কারণ ছাত্র জীবন গড়ে ওঠার সময়। এই সময়ে নিজেকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে না পারলে বাকিটা জীবন ব্যর্থতায় কেটে যাবে।

তাই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে চাইলে ছাত্রজীবন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ফলে বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছাতে দেরী হয়ে যায়।

আরো পড়ুন…. ফিটনেস থাকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস

যা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য খুবই বিপদজনক এবং মারাত্মক ক্ষতিকর নয়। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য বেশ অনেকটা সময় পায়।

তাছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিদের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা প্রয়োজন। বৃদ্ধ বয়সে শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে তাদের অবশ্যই উচিত হবে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা।

তবে সুস্থ থাকতে চাইলে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার বিকল্প কিছু হতেই পারে না।

সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠার ক্ষতি সমূহ

সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি দিক। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই সকালে বিছানায় শুয়ে বাঁচাতে পাঁচ মিনিট পরে উঠব। অথবা আর একটু ঘুমিয়ে নি একটু পরেই উঠব।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তা


এরকম ভাবতে ভাবতে কয়েক ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে অলসতায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কিন্তু এর ফলে যে কতটা ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো লক্ষ নেই। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

গবেষকরা যুক্ত রাষ্ট্রলাখেরও বেশি লোকের উপরে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। এর ফলাফলে দেখা গেছে যারা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যায় এবং তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তাদের তুলনায় যারা রাতে দেরি করে ঘুমায় এবং সকালে অনেক দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা ১০% বেশি রয়েছে।


রাতে দেরি করে ঘুমানোর এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার পরে শারীরিক ও মানসিক নানা রকমের জটিলতা সৃষ্টি হয়। পৃথিবীতে আমরা যতদিন বেঁচে থাকি আমাদের অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে।

কারণ অসুস্থতা কতটা কষ্টকর এবং বেদনাদায়ক সেটা একজন হসপিটালে থাকার অসুস্থ ব্যক্তিই ও ভালো করে জানে।সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তাই সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচার জন্য রাতে দেরি করে ঘুমানো এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার বাজে অভ্যাস আজ থেকেই ত্যাগ করতে হবে। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ক্ষতি সমূহ বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।


তবে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার এই বাজে অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে। যার ফলে ভবিষ্যতে আমাদের বড় হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।

সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা মানুষ গুলো বড় বড় মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। যদিও শুরুতেই বড় কোনো জটিল সমস্যা হয় না। তবে ঘুম থেকে দেরি করে ওঠার অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় সমস্যা সহজেই ডেকে আনে।

সুস্থ থাকার জন্য এখান থেকেই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে হবে এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে। আর যত দ্রুত সম্ভব রাতে দেরি করে ঘুমানো এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *