দিবস

15 ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, জাতীয় শোক দিবস 2021

15 ই আগস্ট শোকের আগস্ট এই দিনে আমাদের সবার প্রিয় বাঙালি জাতির অহংকার অনুপ্রেরণার মহান মানুষকে দেশদ্রোহী বেইমান পাকবাহিনীরা নির্মমভাবে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেন। প্রতি বছরের 15 ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর এর মৃত্যু বার্ষিকীতে জাতীয় রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করে। জাতীয় রাষ্ট্রীয় হিসেবে দিবসে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণে স্মরণীয় করে রাখতে ধুমধাম করে পালন করা হয় এই দিনটি । এই দিনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা উত্তোলন করা হয় এবং কালো পতাকা নির্মিত করা হয়। হাজার 1975 সালের 15 ই আগস্ট ঘন কালো আঁধারে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের গর্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবারকে হত্যা করেছিলেন।

আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার নিজ বাসা ধানমন্ডির 32 নম্বর বাড়ি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলে মর্মান্তিক ভাবে তাদের মেরে ফেলে। সেদিন শেখ মুজিব ছাড়া পাষণ্ড ঘাতকদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব , স্ত্রী, ছেলে ও তাদের আত্মীয় স্বজনসহ 16 জন মানুষ ‌।
তাদের এই আত্ম বলিদান এর জন্য প্রতি বছরের মতো আজকেও তাদের ভাব-গাম্ভীর্যে ও মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন এবং তাদের শাহাদাত বার্ষিকী পালন করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান নানারকম কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতির জনকের দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তৈরি করে সেগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। আজকে এই মহান শোক দিবস বিভিন্ন জায়গায় সম্মান উদযাপন করছে। শোক দিবস উপলক্ষে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের এর মৃত্যুতে সারাবিশ্বে ঘন কালো চোখে ছায়া চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছিল। পশ্চিম জার্মানি নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্রান্ডি বলেছিলেন মুজিবকে হত্যার পর বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের আর বিশ্বাস করা যায় না তারা যেকোন জঘন্য কাজ নির্দ্বিধায় করতে পারে। হত্যাকারীর প্রতি বাঙালিরা জানিয়েছিল চরম ঘৃণা ও অভিশাপ। 15 ই আগস্ট ভোরবেলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বাংলাদেশের প্রশাসনের সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান করবে। শেখ মুজিবের আত্মার মাগফেরাত এর কামনার জন্য বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হবে। সকাল সাতটায় বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মুজিব কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য সম্মানীয় ব্যক্তি বর্গ গন।
প্রতিবছরের শোক দিবস পালন করার জন্য টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যায় বঙ্গবন্ধুকন্যা কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি, তবে তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পিতার কবরে পুষ্প শ্রদ্ধা অর্পণ করবেন। আওয়ামী লীগের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য শ্রদ্ধা জানাবেন শেখ মুজিবর রহমানের কবরে। জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগের মোবাইল গ্রাহক খুদে বার্তা প্রেরণ করে জানাচ্ছে এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমী বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হলেও করোনার কারণে তা সম্ভব না হলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযোগ্য মর্যাদার শহীদ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ স্থানে আলোচনা সভা হবে এবং জেলা-উপজেলায় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত এর সহিত অংশগ্রহণ করে আলোচনা সভা পালন করবে। আলোচনা সভায় সরকারি সকল কর্মকর্তা অংশগ্রহণ নিবেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও শোক দিবস উপলক্ষে সকল আওয়ামী লীগের সদস্য, সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক এর সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।
সেই মর্মান্তিক রাতে পুত্র শেখকামাল ও পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজী কামাল 5 বছরের শিশু পুত্র শেখ রাসেল স্ত্রী ভগ্নিপতি আব্দুর রব, ভাই আবু নাসির ,ভাগ্নে ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি সেদিন রাতে বঙ্গবন্ধুর সাথে নিহত হন এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ছুটে আসেন কর্নেল জামিল উদ্দিন তিনিও তিনিও সেই রাতে ঘাতকদের হাতে মৃত্যুবরণ করেন ভাগ্যক্রমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওতার বোন শেখ রেহানা দেশের বাহিরে ছিলেন তাই উনারা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তাই এই মর্মান্তিক সময়কে ও শেখ মুজিব ও তার পরিবারকে সম্মানের জন্য 15 আগস্ট শোক দিবস পালন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.