খাদ্যসুস্বাস্থ্য

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত বাদাম খান

শারীরিক পুষ্টি উপকারিতার দিক থেকে বিবেচনা করলে বাদামের বিকল্প কিছু হতে পারে না বললেই চলে। বাদামে রয়েছে নানারকম পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম সহ অনেক শক্তিশালী পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উপাদান।

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত বাদাম খান
সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত বাদাম খান


যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী এবং পুষ্টিকর। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খেলে শরীরে অনেক উন্নতি ঘটে এবং বিশেষ কিছু পরিবর্তন ঘটে। শরীরকে অনেক শক্তিশালী এবং চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করে। আমাদের সুস্থ এবং সবল থাকার জন্য অবশ্যই উচিত নিয়মিত বাদাম খাওয়া।


বাদাম হাড়ের উন্নতি ঘটায়

বাদামে থাকা ফসফরাস শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং এর প্রভাবে শরীরের উন্নতি এবং বৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে। তাই নিয়মিত বাদাম খেলে হাড়ে কোন রকম রোগ বা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। উল্টো বাদাম হাড়ের অনেক উন্নতি করে হাড় মজবুত এবং সুগঠিত করতে সাহায্য করে।

বাদাম ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি করে

বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে বাদামের পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। যাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল বা মস্তিষ্ক দুর্বল তাদের অবশ্যই নিয়মিত বাদাম খাওয়া প্রয়োজন।

বাদাম ক্যান্সার প্রতিরোধক

বাদাম ও বিভিন্ন রকম পুষ্টিকর উপাদান থাকার পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের রয়েছে যা ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধের জন্য বেশ কার্যকরী। এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য বাদাম অনেক উপকারী। তাই অবশ্যই উচিত প্রত্যেকের নিয়মিত বাদাম খাওয়া।

বাদাম পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে

বাদামে রয়েছে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান। তবে এই পুষ্টি উপাদানের জন্য শরীরের ওজন বেড়ে যায় না। যাদের শরীর দুর্বল তাদের জন্য বাদাম উপকারী। বিশেষ করে যাদের ওজন কম এবং শরীর শুকনো তাদের শরীরের উন্নতি ঘটানোর জন্য বাদাম খুব কার্যকরী।

বাদাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

বাদাম ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি প্রায় শরীরের সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। বাদামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নানা রকম রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

বাদাম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে নিয়মিত বাদাম খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হার্টের রোগী আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

তাছাড়াও হার্টের রোগীদের জন্য বাদাম খুব উপকারী। তাছাড়া আপনি ডায়েট করার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বাদাম রাখতে পারেন।

বাদাম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে

বাদামে ম্যাগনেসিয়াম এর উপস্থিতি থাকার কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীরে খনিজের ঘাটতি দেখা দিলে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সমস্যা শুরু হয়।

তাদের বাদাম শরীরের খনিজের ঘাটতি সহজেই পূরণ করে থাকে। তাছাড়া বাদাম কিডনি সমস্যার সমাধান। নিয়মিত বাদাম খাওয়ার ফলে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি দেখা দেয় না। ফলে আমরা বিভিন্ন রকম রোগের হাত থেকে রক্ষা পাই।

বাদাম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

বাদাম খাওয়ার ফলে পেটের খিদে অনেকটাই কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার রুচি কমে যায়। এবং ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা কমে আসে।

বাদাম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে

বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এর উপস্থিতি শরীরের রক্তে থাকা শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত বাদাম খেলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

বাদাম কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এর উপস্থিতি। আমাদের শরীরে কোষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং শরীরে কোনো রকম ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ার থেকে রক্ষা করে।


বাদাম হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

বাদাম খাবার হজম হতে সাহায্য করে এবং আমাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। হজম ক্ষমতা দুর্বল এবং গ্যাস এর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বাদাম খুবই উপকারী।

তবে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আপনি বাদাম খেতে খেতে পারেন। এটা বেশ উপকারী এবং কার্যকর। বাদাম ত্বক, চুল ভালো ও উজ্জল রাখে।

বাদামে নানা রকম পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে এটি ত্বকের জন্য খুব উপকারী। নিয়মিত বাদাম খেলে ত্বক মসৃণ ও লাবণ্যময় হয়। এছাড়াও সুন্দর ও ঝলমলে রাখতে সহায়তা করে।


একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভাল কাজ করে। এছাড়াও ত্বক এবং চুল সুস্থ এবং সৌন্দর্যময় রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও বাদামে রয়েছে নানা রকম পুষ্টি উপাদান যা আমাদের শরীরের নানা রকম পরিবর্তন ঘটানোর জন্য দায়ী। তাই আমাদের সুস্থ এবং সবল ও রোগ মুক্ত থাকার জন্য অবশ্যই নিয়মিত বাদাম খেতে হবে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি খাদ্য। তাই রোগ মুক্ত থাকার জন্য বাদাম এর অবদান অতুলনীয়।


ভাজা বাদাম এরচেয়ে কাচা বাদাম বেশি শক্তিশালী এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ আমরা কমবেশি প্রায় সবাই জানি। তাই কাচা বাদাম খেলে ভাজা বাদাম এর তুলনায় পরিমাণে কম খেতে হবে।

কারণ অতিরিক্ত বাদাম বদহজমের জন্য দায়ী। তবে কাচা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া শরীরের জন্য আরো বেশি উপকারী। তাছাড়াও যাদের হাড়ে ব্যথা এবং কোমরে ব্যথার সমস্যা রয়েছে।


তাদের জন্য বাদাম অত্যন্ত উপকারী কারণ বাজারের অনেক উন্নতি ঘটায়। এছাড়াও যাদের মাথায় অতিরিক্ত খুশকি সমস্যা রয়েছে এবং মাথার ত্বক একেবারে মসৃণ নয়।

তাদের খুশকির সমস্যা দূর এবং মাথার ত্বক সুন্দর করার জন্য বাদাম অনেক উপকারী। তাই শরীরের নানা রকম সমস্যা দূর করতে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *