ফিটনেস

থাইয়ের চর্বি হোক বা পেটের মেদ কমাতে ৬টি যোগাসন করবে সাহায্য

পেটের মেদ কমাতে ৬টি যোগাসন: সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজকালকার দিনে চর্বি বা মেদ নিয়ে কমবেশি আমরা নাজেহাল সবাই। বন্ধুরা খাওয়া দাওয়ায় রেস্ট্রিকশন থেকে শুরু করে নানা রকমের ডায়েটের মাঝে ফেঁসে গেছি। কিন্তু এসবের সমাধান রয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা যোগাসনের হাতে নিজেকে সমর্পিত করে রোজ। নিয়মিত ৩০মিনিট করে যোগাসন করলে একমাসের মধ্যে রেজাল্ট পেতে আপনারা বাধ্য।

পেটের মেদ কমাতে ৬টি যোগাসন

পাঠক বন্ধুরা রোজ নিজেকে সময় দিতে হবে মাত্র ত্রিশ মিনিট। সকাল বা বিকেল যখন আপনাদের সুবিধা হয় তখনে করবেন ৬টি যোগাসন। আর একমাসের মধ্যে শরীরের অতিরিক্ত চর্বিকে বলে দিন টাটা বাইবাই।

মালাসন:

বন্ধুরা প্রাথমিক পর্যায়ের এই যোগসনটি ঠিক ভাবে অনুশীলন করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই যোগাসনের অর্থ উবু হয়ে বসা।

পদ্ধতি:

  • বন্ধুরা প্রথমে আপনাদের উবু হয়ে বসে তারপর পায়ের পাতা দুটি একে অপরের থেকে একটু দূরত্বে নিয়ে এসে ফাঁক রাখতে হবে।
  • হাত দুটো সামনের দিকে প্রসারিত করে অঞ্জলি মুদ্রা গঠন করতে হবে ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে নিয়ে আসতে হবে।
  • এভাবে কিছুক্ষন বসে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে হবে। এইভাবে কয়েকবার করতে হবে।

উপকারিতা:

মালাসনের আসনের ফলে পায়ের নিচের অংশে রক্তচলাচল খুব ভালো হয়।

  • আপনাদের হিপ ও থাই অংশ প্রশস্ত ও সঠিক আকার বৃদ্ধি পায়।
  • গোড়ালির হাড়কে মজবুত করে তোলে।
  • মেটাবলিক রেট ত্বরান্বিত হয় ও পায়ের হ্যামস্ট্রিং এর চোট সেরে যায়।

উস্ট্রাসন:

উস্ট্রাসন যোগাসন করার সময় দেহের পশ্চাৎ অনেকটা উটের মতো দেখতে হয়।

পদ্ধতি:

  • প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসে শরীরকে সোজা রাখতে হবে।
  • তারপর পেছনদিক থেকে হাত দুটোকে নিয়ে এসে সামনের গোড়ালি স্পর্শ করতে হবে।
  • এরপর মেরুদন্ড সোজা রেখে মাথাকে উলটো দিকে ঝুঁকিয়ে নিতে হবে।
  • তারপর পেট ও বুক যথাসম্ভব সামনের দিকে প্রসারিত করতে হবে।
  • এই অবস্থায় কিছু সেকেন্ড নিজেকে রেখে ঘুরে আবার অনুশীলন করতে হবে।

উপকারিতা:

  • কোমরে বাত, চর্বি, কোলেস্টেরল, লো ব্লাড প্রেসার এর সমস্যা এক নিমেষে দূর করতে সাহায্য করবে।
  • হাঁপানি বা ব্রঙ্কাইটিসকেও নিজের কন্ট্রলে আনতে সাহায্য করবে।

নটরাজাসন:

পাঠক বন্ধুরা যদি বলা হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবাদি দেব মহাদেব এর তান্ডব সময়ের নৃত্য ভঙ্গিমারত একটি আসন হলো এটি। তাই নটরাজ এর নামে নামাঙ্কিত করা হয় নটরাজাসন যোগাসন।

পদ্ধতি:

  • প্রথমে মাটির ওপর সোজা ভাবে দাঁড়িয়ে ডান পা হাঁটুর কাছে ভাঁজ করতে হবে।
  • এরপর বাম পাশে প্রসারিত করে সামনের দিকে তুলে ধরতে হবে।
  • দুটো পায়ের মধ্যে পরিমিত গ্যাপ রাখতে হবে।
  • ডান হাতের কনুই অব্দি ভাঁজ করে বরাভয় মুদ্রার মতো করে সামনের দিকে এগিয়ে আনতে হবে।
  • এরপর বাম হাত ভাঁজ করে আঙ্গুল গুলি টানটান রেখে মাটির অভিমুখে রাখতে হবে।
  • দৃষ্টি হবে সোজা সামনের দিকে। এই অবস্থায় কিছুক্ষন থেকে মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো।
  • তারপর পা পরিবর্তন করে বিপরীতক্রমে আসনটি অনুশীলন করতে হবে।

উপকারিতা:

  • পেলভিক অঞ্চলের মধ্যে প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে।
  • এনার্জি ব্লক খুলতে সাহায্য করে।
  • শরীরের ভারসাম্য ও মাংসপেশি টোন করতে অনেক উপকারী।

নভাসন:

বন্ধুরা নভাসন যোগাসনটি করার সময় বডির আকৃতি হয় অনেকটা ইংরেজি V অক্ষরের মতো হয়। সকালে খালি পেটে অভ্যাস করা উচিত।

পদ্ধতি:

  • প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। তারপর মাথা সোজা রেখে নিজের পা দুটোকে জড়ো করে আনতে হবে।
  • হাত দুটোকে শরীরের দুপাশে আনত করে তা উপরের দিকে ৪৫° কোণে উপরের দিকে তুলতে হবে।
  • নিতম্বের উপর ভর দিয়ে পা দুটি উল্লম্ব অবস্থানে এনে এবং মাথা ও পিঠ ভূতল থেকে সাধ্যমত তুলতে হবে।
  • এইরকম অবস্থায় কয়েক সেকেন্ড থাকতে হবে। তারপর শবাসনে বিশ্রাম নিয়ে ঘুরে আবার করতে হবে।

উপকারিতা:

  • পেটের চর্বি একদম কমে যাবে।
  • যকৃৎ, হার্ট, কিডনির কার্যকারিতা বাড়াতে এর জুড়ি নেই।

কোণাসন:

কোণাসন যোগাসন একটি নির্দিষ্ট কোন তৈরি করে এই আসন অভ্যাস করতে হয় বলে একে কোনাসন বলে। প্রসবের পর এই আসন করতে পারলে খুবই লাভ হয়। সাথে যদি সুপ্ত কোনাসন ও করা যায়।

পদ্ধতি:

  • সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের মাঝখানে ফাঁকা করে দাঁড়াতে হবে।
  • ডান হাত কানের পাশে রেখে এবং বামহাত ভূমির সাথে সোজা কোনে রেখে শরীরকে ডান দিকে যথাসম্ভব বাঁকাতে হবে।
  • এইভাবে আবার উল্টো দিকেও করতে হবে। শ্বাস থাকুক স্বাভাবিক।

উপকারিতা:

  • সমগ্র শরীরে স্ট্রেচিং হয়ে যায়।
  • শরীরে রক্তচলাচল ঠিক থাকে।
  • কোমরের খিঁচ বা টান সরিয়ে তোলে আর বুকের রিব শক্তিশালী করে।

আনন্দ বলাসন:

এটিকে হ্যাপি বেবি পোজও বলা হয়ে থাকে।

পদ্ধতি:

  • চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটোকে হাঁটু অব্দি ভেঙে ভি এর আকৃতি দান করতে হবে।
  • এবার শরীরের দুপাশে হাত দুটি প্রসারিত করে হাঁটুর মাঝখান দিয়ে দুটি পায়ের পাতা তালুবদ্ধ করতে হবে।
  • ঘাড় ও মাথা আনুভূমিক রেখে সরলরেখায় অবস্থান করবে। টর্সকে পুশ করতে হবে। এই অবস্থানে কিছুক্ষণ থাকতে হবে।
  • অনেক ভারী আসন করার পর রিলাক্স করার জন্য এটি উত্তম।

উপকারিতা:

  • উরু, জাং ইত্যাদির কার্যক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে এই আসন।
  • মাসলের নমনীয়তা বাড়ায়।
  • মেয়েদের জরায়ু, ডিম্বাশয় এর সঠিক খেয়াল রাখতে এবং ঋতুস্রাব জনিত অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.