খেলাধুলা

[ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জানুন কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সম্পর্কে! ]

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-আসসালামু আলাইকুম ভিজিটর রা আজকে আমরা ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আলোচনা করব।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন,ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্সের ভক্তরা অধীর প্রতীক্ষায় গুনে প্রতিটি প্রহর।কেমন খেলবে তাদের প্রিয় দল, চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কিনা- এরকম হাজারো রকমের আগ্রহ উদ্দিপনা। সেই উদ্দিপনা শতভাগ উপভোগ করার জন্যে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ‘ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ’ নিয়ে এই পোস্ট।

ফুটবলার এবং ফুটবলপ্রেমী সবার কাছেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি অন্যান্য ট্রফির তুলনায় একটি ভিন্ন মাত্রার নান্দনিক শিল্প। ফুটবলের সর্বসেরা এই ট্রফির সমৃদ্ধ রূপকথা আর পৌরাণিকতা ক্রীড়াবিদদের অতিমানবীয় কীর্তির ক্ষেত্রে সর্বদা অনুপ্রাণিত করে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটক বর্ণমালা সিম কেনার নিয়ম – টেলিটক বর্ণমালা সিম পাবো কিভাবে?

                     ই-পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করার নিয়ম ২০২২। ই পাসপোর্ট ভুল সংশোধন

ফিফা বিশ্বকাপ

প্রতিষ্ঠিত: ১৯৩০; ৯২ বছর আগে

অঞ্চল: আন্তর্জাতিক (ফিফা)

দলের সংখ্যা: ৩২ (চূড়ান্ত পর্ব)

সম্পর্কিত প্রতিযোগিতা: ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন: ফ্রান্স (২য় শিরোপা)

সবচেয়ে সফল দল: ব্রাজিল (৫ম শিরোপা)

১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পরেই, ১৯০৬ সালে ফিফা সুইজারল্যান্ডে অলিম্পিকের আদল থেকে ভিন্ন একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বয়স তখনো অনেক কম এবং হয়ত একারণেই ফিফার ইতিহাসে এই প্রতিযোগিতাকে ব্যর্থ আখ্যা দেয়া হয়েছে।

প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় যাতে অংশ নেয় ফ্রান্স ও মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। ফ্রান্স ৪-১ এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে এতে জয়ী হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে ৯৩,০০০ দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব লাভ করে।

বর্তমানে ৩২টি জাতীয় দল একমাসব্যাপী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতা দু’ধাপে বিভক্ত –

★ গ্রুপ পর্যায় এবং

★নক-আউট পর্যায়।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২

গ্রুপ পর্যায়ে দলগুলোকে প্রতি দলে চারটি করে আটটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। বিশ্বকাপের মূলপর্বের ছয়মাস আগে কোন গ্রুপে কে থাকবে তা নির্ধারন করা হয়।

৯২ বছর আগে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। এবার ২২তম বিশ্বকাপের আসর বসছে কাতারে। বর্তমান যে বিশ্বকাপ ট্রফি তা ১৯৭৪ সালে প্রথম উন্মোচিত হয়। ফাইনালের বিজয়ীদের হাতে এই ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসর পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র ১৬৯ দিন। তবে এরই মধ্যে বেজে উঠেছে বিশ্বকাপের ডামাডোল। গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ কাতারের পাঁচ শহরের আট মাঠে চলবে ২১ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

৯২ বছর আগে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। এবার ২২তম বিশ্বকাপের আসর বসছে কাতারে। বর্তমান যে বিশ্বকাপ ট্রফি তা ১৯৭৪ সালে প্রথম উন্মোচিত হয়। ফাইনালের বিজয়ীদের হাতে এই ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে একমাত্র জার্মানি তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে। তার মধ্যে দুবার পশ্চিম জার্মানি হিসাবে ও একবার অবিভক্ত জার্মানি হিসাবে। এছাড়া কোনও দল গত চার দশকে তিনবার কাপ জেতেনি।

ট্রফি সম্পর্কে

বর্তমান ট্রফিটি ১৮ ক্যারাট সোনা দিয়ে তৈরি যার বেসটি মেলচাইটের। ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার ও ওজন ৬.১ কিলোগ্রাম। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার এবং এর নিচে রয়েছে ম্যালাকাইটের দুটি প্রলেপ। সব মিলিয়ে যদি এর মূল্য নির্ধারণ করা হয় তাহলে এই ট্রফিটির বর্তমান মূল্য হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা।

সুদৃশ্য ট্রফিটি ডিজাইন করেছে ইটালির স্তাবিলিমেন্তো আর্টিস্টিকো বেনতোনি কোম্পানি। এতে দুজন মানব হাতে পৃথিবীকে ধরে উপরে তুলে ধরেছেন। ট্রফির একেবারে নিচে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালির নাম লেখা রয়েছে। এরা দুবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। এছাড়াও স্পেন ও ফ্রান্সের নামও রয়েছে।

ফিফা সম্পর্কে

ফিফা বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা যেখানে ফিফার সহযোগী দেশগুলোর পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল অংশ নেয়। ফিফা বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ফরাসি : FIFA বা Fédération Internationale de Football Association এবং ইংরেজিতে FIFA World Cup

এটি ফুটবল বিশ্বকাপ , সকার বিশ্বকাপ , অথবা শুধু বিশ্বকাপ নামেও পরিচিত। ১৯৩০ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঝে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রতিযোগিতাটি দুটি ভাগে বিভক্ত, বাছাই পর্ব ও চুড়ান্ত পর্ব ( মূল বিশ্বকাপ )। চুড়ান্ত পর্যায়ে কোন দল খেলবে তা নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহনকারী দলগুলোকে বাছাই পর্বে অংশ নিতে হয়। বর্তমানে মূল বিশ্বকাপের আগের তিন বছর ধরে প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতার বর্তমান ধরন অনুযায়ী ৩২টি জাতীয় দল চুড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। আয়োজক দেশে প্রায় একমাস ধরে এই চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা চলে। দর্শক সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বকাপ মূল পর্ব বিশ্বের বৃহত্তম অনুষ্ঠান। ফিফার হিসেব অনুযায়ী ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখেছেন প্রায় ৭১৫.১ মিলিয়ন দর্শক।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি আসরে কেবল ৮টি জাতীয় দল বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। ৫ বার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল হচ্ছে বিশ্বকাপের সফলতম দল। বর্তমান শিরোপাধারী জার্মানি ও ইতালি ৪টি শিরোপা নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যান্যদের মধ্যে উরুগুয়ে (প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী ) ও আর্জেন্টিনা দু’বার করে এবং ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাজিলে , ২০১৪ সালের ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। এই বিশ্বকাপে জার্মানি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নিয়েছে।

বিশ্বকাপের ট্রফি

১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিজয়ী দলকে জুলে রিমে ট্রফি প্রদান করা হত। জনসাধারণের কাছে

এটি শুধু বিশ্বকাপ নামেই বেশি পরিচিত ছিল, তবে ১৯৪৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনকারী ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে র নামে এটির নামকরণ করা হয়। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয় বারের মত বিশ্বকাপ জিতলে তাদেরকে স্থায়ীভাবে ট্রফিটি দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায় এবং পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় চোর ট্রফিটিকে গলিয়ে ফেলেছে। ১৯৭০ সালের পর আরেকটি নতুন ট্রফির যা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নামে পরিচিত, নকশা প্রণয়ন করা হয়। সাতটি মহাদেশ থেকে আগত বিশেষজ্ঞগণ ফিফাকে ৫৩টি মডেল প্রদর্শন করেন। শেষপর্যন্ত ইতালিয় নকশাকার সিলভিও গাজ্জানিগা র (Silvio Gazzaniga ) তৈরীকৃত নমুনা বিশ্বকাপ ট্রফি হিসেবে গৃহীত হয়। এ নতুন ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার, ১৮-ক্যারট সোনা দিয়ে তৈরি ও ওজন ৬,১৭৫ গ্রাম। এর ভিত্তি দু’স্তরের মূল্যবান ম্যালাকাইট দিয়ে তৈরী। ভিত্তির নিচের দিকে ১৯৭৪ থেকে আজ পর্যন্ত সকল বিশ্বকাপজয়ীর নাম গ্রথিত করা আছে।

ব্রাজিলকে জুলে রিমে কাপ আজীবনের জন্য দিয়ে দেওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ফিফাকে একটি নতুন ট্রফি নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ১৯৭১ সালে সাত দেশের ভাস্করদের থেকে মোট ৫৩ টি ডিজাইন উত্থাপন করা হয়েছিল। সিল্ভিও গাজ্জানিগা যিনি কিনা এই বিশ্বকাপ ট্রফির কারিগর নিজেই ২ টি ডিজাইন জমা করেছিলেন। তবে তার প্রথম ডিজাইনটিই গৃহীত হয়।

তো আজকে এই পর্যন্ত দেখা হবে নতুন কোন টপিক নিয়ে সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আমাদের ওয়েবসাইটটির সঙ্গেই থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.