ফোন রিভিউ

শাওমি ও রেডমি ফোনের মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন

সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা অনেক বন্ধুরাই শাওমি ও রেডমি ফোনগুলোকে একই রকম মনে করে থাকেন। আসলেই শুনতে একই রকম মনে হলেও শাওমি ব্র্যান্ডের ফোন ও রেডমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর মধ্যে কিন্ত যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাই বন্ধুরা আমাদের আজকের এই পোস্টে আমরা শাওমি ও রেডমি ফোনের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জানবো।

আরো পড়ুন: সবচেয়ে বড় ব্যাটারির স্মার্টফোন এলো বাজারে

সবচেয়ে বড় ব্যাটারির স্মার্টফোন এলো বাজারে

ব্র্যান্ড ও সাবব্র্যান্ড

বন্ধুরা শাওমি একটি চীনের মোবাইল কোম্পানি, সেটা কমবেশি আপনারা সকলে জানেন। ২০১০ সালে সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি বর্তমানে অ্যাপল, স্যামসাং এর মত কোম্পানির সাথে ও প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। বন্ধুরা শুরুটা কাস্টম অ্যান্ড্রয়েড রম তৈরির মাধ্যমে হলেও শাওমি বা এমআই (Mi) বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেক্ট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারারগুলোর মধ্যে একটি।

বন্ধুরা অন্যদিকে রেডমি কিন্তু স্বাধীন কোনো ব্র্যান্ড নয়, বরং এটি শাওমি’র একটি সাবব্র্যান্ড মাত্র। ২০১৩সালে রেডমি’র প্রথম ফোনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এই সাব-ব্র্যান্ডটি। শাওমি ও রেডমি, উভয় কোম্পানি অনেক ধরনের ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্ট তৈরী করে থাকে।

স্মার্টফোন সিরিজ

পাঠক বন্ধুরা এমআই বা শাওমি স্মার্টফোনগুলোর সাথে রেডমি এর মূল পার্থক্য তাদের স্মার্টফোন সিরিজে। স্যামসাং ফোনের ক্ষেত্রে যেমনঃ “S” সিরিজ ও “A” সিরিজের মত আলাদা লাইন-আপের ফোন রয়েছে তেমনি শাওমি (পূর্বে Mi) ও রেডমি নামে এই দুইটি ব্র্যান্ড এর ফোনগুলো আলাদা করা হয়েছে। রেডমি’র পাশাপাশি পোকো ফোন এর মত আলাদা ব্র্যান্ডের সাথেও তাদের ফোন এর ফিচার শেয়ার করে শাওমি। অর্থাৎ রেডমি ফোন হলো শাওমি ফোন এর একটি সিস্টার কোম্পানি মাত্র, যেখানে শাওমি এর স্মার্টফোন তৈরীর ক্যাটালগ বেশ বিশাল।

দাম

বন্ধুরা রেডমি ও শাওমি মোবাইল ফোনের পার্থক্যের তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এদের মুল্য। রেডমি এর ফোনগুলো মূলত কম দামে সেরা ফিচার প্রদানের চেষ্টা করে। অন্যদিকে শাওমি বা এমআই ফোনগুলো সাধারণত প্রিমিয়াম সেগমেন্টের হয়ে থাকে। শাওমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলো আইফোন, স্যামসাং মোবাইল ও ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে। অর্থাৎ শাওমি ফ্ল্যাগশিপ ফোন তৈরী করে আর রেডমি বাজেট ফোন। তবে বন্ধুরা অনেক সময় শাওমি ব্র্যান্ডের অনেক ফোন রেডমি ব্র্যান্ড এর আদলে বাজারে আসতে দেখা যায়।

অন্যদিকে দেখা যায় রেডমি মূলত বাজেট অরিয়েন্টেড ডিভাইস হওয়ার কারণে এগুলোর দাম কম হয়ে থাকে। আমাদের দেশের রেডমি বা শাওমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর দাম বেশি হওয়ার কারণে এগুলো তেমন একটা বিক্রি হয়না। অন্যদিকে রেডমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলো বাজেট ফোন হওয়ার কারণে এই ফোনগুলো দেশের বাজারে খুবই বেশি বিক্রি হয়। হিসাব করলে হয়ত দেখা যাবে রেডমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলো আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

সফটওয়্যার

পাঠক বন্ধুরা শাওমি ও রেডমি এর ফোনগুলো একই মিইউআই অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা চললেও কিন্তু উভয় ফোনের সফটওয়্যার এর ফিচারে অনেক ব্যবধান দেখা যায়। ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস হওয়ার দরুণ শাওমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোতে অসাধারণ সব সফটওয়্যার ফিচার দেখা যায়। অন্যদিকে রেডমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলো বাজেট ফোন হওয়ার কারণে এগুলোর সফটওয়্যার ফিচার তুলনামূলক ভাবে বেসিক। আর প্রসেসরের পার্থক্যের কারণে ফোনগুলোর পারফরম্যান্স এর দিক দিয়ে অবশ্যই শাওমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোই এগিয়ে থাকবে।

ফিল

বন্ধুরা রেডমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলো ও শাওমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলোর মধ্যে হ্যান্ড ফিলেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। শাওমি ফোনগুলো যেখানে বেশ প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তৈরী, রেডমি ব্র্যান্ডের ফোনগুলো তেমনটা নয়। অধিকাংশ রেডমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলো প্লাস্টিকের তৈরী, যেখানে শাওমি ব্র্যান্ডেড ফোনগুলোতে গ্লাসের পাশাপাশি লেদার ও অন্যান্য প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার হয়। এছাড়াও শাওমি ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে কোনো না কোনো মাথানষ্ট ফিচার থাকবেই যা একে বাজারের অন্য সব ফোন গুলো থেকে আলাদা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.