ফিটনেসসুস্বাস্থ্য

সুস্থ থাকার জন্য লিভার ভালো রাখার উপায়

সুস্থ থাকার জন্য লিভার ভালো রাখার উপায়: লিভার আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। লিভার আমাদের শরীরের খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং আমাদের শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে সহায়তা করে। লিভারে সমস্যা থাকলে বা লিভার দুর্বল থাকলে পেটে সব সময় কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকবে এটাই স্বাভাবিক।বিশেষজ্ঞদের মতে লিভারের সমস্যা একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি রোগ। তাছাড়াও লিভারের সমস্যা শুরুতে ধরা পড়ে না।লিভারে সমস্যা হলে সেটা যখন বড় পর্যায়ে চলে যায় তখন বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে লিভারে সমস্যা একটি অত্যন্ত বড় ধরনের সমস্যা বলা চলে।

সুস্থ থাকার জন্য লিভার ভালো রাখার উপায়
সুস্থ থাকার জন্য লিভার ভালো রাখার উপায়

 

 

লিভার খারাপ হওয়ার লক্ষণ সমূহ

লিভার খারাপ হলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে আমরা অনেক সময় এসব লক্ষণ দেখার পরেও গুরুত্ব সহকারে বোঝার চেষ্টা করি না বরং এড়িয়ে যাই।

তাই লিভারে সমস্যা লক্ষণ গুলোর সম্মুখীন হলে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং ভালো চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

লিভারের সমস্যা হলে দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। মুখ এবং দাঁত সহ দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো থাকা সত্ত্বেও এরকম দুর্গন্ধ যুক্ত নিঃশ্বাসের সম্মুখীন হলে, এটি লিভার খারাপ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে হবে।

অকারণে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া টাও একটা লিভারের সমস্যা। লিভার সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে দেহে চর্বি জমে যাওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই লিভারে সমস্যা হলে শরীরে অকারণে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারে।

শরীরে এলার্জি বেড়ে যাওয়াটা একটি লিভারের সমস্যার অন্যতম কারণ। কারণ আমাদের খাবারে থাকা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পদার্থ সহজেই লিভার ধ্বংস করে ফেলে।

তবে আমাদের শরীরের লিভার খারাপ হয়ে গেল এবং ঠিকঠাক ভাবে কাজ করতে না পারলে খাদ্যে থাকা এলার্জি জাতীয় পদার্থ ধ্বংস করতে পারে না। এতে শরীরে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে লিভার সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকলে খাবার থাকা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পদার্থ গুলো সহজেই দূর করে ফেলে।

লিভার খারাপ হওয়ার কারণে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার বাধার সৃষ্টি হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। লিভারের সমস্যা হলে শারীরিক অবসাদ এবং মানসিক ভাবে অনেক প্রভাব পরে। কোন কাজ না করা সত্বেও অল্পতেই শরীরে ক্লান্তি চলে আসে এবং কোনো কারণ ছাড়াই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

এছাড়াও শারীরিক এবং মানসিক অনেকটা স্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে কাজ করার সময় লিভার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবং লিভার নিজে ঠান্ডা হওয়ার জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তাপ ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হতে পারে।

লিভারের খারাপ হলে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। লিভার খারাপ হওয়ার ফলে লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত টক্সিন আমাদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য সহজেই নষ্ট করে ফেলে। এর ফলে আমাদের চেহারায় ব্রণ হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও লিভার খারাপ হয়ে গেলে ত্বকে আরো নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লিভার সুস্থ স্বাভাবিক না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ত্বকে এই ধরনের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লিভার ভালো রাখতে যা করবেন

লিভার ভালো রাখার জন্য আপনাকে বেশি কিছু করতে হবেনা। তবে অবশ্যই সচেতন তো থাকতেই হবে। এবং আপনাকে কিছু নিয়মাবলী অবলম্বন করতে হবে।

লিভার ভালো রাখার জন্য লেবু

লিভার ভালো রাখার ক্ষেত্রে লেবু অত্যন্ত উপকারী। কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস দিয়ে খাওয়া লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাছাড়াও লেবু লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

লিভার ভালো রাখার জন্য রসুন

রসুনে থাকা সালফার উপাদান লিভার ভালো রাখতে এবং লিডার কে সঠিক ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তাছাড়াও সেলেনিয়াম এবং অ্যলিসিন রসুনে থাকার কারণে লিভার সুস্থ এবং পরিষ্কার থাকে। তাই লিভার ভালো রাখার জন্য অবশ্যই প্রতিদিন রসুন খেতে পারেন।

লিভার ভালো রাখার জন্য হলুদ

লিভার ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্য হল হলুদ। তাছাড়াও হলুদ একটি ভেষজ ঔষধ হিসেবে বিবেচিত। হলুদ লিভার পরিষ্কার ও ভালো রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে হলুদ যথেষ্ট কার্যকরী।

লিভার ভালো রাখতে সবুজ শাকসবজি

সবুজ শাকসবজি লিডার কে সক্রিয় এবং পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সবুজ শাকসবজি লিভার ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরের প্রায় সব ধরনের রোগ এর উপকার করে এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ঠ ভালো।

 

বাইরের খাবার খাওয়া একদম বন্ধ করুন

লিভার ভালো রাখতে চাইলে কখনোই বাইরের আজেবাজে খাবার খাবেন না। বাইরের ফাস্টফুড জাতীয় খাবার থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল সহ অন্যান্য নানা রকম ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।

তাছাড়াও বাইরের অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড জাতীয় খাবার লিভার খারাপ হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে দায়ী। কারণ তেলে ভাজা খাবার গুলো কখনোই লিভারের জন্য  ভালো হতে পারে না বরং অনেক ক্ষতিকর।

নেশাদ্রব্য এড়িয়ে চলুন

অধিকাংশ মানুষের লিভার খারাপ হওয়ার জন্য নেশাদ্রব্য বিশেষ ভাবে দায়ী। কারণ ধূমপান এবং মদ্যপান সহ সব ধরনের নেশাদ্রব্য পদার্থ লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। লিভার ছাড়া শরীরের অন্যান্য সমস্যা সহ ভয়ঙ্কর রোগ সৃষ্টি করার জন্য নেশাদ্রব্য দায়ী। তাই লিভার সুস্থ রাখার জন্য অবশ্যই বাজে নেশা এখন থেকে বাদ দিতে হবে।

এই নিয়মগুলো মেনে চলার পাশাপাশি অবশ্যই উচিত মাঝে মাঝে লিভার পরীক্ষা করা এবং হেপাটাইটিস বি পরীক্ষার করানো।

সমস্যা খুব বেশি হয়ে গেলে অবশ্যই অভিজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিজেদের তো অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.