খাদ্যসুস্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যবান থাকতে যে ফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ

সুস্বাস্থ্যবান থাকলে আমাদের অবশ্যই প্রাকৃতিক কিছু ফলমূল খেতে হবে। কারণ আমাদের দেশে এমন কিছু ফল রয়েছে যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই প্রতিদিন পরিমান মত ফল খেতে হবে। ফল আমাদের শরীরে অনেক পুষ্টির যোগান দেয়। পাশাপাশি আমাদের শরীরকে অনেক সুস্থ এবং ভালো রাখে।

স্বাস্থ্যবান থাকতে যে ফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ
 স্বাস্থ্যবান থাকতে যে ফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ

সুস্থ থাকার জন্য যে ফলগুলো খাওয়া উচিত

পেয়ারা: পেয়ারা খুবই সুস্বাদু একটি ফল এবং এটা খুব পুষ্টিসমৃদ্ধ। পেয়ারা শরীরের চিনির মাত্রা কমাতে পারে। এইজন্য ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী।


পেয়ারা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারন পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ যা ব্যাকটেরিয়াও সহায়তা করে। যাদের দৃষ্টি শক্তি দুর্বল তাদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী কারণ পেয়ারায় ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। এতে সহজেই রাতকানা রোগ হতে রক্ষা পাওয়া যায়। আর যাদের রাতকানা রয়েছে পেয়ারা তাদের জন্য অনেক উপকারী।


পেয়ারায় ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ক্ষমতায় থাকার জন্য ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে না কারণ সহজেই প্রতিরোধ করতে পারে। পেয়ারায় রয়েছে কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা তাই ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পেয়ারার ভূমিকা অপরিসীম।


পেয়ারায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ যা লেবুতে ও নেই। এছাড়াও পেয়ারায় রয়েছে ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ফলিক অ্যাসিড সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


এছাড়াও তাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের পেয়ারা খাওয়া উচিত কারণ এটা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পেয়ারা কোষ্ঠকানিষ্ঠ সারাতে সহায়তা করে। এছাড়াও পেয়ারায় ভিটামিন-সি থাকার কারণে সর্দি-কাশি-জ্বর এবং অন্যান্য রোগ সহজে সেরে যায়।


যারা অতিরিক্ত মেদ চর্বি এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত তারা নিয়মিত পেয়ারা খেতে পারেন কারন পেয়ারা ওজন কমাতে সহায়তা করে।


পেয়ারা চোখে ছানি পড়া সহজ চোখের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং হাড়ের সমস্যা ও হাঁটুর ব্যথা প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া পেয়ারা খেলে সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না এবং চেহারায় তরুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।


আরো পড়ুন….


কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

কলা খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে কলার চাষ হয়। বেশিরভাগ লোকেরই কলা খুবই পছন্দের একটি ফল। কলায় রয়েছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম যা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


পাকা কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা হৃদযন্ত্র কে ভালো রাখে। প্রতিদিন একটি বা দুটি করে কলা খেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এবং কলা হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখে।


পটাশিয়াম এমন একটি উপাদান যা কিডনিকে ভালো রাখে আর পাকা কলায় রয়েছে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম। নিয়মিত কলা খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।


কলা শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে কলায় শর্করা রয়েছে। এছাড়াও ব্যায়াম ও পরিশ্রম করার শক্তি যোগায়। কলায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খাবার হজম হতে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকানিষ্ঠর সমস্যা দূর করে।


কলা শরীরে হিমোগ্লোবিন নামক পদার্থ বৃদ্ধি করে এবং রক্তের শর্করা উৎপাদন করে। এছাড়াও কলায় ভিটামিন বি৬ উচ্চমাত্রায় রয়েছে। কলা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই সহায়ক এবং রক্তের শ্বেতকনিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে না।

আরো পড়ুন….


কলা মানসিক দুশ্চিন্তা কমায় নিয়মিত কলা খেলে ভেতর থেকে অনেকটা সতেজ লাগে। কলা খেলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয় এবং লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। কলা ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে। এবং কলার খোসায় এক ধরনের ফ্যাট জাতীয় উপাদান থাকে যা রূপচর্চার জন্য ব্যবহার করা হয়। এবং এতে চেহারা এবং ত্বক ভালো থাকে।


কলা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পাশাপাশি যাদের অতিরিক্ত ওজন ও মেদ এর সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কলা খুবই উপকারী কলা ওজন কমাতে সাহায্য করে।


আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমি একটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টি মানসম্মত ফল। কমবেশি করে সবার আমি খুবই পছন্দের একটি ফল। পাকা আমের রয়েছে কিছু অসাধারণ উপকারিতা। পাকা আম ত্বক উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় করে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।


তাছাড়া আমে রয়েছে প্রচুর খনিজ উপাদান যা দাঁত নখ চুল ভাল ও সুন্দর এবং মজবুত রাখতে সহায়তা করে। পাকা আম চেহারার কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে এবং শরীরের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখে।


যাদের হজম শক্তি দুর্বল তারা নিয়মিত আম খেতে পারেন। কারন আমে মিনারেল ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় পদার্থ এজন্য আম হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 


আম শরীরকে সুস্থ সবল রাখে ও ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখে। কারণ আমে রয়েছে কেরাটিনোইডস সহ ২৫ রকমের উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে।


আম দ্রুত ঘুম আসতে সহায়তা করে ও স্নায়ুতন্ত্র গুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করে সচল রাখে। কারণ আমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।


আম হার্টের সমস্যা দূর করে এবং হার্ট সুস্থ সবল ও সচল রাখে। পাকা আম আমাদের হার্ট বিট কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্ত স্বল্পতা সঠিক পরিমাণে রাখে। রক্ত পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখে।


পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন ‘সি’ এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে যা হাড় ও দাঁত ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়াও কাঁচা আম খেতে খুবই সুস্বাদু এবং মজাদার তাই কাঁচা আম খাওয়ার সময় বলতেই হয় (ঠিক যেন কাঁচা আমের স্বাদ)


আম স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও আরো অনেক কঠিন কঠিন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত ভূমিকা রাখে। তাছাড়াও আমে রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *